ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শিকলে বেঁধে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার পাথরঘাটায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুলু বেগম (৪২) নামে এক নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকচিড়া গ্রামে একটি ঘরে ওই নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার বাড়ির গাছ কেটে ফেলে প্রতিবেশী রাজ্জাকের ছেলে শাহ-জালাল আকন। তিনি বাধা প্রদান করলে তাকে শাহজালাল, তার ভাই ফেরদাউস আকন ও সালমা বেগম নামে এক নারী জোর করে ধরে নিয়ে পায়ে শিকলে বেঁধে ২ ঘণ্টা ধরে শাহজালালের ঘরে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে তার ছেলে-মেয়ে ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ওই নারী আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারী এখন পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জানান, ওই নারীর পায়ে ও মাথায় জখম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাকচিড়া গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আকন নির্যাতিত ওই পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি ডিসি অফিসে চাকরি করেন পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ফেরদাউস আকন মাদক সেবন করেন ও এর ব্যবসা করেন।

নির্যাতনের বিষয় এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে ফেরদাউস আকনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রোববার পাথরঘাটায় দেখা করেন। প্রতিবেদকের সামনেই নির্যাতিত নারীর ছেলেকে উদ্দেশ করে মোবাইল ফোনে একজনকে বলেন- ‘ওকে বিচরা টাকা-পয়সা যা লাগে দিতাছি, আমি আইতাছি। আমি ডিসি অফিসে চাকরি করি; কথা বোঝ নাই। ওরে টানাইয়া পিডা, এরপর ধরে আনব।’

এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। পরে তিনি নির্যাতনের বিষয় কোনো কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

ভুক্তভোগী ওই নারীর ছেলে মো. জিলানী বলেন, আমার মাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয় খবর শুনে গিয়ে মাকে উদ্ধার করি। এ সময় ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। পরে মাকে নিয়ে পাথরঘাটা হাসপাতালে আসি। মা এখন চিকিৎসাধীন। আমাদের বাড়িছাড়া করবেন, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন ফেরদাউস আকন। আমরা এখন আতঙ্কিত।

কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান, গত শনিবারের নির্যাতনের ঘটনা আমি শুনিনি, তবে ওরা দুই ভাই লোক ভালো না। এর আগে কয়েকবার ওই নারীকে নির্যাতন করেছেন। আমার সামনেও একবার এ ঘটনা ঘটেছে। ওরা খারাপ প্রকৃতির লোক।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিকলে বেঁধে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার পাথরঘাটায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুলু বেগম (৪২) নামে এক নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকচিড়া গ্রামে একটি ঘরে ওই নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার বাড়ির গাছ কেটে ফেলে প্রতিবেশী রাজ্জাকের ছেলে শাহ-জালাল আকন। তিনি বাধা প্রদান করলে তাকে শাহজালাল, তার ভাই ফেরদাউস আকন ও সালমা বেগম নামে এক নারী জোর করে ধরে নিয়ে পায়ে শিকলে বেঁধে ২ ঘণ্টা ধরে শাহজালালের ঘরে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে তার ছেলে-মেয়ে ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ওই নারী আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারী এখন পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জানান, ওই নারীর পায়ে ও মাথায় জখম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাকচিড়া গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আকন নির্যাতিত ওই পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি ডিসি অফিসে চাকরি করেন পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ফেরদাউস আকন মাদক সেবন করেন ও এর ব্যবসা করেন।

নির্যাতনের বিষয় এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে ফেরদাউস আকনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রোববার পাথরঘাটায় দেখা করেন। প্রতিবেদকের সামনেই নির্যাতিত নারীর ছেলেকে উদ্দেশ করে মোবাইল ফোনে একজনকে বলেন- ‘ওকে বিচরা টাকা-পয়সা যা লাগে দিতাছি, আমি আইতাছি। আমি ডিসি অফিসে চাকরি করি; কথা বোঝ নাই। ওরে টানাইয়া পিডা, এরপর ধরে আনব।’

এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। পরে তিনি নির্যাতনের বিষয় কোনো কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

ভুক্তভোগী ওই নারীর ছেলে মো. জিলানী বলেন, আমার মাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয় খবর শুনে গিয়ে মাকে উদ্ধার করি। এ সময় ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। পরে মাকে নিয়ে পাথরঘাটা হাসপাতালে আসি। মা এখন চিকিৎসাধীন। আমাদের বাড়িছাড়া করবেন, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন ফেরদাউস আকন। আমরা এখন আতঙ্কিত।

কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান, গত শনিবারের নির্যাতনের ঘটনা আমি শুনিনি, তবে ওরা দুই ভাই লোক ভালো না। এর আগে কয়েকবার ওই নারীকে নির্যাতন করেছেন। আমার সামনেও একবার এ ঘটনা ঘটেছে। ওরা খারাপ প্রকৃতির লোক।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।