ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

সুদের টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে স্বামীর হাতে স্ত্রী রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। অভাব অনটনের কারণে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া চলে আসছিল। স্ত্রীকে না জানিয়ে স্বামী সুদের টাকা আনলে তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এসব নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী আমিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের নতুনপাড়ার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে আমিন মিয়ার (২৭) সঙ্গে ৭ বছর আগে মধ্যনগর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে রহিমা বেগমের (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যাসন্তান নুসাইবা।

অভাব অনটনের সংসারে হাল ধরতে রহিমা বেগম পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা এনে ৭ মাস পূর্বে স্বামীর জন্য একটি অটোগাড়ি কিনে দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী আমিন মিয়ার সুদের টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমিন মিয়া তার স্ত্রীকে না জানিয়ে সুদে টাকা আনেন। কিন্ত পরিশোধ করায় ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্ত্রী জেনে ফেলেন। পরে স্বীকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বললে স্ত্রী জানান তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। স্বামী রেগে একপর্যায়ে রহিমা বেগমকে অটোগাড়ির সাইলেন্সার দিয়ে মাথায় ও কপালে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় স্ত্রী।

পরে আমিন মিয়া হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে রাতেই চোর আসছে বলে জানান এবং তাদের সহযোগিতা করতে বলেন। কিন্তু লোকজন বুঝে যায় ঘাতক আমিন নিজেকে রক্ষার জন্যা মিথ্যা প্রলাপ ছড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সকালে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ও আবু নাসের তদন্তে আসেন। আমিন মিয়া বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আসেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

সুদের টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে স্বামীর হাতে স্ত্রী রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। অভাব অনটনের কারণে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া চলে আসছিল। স্ত্রীকে না জানিয়ে স্বামী সুদের টাকা আনলে তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এসব নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী আমিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের নতুনপাড়ার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে আমিন মিয়ার (২৭) সঙ্গে ৭ বছর আগে মধ্যনগর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে রহিমা বেগমের (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যাসন্তান নুসাইবা।

অভাব অনটনের সংসারে হাল ধরতে রহিমা বেগম পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা এনে ৭ মাস পূর্বে স্বামীর জন্য একটি অটোগাড়ি কিনে দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী আমিন মিয়ার সুদের টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমিন মিয়া তার স্ত্রীকে না জানিয়ে সুদে টাকা আনেন। কিন্ত পরিশোধ করায় ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্ত্রী জেনে ফেলেন। পরে স্বীকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বললে স্ত্রী জানান তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। স্বামী রেগে একপর্যায়ে রহিমা বেগমকে অটোগাড়ির সাইলেন্সার দিয়ে মাথায় ও কপালে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় স্ত্রী।

পরে আমিন মিয়া হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে রাতেই চোর আসছে বলে জানান এবং তাদের সহযোগিতা করতে বলেন। কিন্তু লোকজন বুঝে যায় ঘাতক আমিন নিজেকে রক্ষার জন্যা মিথ্যা প্রলাপ ছড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সকালে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ও আবু নাসের তদন্তে আসেন। আমিন মিয়া বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আসেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।