ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

সুদের টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে স্বামীর হাতে স্ত্রী রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। অভাব অনটনের কারণে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া চলে আসছিল। স্ত্রীকে না জানিয়ে স্বামী সুদের টাকা আনলে তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এসব নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী আমিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের নতুনপাড়ার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে আমিন মিয়ার (২৭) সঙ্গে ৭ বছর আগে মধ্যনগর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে রহিমা বেগমের (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যাসন্তান নুসাইবা।

অভাব অনটনের সংসারে হাল ধরতে রহিমা বেগম পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা এনে ৭ মাস পূর্বে স্বামীর জন্য একটি অটোগাড়ি কিনে দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী আমিন মিয়ার সুদের টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমিন মিয়া তার স্ত্রীকে না জানিয়ে সুদে টাকা আনেন। কিন্ত পরিশোধ করায় ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্ত্রী জেনে ফেলেন। পরে স্বীকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বললে স্ত্রী জানান তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। স্বামী রেগে একপর্যায়ে রহিমা বেগমকে অটোগাড়ির সাইলেন্সার দিয়ে মাথায় ও কপালে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় স্ত্রী।

পরে আমিন মিয়া হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে রাতেই চোর আসছে বলে জানান এবং তাদের সহযোগিতা করতে বলেন। কিন্তু লোকজন বুঝে যায় ঘাতক আমিন নিজেকে রক্ষার জন্যা মিথ্যা প্রলাপ ছড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সকালে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ও আবু নাসের তদন্তে আসেন। আমিন মিয়া বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আসেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

সুদের টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে স্বামীর হাতে স্ত্রী রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। অভাব অনটনের কারণে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া চলে আসছিল। স্ত্রীকে না জানিয়ে স্বামী সুদের টাকা আনলে তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এসব নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী আমিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের নতুনপাড়ার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে আমিন মিয়ার (২৭) সঙ্গে ৭ বছর আগে মধ্যনগর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে রহিমা বেগমের (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যাসন্তান নুসাইবা।

অভাব অনটনের সংসারে হাল ধরতে রহিমা বেগম পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা এনে ৭ মাস পূর্বে স্বামীর জন্য একটি অটোগাড়ি কিনে দেন।

প্রতিবেশীরা জানান, রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী আমিন মিয়ার সুদের টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমিন মিয়া তার স্ত্রীকে না জানিয়ে সুদে টাকা আনেন। কিন্ত পরিশোধ করায় ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্ত্রী জেনে ফেলেন। পরে স্বীকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বললে স্ত্রী জানান তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। স্বামী রেগে একপর্যায়ে রহিমা বেগমকে অটোগাড়ির সাইলেন্সার দিয়ে মাথায় ও কপালে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় স্ত্রী।

পরে আমিন মিয়া হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে রাতেই চোর আসছে বলে জানান এবং তাদের সহযোগিতা করতে বলেন। কিন্তু লোকজন বুঝে যায় ঘাতক আমিন নিজেকে রক্ষার জন্যা মিথ্যা প্রলাপ ছড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সকালে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ও আবু নাসের তদন্তে আসেন। আমিন মিয়া বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আসেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।