ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বড়ভাইকে গলা কেটে খুন, মধ্যপ্রাচ্যে বসে পরিকল্পনা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার দিন আগে বিদেশ ফেরত ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে তর্ক হয়। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে দোকান থেকে বাসায় ফিরে দুই সহোদর রাতের খাবার শেষ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে গেলেও দুইভাই বসতঘরের একটি কক্ষে ব্যস্ত ছিল কথোপকথনে।

মিনিট বিশেক পরে বসতঘরের ভবনের ছাদে প্রথমে বড়ভাই মো. এরশাদ (৩৮) এবং পরে ছোটভাই মঞ্জুরুল আলম (৩৬) উঠে। দুইজন লোক (ডাকাত) বড়ভাই মো. এরশাদকে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ছোটভাই মঞ্জুরুল আলম।

তবে নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামীকে গলা কেটে খুন করেছেন তার দেবর মঞ্জুরুল আলম। মধ্যপ্রাচ্যে বসে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর মিরেরখীল খন্দকার পাড়া এলাকায় নূরজাহান ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. এরশাদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। পৌরসভার কাচারী সড়কের এন জহুর শপিং সেন্টারের তার (এরশাদ) মালিকানাধীন ‘মীম কসমেটিক্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিহত মো. এরশাদ ৫-৬ বছর আগে ফটিকছড়ি থেকে বিয়ে করে। তাদের দাম্পত্য জীবনে মেয়ের নাম মিনহা (৫) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহত এরশাদ হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের মৃত মো. খোরশেদ আলমের পুত্র। বিগত চার বছর আগে গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের পেশকার হাট থেকে ওই এলাকায় এসে এই পাকা ভবন নির্মাণ করে ওই দুই সহোদর।

এদিকে ওই দিন রাতে ব্যবসায়ী এরশাদের চিৎকার শুনে মো. জসিম নামে এক স্থানীয় প্রতিবেশী জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। বিষয়টি অবহিত হয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আমিরুল মুজাহিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভবনের ভবনের ছাদ থেকে ব্যবসায়ী এরশাদের রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান প্রবাসী মঞ্জুরুল আলমের (দেবর) সঙ্গে বসতঘর (নূরজাহান ভবন) তৈরি করা নিয়ে অর্থ সংক্রান্ত আমার স্বামীর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধ শেষ হলো আমার স্বামীকে খুন করার মধ্য দিয়ে। বিদেশে বসেই সে (মঞ্জুরুল আলম) খুনের পরিকল্পনার ছক এঁকে দেশে ফিরেন চার দিন আগে। এর মধ্যে সোমবার রাতে একসঙ্গে ভাত খেয়ে মঞ্জুরুল আলম ভবনের ছাদে নির্মমভাবে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারী মঞ্জুরুল আলমের ফাঁসি চাই।

অন্যদিকে, পৌরসভা এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন মানিক জানিয়েছেন, এরশাদকে কে বা কারা খুন করেছে সেটা তিনি নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

তবে স্থানীয়দের কেউ বলছেন, রাত ১২টার দিকে এরশাদের বাড়িতে ডাকাত ঢুকেছিল। আবার কেউ বলেছেন, ছোটভাই মঞ্জুরুল আলমের সাথে বিল্ডিং তৈরি করা নিয়ে অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মো. এরশাদকে জবাই করে ভবনের ছাদে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা খুনের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এরশাদকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকারীদের ডাকাত বলা হলেও তদন্ত না করে কিছু বলতে পারছি না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের এরশাদের ছোটভাই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কী কারণে এরশাদ খুন হয়েছে তা তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বড়ভাইকে গলা কেটে খুন, মধ্যপ্রাচ্যে বসে পরিকল্পনা!

আপডেট সময় ০৯:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চার দিন আগে বিদেশ ফেরত ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে তর্ক হয়। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে দোকান থেকে বাসায় ফিরে দুই সহোদর রাতের খাবার শেষ করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে গেলেও দুইভাই বসতঘরের একটি কক্ষে ব্যস্ত ছিল কথোপকথনে।

মিনিট বিশেক পরে বসতঘরের ভবনের ছাদে প্রথমে বড়ভাই মো. এরশাদ (৩৮) এবং পরে ছোটভাই মঞ্জুরুল আলম (৩৬) উঠে। দুইজন লোক (ডাকাত) বড়ভাই মো. এরশাদকে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ছোটভাই মঞ্জুরুল আলম।

তবে নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামীকে গলা কেটে খুন করেছেন তার দেবর মঞ্জুরুল আলম। মধ্যপ্রাচ্যে বসে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর মিরেরখীল খন্দকার পাড়া এলাকায় নূরজাহান ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. এরশাদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। পৌরসভার কাচারী সড়কের এন জহুর শপিং সেন্টারের তার (এরশাদ) মালিকানাধীন ‘মীম কসমেটিক্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিহত মো. এরশাদ ৫-৬ বছর আগে ফটিকছড়ি থেকে বিয়ে করে। তাদের দাম্পত্য জীবনে মেয়ের নাম মিনহা (৫) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহত এরশাদ হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের মৃত মো. খোরশেদ আলমের পুত্র। বিগত চার বছর আগে গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের পেশকার হাট থেকে ওই এলাকায় এসে এই পাকা ভবন নির্মাণ করে ওই দুই সহোদর।

এদিকে ওই দিন রাতে ব্যবসায়ী এরশাদের চিৎকার শুনে মো. জসিম নামে এক স্থানীয় প্রতিবেশী জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। বিষয়টি অবহিত হয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আমিরুল মুজাহিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভবনের ভবনের ছাদ থেকে ব্যবসায়ী এরশাদের রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান প্রবাসী মঞ্জুরুল আলমের (দেবর) সঙ্গে বসতঘর (নূরজাহান ভবন) তৈরি করা নিয়ে অর্থ সংক্রান্ত আমার স্বামীর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধ শেষ হলো আমার স্বামীকে খুন করার মধ্য দিয়ে। বিদেশে বসেই সে (মঞ্জুরুল আলম) খুনের পরিকল্পনার ছক এঁকে দেশে ফিরেন চার দিন আগে। এর মধ্যে সোমবার রাতে একসঙ্গে ভাত খেয়ে মঞ্জুরুল আলম ভবনের ছাদে নির্মমভাবে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারী মঞ্জুরুল আলমের ফাঁসি চাই।

অন্যদিকে, পৌরসভা এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন মানিক জানিয়েছেন, এরশাদকে কে বা কারা খুন করেছে সেটা তিনি নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

তবে স্থানীয়দের কেউ বলছেন, রাত ১২টার দিকে এরশাদের বাড়িতে ডাকাত ঢুকেছিল। আবার কেউ বলেছেন, ছোটভাই মঞ্জুরুল আলমের সাথে বিল্ডিং তৈরি করা নিয়ে অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মো. এরশাদকে জবাই করে ভবনের ছাদে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা খুনের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এরশাদকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকারীদের ডাকাত বলা হলেও তদন্ত না করে কিছু বলতে পারছি না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের এরশাদের ছোটভাই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কী কারণে এরশাদ খুন হয়েছে তা তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।