ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মৃত্যু হয় সহকর্মীর’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার দিনমজুর শমসের আলী (৫২) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়া টিম একমাত্র আসামি মো. মোস্তফাকে (৪০) গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিবিআই পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, একমাত্র আসামি মোস্তফা বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর জাহিদ হাসান জানান, গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় করতোয়া নদীর তীর থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতুনামা গ্রামের মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে দিনমজুর শমসের আলীর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘদিন বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

গত জুনে তারা ৭-৮ জন বগুড়ায় এসে শহরের মাটিডালি এলাকায় ঠান্ডুর স-মিলে রাতে ঘুমাতেন ও দিনে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন। ২৮ জুন মোস্তফা ও শমসের বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় স-মিলের দিকে ফেরার পথে গোকুল এলাকায় মম ইনপার্কের পেছনে করতোয়া নদীর ধারে তাদের দেখা হয়।

তারা দুজন সেখানে বসে মজার গল্প ও হাসি-ঠাট্টা করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোস্তফা তার ডান পা দিয়ে শমসেরের গোপনাঙ্গে লাথি দেন। এতে শমসের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। মোস্তফা নাইলনের রশি দিয়ে মৃত শমসেরের হাত বাঁধেন এবং গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা শমসেরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করলে হত্যাকারী ও হত্যারহস্য উদঘাটন করা হয়। ২৯ নভেম্বর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকা থেকে বাইশপুকুর গ্রামের সাহাবুল্ল্যার ছেলে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বগুড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দায় স্বীকার ও হত্যার বর্ণনা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘নিষ্ঠুর ঠাট্টায় মৃত্যু হয় সহকর্মীর’

আপডেট সময় ১১:২৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার দিনমজুর শমসের আলী (৫২) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়া টিম একমাত্র আসামি মো. মোস্তফাকে (৪০) গ্রেফতার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিবিআই পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, একমাত্র আসামি মোস্তফা বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর জাহিদ হাসান জানান, গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় করতোয়া নদীর তীর থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতুনামা গ্রামের মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে দিনমজুর শমসের আলীর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘদিন বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

গত জুনে তারা ৭-৮ জন বগুড়ায় এসে শহরের মাটিডালি এলাকায় ঠান্ডুর স-মিলে রাতে ঘুমাতেন ও দিনে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন। ২৮ জুন মোস্তফা ও শমসের বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় স-মিলের দিকে ফেরার পথে গোকুল এলাকায় মম ইনপার্কের পেছনে করতোয়া নদীর ধারে তাদের দেখা হয়।

তারা দুজন সেখানে বসে মজার গল্প ও হাসি-ঠাট্টা করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোস্তফা তার ডান পা দিয়ে শমসেরের গোপনাঙ্গে লাথি দেন। এতে শমসের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। মোস্তফা নাইলনের রশি দিয়ে মৃত শমসেরের হাত বাঁধেন এবং গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা শমসেরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করলে হত্যাকারী ও হত্যারহস্য উদঘাটন করা হয়। ২৯ নভেম্বর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকা থেকে বাইশপুকুর গ্রামের সাহাবুল্ল্যার ছেলে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বগুড়ায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দায় স্বীকার ও হত্যার বর্ণনা দেন।