আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রুনা আক্তার (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিষ জাতীয় দ্রব্য (কেরুর বড়ি) খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত রুনা আক্তার উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের আবু কাউছার মিয়ার মেয়ে। সে এবছর রানীখার এসএ হান্নান বহুমুখী ও কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার আখাউড়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
নিহতের স্বজনরা মামলার ১নং আসামি রানীখার গ্রামের মৃত আব্দুল রাকিবের পুত্র সৈয়দ মনির হোসেনকে (২৪) আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। অপর আসামি একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে লোকমান (৪০)।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রুনার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে বুধবার রুনাকে সকালে বিষ খাওয়ালে ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মামলার অভিযোগ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ মে রাজশ্রমিক মনির হোসেন ফুসলিয়ে পরিবারের অগোচরে বিয়ে করে। এ বিষয়ে রুনার পরিবার আদালতে মামলা করলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেয়। গত ৬ মাস আগে (২০২১ সনের জুন মাসের ৩ তারিখ) তাদের যৌথ তালাক দিয়ে রুনাকে পিত্রালয়ে নিসে আসে। পরে মনির হোসেন মোবাইল ফোনে রুনার সাথে যোগাযোগ করে তার সাথে সম্পর্ক করার চেষ্টা করে। বুধবার সকালে মনির হোসেন রুনাকে ডেকে নিয়ে কেরুর বড়ি খাইয়ে দেয়। রুনা আক্তার ছটফট করতে থাকলে মনির হোসেন তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রুনার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে যায়। সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রুনার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে রুনার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় মরদেহ ধোয়ানো হচ্ছে। বাড়ি ভর্তি মানুষ। সবার চোখে মুখে বিষাদের ছায়া। রুনার মা দু’হাত বুকে চাপড়ে মেয়ের নাম জপতে জপতে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। বাবা আবু কাউছার হাউমাউ করে কান্না করছেন। বাড়িজুড়ে শোকের মাতম চলছে।
রুনার চাচা মোহাম্মদ মুছা বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে মনির হোসেন পেয়ে জানতে চাই সে কেন রুনাকে কেরুর বড়ি খাইয়েছে। জবাবে মনির হোসেন বলে, ‘আমি যেহেতু রুনার সাথে সংসার করতে পারছি না, তাহলে আমি তাকে কারও সাথে সংসার করতে দিমু না। এজন্য আমি তাকে ট্যাবলেট খাইয়েছি। এসময় একটি ট্যাবলেট খাওয়ায় বলে স্বীকার করে। এসময় রুনা কাঁদতে কাঁদতে বলে- আমি বাঁচতাম না। আমাকে কেরুর বড়ি খাইয়েছে। তার সাথে আরও ২/৩ জন সহযোগী ছিল।
রুনা আক্তারের বাবা আবু কাউছার বলেন, আমার মেয়ে মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছে, মনির হোসেন জোর করে তাকে কেরুর বড়ি খাইয়েছে। মনির হোসেন নিজেও আমাদের কাছে স্বীকার করেছে সে আমার মেয়েকে বড়ি খাইয়েছে। পূর্বের ক্ষোভের কারণেই সে আমার মেয়েকে বিষ খাইয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেরুর বড়ির সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, চালের মধ্যে কিরি পোকা হয়। এ পোকা চালকে পাউডার বানিয়ে ফেলে। সেজন্য অনেক অসচেতন লোক ফস টকসিন (বৈজ্ঞানিক নাম) চালে দেয়। এটি বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে। এ বড়ি কেউ খেলে মারা যাবে।
এ ব্যপারে আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় আটক আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























