আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের চাঞ্চল্যকর আসিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি এবং ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. জিন্নাত আলী ওরফে বাদশা এবং তার ভাই মো. আলমগীর।
বুধবার বিকালে র্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বীণা রানী দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিন্নাতের নেতৃত্বে তার সহযোগী মো. আলমগীরসহ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী খিলগাঁও বাড্ডা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, হত্যা এবং মাদক ব্যবসা করছে বলে খবর পায় র্যাব। র্যাব-৩ তদন্ত করে জানতে পারে খিলগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জিন্নাত চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পুলিশের সোর্স আসিফকে হত্যা করে আশুলিয়া এলাকায় আত্মগোপন রয়েছে। জিন্নাত আত্মগোপনে থাকলেও তার সহযোগীদের সহায়তায় তিনি খিলগাঁও এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যান। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৩ এর একটি দল বুধবার দুপুরে একটার দিকে আশুলিয়া থানার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যাকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী ও মাদক চোরাকারবারি মো. জিন্নাত আলী ওরফে বাদশা এবং তার ভাই মো. আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, রাজধানীর খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কাজ করে আসছিল। তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসায় যারা বাধা সৃষ্টি করে, তাদেরকে তারা অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতো। খিলগাঁও থানা পুলিশের সোর্স মৃত আসিফ তার কয়েকজন সহযোগীকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এতে জিন্নাত ক্ষিপ্ত হয়ে আসিফকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল রাতে খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া নয়াপাড়া এলাকায় জিন্নাত তার সহযোগীদের নিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা আসিফকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে আসে। আসিফ মেরাদিয়া নয়াপাড়ার সাকিবুল হাসান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে আসা মাত্র আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জিন্নাত ও তার সহযোগীরা আসিফকে ঝাপটে ধরে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে আসিফ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে জিন্নাতসহ তার সহযোগীর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন।
র্যাব জানায় গ্রেপ্তার জিন্নাতের বিরুদ্ধে খিলগাঁও, বাড্ডা ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানায় হত্যা ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে এবং তার ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা রয়েছে । শীর্ষ সন্ত্রাসী জিন্নাত আলী খিলগাঁও থানার পুলিশ সোর্স আসিফ হত্যা মামলার মূল হোতা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























