ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

শিশুদের প্রতি সদয় হতে বলে ইসলাম

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শিশুদের প্রতি সদয় হতে বলে ইসলাম। শিশুদের প্রতি আমাদের সবারই বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের স্নেহ করা এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং মমত্বপূর্ণ আচরণ করা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের খুব স্নেহ করতেন। তাদের প্রতি তিনি খুব যত্নবান ছিলেন। শিশুদের অধিকার ক্ষুণ্ণহলে বা কেউ তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করলে তিনি খুব কষ্ট পেতেন। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মহিলারা যখন মসজিদে এসে জামাতে শরিক হতো তখন শিশুদের কান্না শুনলে নবীজি নামাজ সংক্ষিপ্ত করে ফেলতেন। তাঁর আদরের নাতি হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.) নামাজরত অবস্থায় নবীজির কাঁধে চড়ে বসতেন। যতক্ষণ তারা ইচ্ছা করে না নামতেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদা থেকে মাথা তুলতেন না।

জনৈক সাহাবি তাদের এহেন আচরণে নবীজির নামাজের ব্যাঘাত হয় মনে করে মৃদু ধমক দিলে নবীজি খুবই অসন্তুষ্ট হন। সব শিশুকেই তিনি আদর করতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একজন বেদুইন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে শিশুদের স্নেহভরে চুমু খেতে দেখে বললেন, আপনারা কি শিশুদের স্নেহভরে চুমু খান? আমরা তো শিশুদের স্নেহভরে চুমু খাই না।

নবীজি বললেন, আল্লাহ তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নিয়েছেন। তাতে আমার কী করার আছে। অর্থাৎ তোমাদের হৃদয়ে শিশুদের প্রতি মায়া নেই বলে তুমি শিশুদের স্নেহভরে চুমু খেতে পার না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যাশিশুদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ছেলের তুলনায় মেয়ে সন্তানের ভালো খাবার এবং ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তারা অবহেলার শিকার না হয়।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কেউ যদি কন্যাসন্তানের প্রতিপালন নিয়ে কষ্টে পড়ে এবং ধৈর্য ধরে তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ ও যত্নসহকারে লালনপালন করে এবং তাদের শিষ্টাচার করে গড়ে তোলে কিয়ামতের দিন এ কন্যাসন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াবে।’ বুখারি, মুসলিম।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবে অনেকে কন্যাশিশুর জন্মদানকে অপমানজনক মনে করত। তাদের জীবিত কবর দেওয়ার নির্দয় ঘটনাও ঘটেছে আইয়ামে জাহেলিয়ায়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। কোরআনে শিশু হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তিনজন মেয়ে অথবা তিনজন বোনকে সুন্দরভাবে আদব শিক্ষা দিয়ে তাদের প্রতি সদয় হয়ে প্রতিপালন করবে, বিয়ের মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন দুজনকে প্রতিপালন করলে? নবীজি বললেন দুজনকে করলেও। এমনকি একজনের কথা বললেও নবীজি একই কথা বলতেন।’

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি সদয় হতে বলে ইসলাম

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শিশুদের প্রতি সদয় হতে বলে ইসলাম। শিশুদের প্রতি আমাদের সবারই বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের স্নেহ করা এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং মমত্বপূর্ণ আচরণ করা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের খুব স্নেহ করতেন। তাদের প্রতি তিনি খুব যত্নবান ছিলেন। শিশুদের অধিকার ক্ষুণ্ণহলে বা কেউ তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করলে তিনি খুব কষ্ট পেতেন। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মহিলারা যখন মসজিদে এসে জামাতে শরিক হতো তখন শিশুদের কান্না শুনলে নবীজি নামাজ সংক্ষিপ্ত করে ফেলতেন। তাঁর আদরের নাতি হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.) নামাজরত অবস্থায় নবীজির কাঁধে চড়ে বসতেন। যতক্ষণ তারা ইচ্ছা করে না নামতেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদা থেকে মাথা তুলতেন না।

জনৈক সাহাবি তাদের এহেন আচরণে নবীজির নামাজের ব্যাঘাত হয় মনে করে মৃদু ধমক দিলে নবীজি খুবই অসন্তুষ্ট হন। সব শিশুকেই তিনি আদর করতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একজন বেদুইন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে শিশুদের স্নেহভরে চুমু খেতে দেখে বললেন, আপনারা কি শিশুদের স্নেহভরে চুমু খান? আমরা তো শিশুদের স্নেহভরে চুমু খাই না।

নবীজি বললেন, আল্লাহ তোমার হৃদয় থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নিয়েছেন। তাতে আমার কী করার আছে। অর্থাৎ তোমাদের হৃদয়ে শিশুদের প্রতি মায়া নেই বলে তুমি শিশুদের স্নেহভরে চুমু খেতে পার না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যাশিশুদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ছেলের তুলনায় মেয়ে সন্তানের ভালো খাবার এবং ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তারা অবহেলার শিকার না হয়।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কেউ যদি কন্যাসন্তানের প্রতিপালন নিয়ে কষ্টে পড়ে এবং ধৈর্য ধরে তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ ও যত্নসহকারে লালনপালন করে এবং তাদের শিষ্টাচার করে গড়ে তোলে কিয়ামতের দিন এ কন্যাসন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াবে।’ বুখারি, মুসলিম।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবে অনেকে কন্যাশিশুর জন্মদানকে অপমানজনক মনে করত। তাদের জীবিত কবর দেওয়ার নির্দয় ঘটনাও ঘটেছে আইয়ামে জাহেলিয়ায়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। কোরআনে শিশু হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তিনজন মেয়ে অথবা তিনজন বোনকে সুন্দরভাবে আদব শিক্ষা দিয়ে তাদের প্রতি সদয় হয়ে প্রতিপালন করবে, বিয়ের মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন দুজনকে প্রতিপালন করলে? নবীজি বললেন দুজনকে করলেও। এমনকি একজনের কথা বললেও নবীজি একই কথা বলতেন।’

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।