ঢাকা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

সন্তান জন্ম দিয়ে করোনায় মারা গেলেন মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ডেফলউরা গ্রামের গৃহবধূ লিমা আক্তার (২১) ঈদের দিনে জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যা শিশুর। পরিবারে ঈদের আনন্দে যোগ হয় নতুন আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ দিল মরণব্যাধি করোনায়।

সেইসঙ্গে দুর্ভাগ্য নেমে এলো নবজাতক কন্যার জীবনে। জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ পান করার আগেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে করোনা আক্রান্ত (কোভিড-১৯) হয়ে শেষতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নবজাতকের মা লিমা আক্তার। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল পরিবারের আনন্দ। করোনার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত এখন শিশুর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টায় সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় জানাজা শেষে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার মৃতের লাশ দাফন করে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে।

করোনায় মৃত গৃহবধূ লিমা রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী। ৫ বছর বয়সী তার আরেকটি একটি ছেলে রয়েছে।

সরেজমিন মৃত লিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতক শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে ফিডার খাওয়াচ্ছেন তার এক ফুফু। শিশুটির দাদা লকুছ মিয়া ছিলেন পাশে।

তিনি বলেন, সন্তানসম্ভাবা লিমা আক্তারকে ঈদের আগে মৌলভীবাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান। এ সময় তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে গাইনি ডাক্তার করোনা টেস্ট করানোর জন্য বলেন এবং সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। নমুনা দেয়ার তিন দিন পর লিমা আক্তারের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেখানের ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে সিজারে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লিমা আক্তার।

তিনি আরও জানান, সন্তান জন্ম দেয়ার পর তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। সেখান থেকে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে মঙ্গলবার দিনে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শিশুটির দাদা বলেন, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পর আস্তে আস্তে তার অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাতেই লিমা আক্তারের লাশ বাড়িতে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার রাত সাড়ে ৩টার সময় লাশ দাফন করে।

শিশুটির দাদি সালমা বেগম বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। মা ছাড়া সাত দিনের শিশুটিকে কীভাবে লালন পালন করব?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

সন্তান জন্ম দিয়ে করোনায় মারা গেলেন মা

আপডেট সময় ১১:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ডেফলউরা গ্রামের গৃহবধূ লিমা আক্তার (২১) ঈদের দিনে জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যা শিশুর। পরিবারে ঈদের আনন্দে যোগ হয় নতুন আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ দিল মরণব্যাধি করোনায়।

সেইসঙ্গে দুর্ভাগ্য নেমে এলো নবজাতক কন্যার জীবনে। জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ পান করার আগেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে করোনা আক্রান্ত (কোভিড-১৯) হয়ে শেষতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নবজাতকের মা লিমা আক্তার। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল পরিবারের আনন্দ। করোনার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত এখন শিশুর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টায় সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় জানাজা শেষে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার মৃতের লাশ দাফন করে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে।

করোনায় মৃত গৃহবধূ লিমা রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী। ৫ বছর বয়সী তার আরেকটি একটি ছেলে রয়েছে।

সরেজমিন মৃত লিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতক শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে ফিডার খাওয়াচ্ছেন তার এক ফুফু। শিশুটির দাদা লকুছ মিয়া ছিলেন পাশে।

তিনি বলেন, সন্তানসম্ভাবা লিমা আক্তারকে ঈদের আগে মৌলভীবাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান। এ সময় তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে গাইনি ডাক্তার করোনা টেস্ট করানোর জন্য বলেন এবং সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। নমুনা দেয়ার তিন দিন পর লিমা আক্তারের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেখানের ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে সিজারে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লিমা আক্তার।

তিনি আরও জানান, সন্তান জন্ম দেয়ার পর তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। সেখান থেকে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে মঙ্গলবার দিনে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শিশুটির দাদা বলেন, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পর আস্তে আস্তে তার অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাতেই লিমা আক্তারের লাশ বাড়িতে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার রাত সাড়ে ৩টার সময় লাশ দাফন করে।

শিশুটির দাদি সালমা বেগম বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। মা ছাড়া সাত দিনের শিশুটিকে কীভাবে লালন পালন করব?