ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

পরকীয়া প্রেমিকসহ এক সন্তানের জননীকে গণপিটুনি দিলেন পরিবারের সদস্যরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৮ বছর আগে জন্মনিবন্ধনের বয়স বাড়িয়ে সালমার (২১) বাল্যবিয়ে হয়। ৫ মাস আগে মাছ কাটা নিয়ে বিবাদ করে বিচ্ছিন্ন থাকেন স্বামী-স্ত্রী। একপর্যায়ে সালমা তাদের বাড়ির সামনে স্টিল আলমারি দোকান কর্মচারী যুবক ফয়সালের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এ ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্বামী, পিতা ও ভগিনীপতিসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে সালমা ও ফয়সাল একসঙ্গে অন্ধকারে কথা বলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে উভয়কে গণপিটুনি দেন সালমার স্বামী, পিতা, ভগিনীপতি ও চাচাতো ভাইসহ ১০-১২ জন।

আহত উভয়কে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিলে সালমাকে রেখে তার প্রেমিককে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার মিঠুন চন্দ্র বণিক।

আহত সালমা (২১) রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মনির হোসেনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মো. ফয়সাল (২৬) পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের আবদুর রবের বড় ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমার দাবি, ৮ বছর আগে জন্মনিবন্ধনের বয়স বাড়িয়ে তার বাল্যবিয়ে দেয় পরিবার। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তার স্বামী-শাশুড়ি নির্যাতন করত। অবশেষে বিচার না পাওয়ায় বাবার বাড়ি চলে এসে তার পাশেই ভাড়া বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন সালমা।

একদিন মাছ কাটা নিয়ে বিবাদ করে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামা কেটে নষ্ট করে দেয় তার স্বামী আলমগীর হোসেন। এতে আলমগীর হোসেন সালমার সঙ্গে সব সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ায় চার বছরের সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় সালমাকে।

এতে ক্ষোভে ও দুঃখে একপর্যায়ে তাদের বাড়ির সামনে স্টিল আলমারির দোকান কর্মচারী ফয়সালের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক হয়। উভয়ই বিয়ের জন্য কথাবার্তাও চলছিল। এ ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্বামী, পিতা, ভগিনীপতিসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে প্রেমিকা সালমার সঙ্গে দেখা করতে যান প্রেমিক ফয়সাল। এ সংবাদ পেয়ে সালমা ও তার প্রেমিক ফয়সালকে গণপিটুনি দেন সালমার স্বামী আলমগীর, পিতা মনির, ভগিনীপতি বিল্লাল হোসেন ও চাচাতো ভাই মেহেদিসহ ১০-১২ জন।

এ সময় নগদ ১১ হাজার টাকা ও ১টি দামি মোবাইল নিয়ে যান তারা। পরে আহত সালমা ও তার প্রেমিককে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিলে সালমাকে রেখে তার প্রেমিককে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন ডাক্তাররা।

এ ঘটনায় রায়পুর পৌরসভার কর্মচারী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, আমাদের মেয়ে সালমা আক্তার ভুলপথে চলছিল। তাকে ফয়সালের সঙ্গে কথা না বলার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু না শোনায় উভয়কে হাতেনাতে আটক করে শাসন করেছি।

এ ঘটনায় রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরকীয়া প্রেমিকসহ এক সন্তানের জননীকে গণপিটুনি দিলেন পরিবারের সদস্যরা

আপডেট সময় ০৯:৫২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৮ বছর আগে জন্মনিবন্ধনের বয়স বাড়িয়ে সালমার (২১) বাল্যবিয়ে হয়। ৫ মাস আগে মাছ কাটা নিয়ে বিবাদ করে বিচ্ছিন্ন থাকেন স্বামী-স্ত্রী। একপর্যায়ে সালমা তাদের বাড়ির সামনে স্টিল আলমারি দোকান কর্মচারী যুবক ফয়সালের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এ ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্বামী, পিতা ও ভগিনীপতিসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে সালমা ও ফয়সাল একসঙ্গে অন্ধকারে কথা বলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে উভয়কে গণপিটুনি দেন সালমার স্বামী, পিতা, ভগিনীপতি ও চাচাতো ভাইসহ ১০-১২ জন।

আহত উভয়কে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিলে সালমাকে রেখে তার প্রেমিককে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার মিঠুন চন্দ্র বণিক।

আহত সালমা (২১) রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মনির হোসেনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মো. ফয়সাল (২৬) পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের আবদুর রবের বড় ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমার দাবি, ৮ বছর আগে জন্মনিবন্ধনের বয়স বাড়িয়ে তার বাল্যবিয়ে দেয় পরিবার। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তার স্বামী-শাশুড়ি নির্যাতন করত। অবশেষে বিচার না পাওয়ায় বাবার বাড়ি চলে এসে তার পাশেই ভাড়া বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন সালমা।

একদিন মাছ কাটা নিয়ে বিবাদ করে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামা কেটে নষ্ট করে দেয় তার স্বামী আলমগীর হোসেন। এতে আলমগীর হোসেন সালমার সঙ্গে সব সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ায় চার বছরের সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় সালমাকে।

এতে ক্ষোভে ও দুঃখে একপর্যায়ে তাদের বাড়ির সামনে স্টিল আলমারির দোকান কর্মচারী ফয়সালের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক হয়। উভয়ই বিয়ের জন্য কথাবার্তাও চলছিল। এ ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্বামী, পিতা, ভগিনীপতিসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে প্রেমিকা সালমার সঙ্গে দেখা করতে যান প্রেমিক ফয়সাল। এ সংবাদ পেয়ে সালমা ও তার প্রেমিক ফয়সালকে গণপিটুনি দেন সালমার স্বামী আলমগীর, পিতা মনির, ভগিনীপতি বিল্লাল হোসেন ও চাচাতো ভাই মেহেদিসহ ১০-১২ জন।

এ সময় নগদ ১১ হাজার টাকা ও ১টি দামি মোবাইল নিয়ে যান তারা। পরে আহত সালমা ও তার প্রেমিককে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিলে সালমাকে রেখে তার প্রেমিককে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন ডাক্তাররা।

এ ঘটনায় রায়পুর পৌরসভার কর্মচারী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, আমাদের মেয়ে সালমা আক্তার ভুলপথে চলছিল। তাকে ফয়সালের সঙ্গে কথা না বলার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু না শোনায় উভয়কে হাতেনাতে আটক করে শাসন করেছি।

এ ঘটনায় রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।