ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প উপজেলা পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা, সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করে হাসপাতালে স্ত্রী সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান ৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন বাচ্চাসহ কারাগারে পাঠানো সেই মহিলা লীগ নেত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ডিজিটাল প্রতারণা, নারীসহ দুই সদস্য গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহে ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের নারী সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা বুধবার রাতে আলাদা আলাদা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এ খবর জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. ইয়াহিয়া মুন্সির ছেলে মো. তবিবর রহমান (৩০) ও ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. সবুজ মিয়ার স্ত্রী সামাপ্তি খাতুন (২৩)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে আবাবা অ্যাপসসহ দুইটি মোবাইল ফোন।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার কালীগঞ্জ শৈলকূপা ও সদর উপজেলা এলাকায় রিং আইডি, এলটি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন নামে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মর্মে জানতে পারেন। এরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, জালিয়াত চক্রে সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। সেই সূত্রে স্থানীয় বর্ষা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে বুধবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথমে তবিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে চক্রের নারী সদস্য সামাপ্তি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়- কম্বোডিয়া প্রবাসী সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. ওহাবের ছেলে মো. সবুজ মিয়া, মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহান, মোরারিদহ গ্রামের শোভন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান। এরা অনলাইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে প্রবাসে বসে বেআইনি ভাবে ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছে। গ্রেফতার দুইজন অত্র এলাকায় তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, চক্রটি ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। চক্রের প্রবাসী সদস্যরা কম্বোডিয়ায় বসে অনলাইনে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ৩০০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এসপি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আর্থিক বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের প্রধান এই কর্মকর্তা। জনগণকে এখনই সর্তক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আনোয়ার সাইদ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ পদস্থরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

ডিজিটাল প্রতারণা, নারীসহ দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহে ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের নারী সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা বুধবার রাতে আলাদা আলাদা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এ খবর জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. ইয়াহিয়া মুন্সির ছেলে মো. তবিবর রহমান (৩০) ও ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. সবুজ মিয়ার স্ত্রী সামাপ্তি খাতুন (২৩)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে আবাবা অ্যাপসসহ দুইটি মোবাইল ফোন।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার কালীগঞ্জ শৈলকূপা ও সদর উপজেলা এলাকায় রিং আইডি, এলটি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন নামে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মর্মে জানতে পারেন। এরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, জালিয়াত চক্রে সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। সেই সূত্রে স্থানীয় বর্ষা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে বুধবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথমে তবিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে চক্রের নারী সদস্য সামাপ্তি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়- কম্বোডিয়া প্রবাসী সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. ওহাবের ছেলে মো. সবুজ মিয়া, মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহান, মোরারিদহ গ্রামের শোভন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান। এরা অনলাইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে প্রবাসে বসে বেআইনি ভাবে ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছে। গ্রেফতার দুইজন অত্র এলাকায় তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, চক্রটি ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। চক্রের প্রবাসী সদস্যরা কম্বোডিয়ায় বসে অনলাইনে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ৩০০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এসপি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আর্থিক বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের প্রধান এই কর্মকর্তা। জনগণকে এখনই সর্তক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আনোয়ার সাইদ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ পদস্থরা।