ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

‘নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মৃত্যু হয় সহকর্মীর’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার দিনমজুর শমসের আলী (৫২) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়া টিম একমাত্র আসামি মো. মোস্তফাকে (৪০) গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিবিআই পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, একমাত্র আসামি মোস্তফা বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর জাহিদ হাসান জানান, গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় করতোয়া নদীর তীর থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতুনামা গ্রামের মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে দিনমজুর শমসের আলীর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘদিন বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

গত জুনে তারা ৭-৮ জন বগুড়ায় এসে শহরের মাটিডালি এলাকায় ঠান্ডুর স-মিলে রাতে ঘুমাতেন ও দিনে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন। ২৮ জুন মোস্তফা ও শমসের বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় স-মিলের দিকে ফেরার পথে গোকুল এলাকায় মম ইনপার্কের পেছনে করতোয়া নদীর ধারে তাদের দেখা হয়।

তারা দুজন সেখানে বসে মজার গল্প ও হাসি-ঠাট্টা করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোস্তফা তার ডান পা দিয়ে শমসেরের গোপনাঙ্গে লাথি দেন। এতে শমসের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। মোস্তফা নাইলনের রশি দিয়ে মৃত শমসেরের হাত বাঁধেন এবং গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা শমসেরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করলে হত্যাকারী ও হত্যারহস্য উদঘাটন করা হয়। ২৯ নভেম্বর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকা থেকে বাইশপুকুর গ্রামের সাহাবুল্ল্যার ছেলে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বগুড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দায় স্বীকার ও হত্যার বর্ণনা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

‘নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মৃত্যু হয় সহকর্মীর’

আপডেট সময় ১১:২৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার দিনমজুর শমসের আলী (৫২) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়া টিম একমাত্র আসামি মো. মোস্তফাকে (৪০) গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিবিআই পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, একমাত্র আসামি মোস্তফা বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর জাহিদ হাসান জানান, গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় করতোয়া নদীর তীর থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতুনামা গ্রামের মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে দিনমজুর শমসের আলীর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘদিন বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

গত জুনে তারা ৭-৮ জন বগুড়ায় এসে শহরের মাটিডালি এলাকায় ঠান্ডুর স-মিলে রাতে ঘুমাতেন ও দিনে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন। ২৮ জুন মোস্তফা ও শমসের বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় স-মিলের দিকে ফেরার পথে গোকুল এলাকায় মম ইনপার্কের পেছনে করতোয়া নদীর ধারে তাদের দেখা হয়।

তারা দুজন সেখানে বসে মজার গল্প ও হাসি-ঠাট্টা করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোস্তফা তার ডান পা দিয়ে শমসেরের গোপনাঙ্গে লাথি দেন। এতে শমসের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। মোস্তফা নাইলনের রশি দিয়ে মৃত শমসেরের হাত বাঁধেন এবং গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা শমসেরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করলে হত্যাকারী ও হত্যারহস্য উদঘাটন করা হয়। ২৯ নভেম্বর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকা থেকে বাইশপুকুর গ্রামের সাহাবুল্ল্যার ছেলে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বগুড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দায় স্বীকার ও হত্যার বর্ণনা দেন।