ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ডিজিটাল প্রতারণা, নারীসহ দুই সদস্য গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহে ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের নারী সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা বুধবার রাতে আলাদা আলাদা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এ খবর জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. ইয়াহিয়া মুন্সির ছেলে মো. তবিবর রহমান (৩০) ও ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. সবুজ মিয়ার স্ত্রী সামাপ্তি খাতুন (২৩)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে আবাবা অ্যাপসসহ দুইটি মোবাইল ফোন।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার কালীগঞ্জ শৈলকূপা ও সদর উপজেলা এলাকায় রিং আইডি, এলটি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন নামে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মর্মে জানতে পারেন। এরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, জালিয়াত চক্রে সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। সেই সূত্রে স্থানীয় বর্ষা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে বুধবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথমে তবিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে চক্রের নারী সদস্য সামাপ্তি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়- কম্বোডিয়া প্রবাসী সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. ওহাবের ছেলে মো. সবুজ মিয়া, মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহান, মোরারিদহ গ্রামের শোভন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান। এরা অনলাইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে প্রবাসে বসে বেআইনি ভাবে ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছে। গ্রেফতার দুইজন অত্র এলাকায় তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, চক্রটি ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। চক্রের প্রবাসী সদস্যরা কম্বোডিয়ায় বসে অনলাইনে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ৩০০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এসপি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আর্থিক বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের প্রধান এই কর্মকর্তা। জনগণকে এখনই সর্তক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আনোয়ার সাইদ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ পদস্থরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ডিজিটাল প্রতারণা, নারীসহ দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহে ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের নারী সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা বুধবার রাতে আলাদা আলাদা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান এ খবর জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. ইয়াহিয়া মুন্সির ছেলে মো. তবিবর রহমান (৩০) ও ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. সবুজ মিয়ার স্ত্রী সামাপ্তি খাতুন (২৩)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে আবাবা অ্যাপসসহ দুইটি মোবাইল ফোন।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার কালীগঞ্জ শৈলকূপা ও সদর উপজেলা এলাকায় রিং আইডি, এলটি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন নামে ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মর্মে জানতে পারেন। এরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, জালিয়াত চক্রে সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। সেই সূত্রে স্থানীয় বর্ষা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে বুধবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথমে তবিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে চক্রের নারী সদস্য সামাপ্তি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়- কম্বোডিয়া প্রবাসী সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মো. ওহাবের ছেলে মো. সবুজ মিয়া, মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহান, মোরারিদহ গ্রামের শোভন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান। এরা অনলাইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে প্রবাসে বসে বেআইনি ভাবে ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছে। গ্রেফতার দুইজন অত্র এলাকায় তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান বলেন, চক্রটি ‘আবাবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। চক্রের প্রবাসী সদস্যরা কম্বোডিয়ায় বসে অনলাইনে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ৩০০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এসপি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আর্থিক বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের প্রধান এই কর্মকর্তা। জনগণকে এখনই সর্তক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আনোয়ার সাইদ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ পদস্থরা।