বন্যার কারণে সারাদেশে চরম দুর্ভোগ: উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অবস্থা
সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ ১১টি জেলা বন্যার কবলে রয়েছে। পানি কমছে কিছু এলাকায়, তবে কিছু স্থানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। নিচে বন্যার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
সশস্ত্র বাহিনীর ত্রাণ কার্যক্রম
গত ২৪ ঘণ্টায় সশস্ত্র বাহিনী বন্যার্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা সেবা ও ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। ৭ হাজার ৩৪৫ জন বন্যাদুর্গতকে হেলিকপ্টার ও বোট দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। ২৬ হাজার ৮২৫ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী, ২ লাখ ৭৯ হাজার কেজি শুকনা রশদ এবং ৩ হাজার ৪৭০ জনকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে ৭টি অস্থায়ী মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৫৭ জনকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকার ত্রাণ বিতরণ
ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশ এবং বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে। পুলিশের মেডিকেল টিম এবং নৌপুলিশও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা
বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকায় প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা আশ্রয়কেন্দ্র ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধপত্র এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা এক দিনের বেতন দান করার মাধ্যমে বন্যার্তদের সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অবস্থান ও পুনরুদ্ধার
ফেনী ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি
ফেনী শহর, পরশুরাম, ফুলগাজী এবং ছাগলনাইয়া এলাকায় পানি কমছে, তবে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞায় পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী এবং রাউজানের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, কিন্তু কাঁচাঘরের ক্ষতি এবং সড়ক ক্ষতির কারণে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লার অবস্থা
কক্সবাজারে নদীর পানি কমছে, কিন্তু খাদ্য ও পানীয়জলের সংকট অব্যাহত রয়েছে। খাগড়াছড়িতে বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হলেও খাদ্যসংকট এবং যোগাযোগের অভাব রয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট এবং মনোহরগঞ্জে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে এবং ত্রাণ বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মৌলভীবাজারের অবস্থা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কিছু গ্রামে পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমছে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে হবিগঞ্জে কুশিয়ারা ও কালনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগের সমস্যা
বন্যার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল শুরু হলেও গতি ছিল স্লো। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল এখনও শুরু হয়নি। রেললাইন ডুবে থাকায় ট্রেন চলাচলের শুরু কবে হবে, তা নিশ্চিত নয়।
অপরিহার্য তথ্য
বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জনগণ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















