ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

‘শান্তির বার্তা’ নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে কাদের মির্জা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক এমপি প্রয়াত আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে তার নাতিদের সঙ্গে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সাক্ষাত করেছেন।

শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে যান তিনি।

এ সময় মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী নোয়াখালী জেলা পরিষদ সদস্য ও আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল ও চরহাজারীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন চৌধুরী রাফেলের ঘরে যান তিনি।

এদিকে, শনিবার সকালে সাবেক এমপি আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে যাওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন কাদের মির্জার অনুসারীরা।

তারা দাবি করেন, জেলা পরিষদ সদস্য আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজের দাওয়াতে কাদের মির্জা তাদের বাড়িতে চা-চক্রে যোগ দিয়েছেন। এসময় কাদের মির্জা শান্তির বার্তা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তবে আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ জানান, বিষয়টি আমি কিছুই জানি না। সকালে হঠাৎ লোকজন নিয়ে মেয়র কাদের মির্জা আমার ঘরে এসে হাজির। এ সময় মেয়র চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাবেন বলে অতীতের সব কিছু ভুলে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

পরে তিনি (সবুজ চৌধুরী) নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসও দেন। এতে তিনি লিখেন, আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আমেরিকা সফরের উদ্দেশে সাক্ষাত করতে আমাদের বাড়িতে আসেন, সবার কাছে দোয়া চেয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেন, কেউ ভুল বুঝবেন না।

অপরদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেলও মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি হঠাৎ কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে চলে এসেছেন। একজন মেয়র কারও বাড়িতে আসলে তো আর বের করে দেওয়া যায় না।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল তার ফেসবুকে লিখেন, চৌধুরী বাড়িতে কোনো শত্রু আসলেও তাকে অপমান করা আমাদের বিধানে নাই। আজ সকালে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আমাদের বাড়িতে আসে, সৌজন্যতা দেখিয়ে তাকে আপ্যায়ন করা হয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে মেয়র কাদের মির্জার মোবাইলে বার বার কল দিলেও ব্যস্ত পাওয়া যায়। তবে অন্য ফোনে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে একজন জানান, আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজের দাওয়াতে মেয়র কাদের মির্জা সাবেক এমপি আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করেছেন।

এদিকে, কাদের মির্জার ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (মূলত সহ-সভাপতি) ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল দাবি করেন, সবুজ চৌধুরীসহ তার লোকজন মেয়রের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

তবে মেয়রের ভাগনে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সবুজ চৌধুরীরা মেয়রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা সিদ্ধান্তই নিয়েছি তার সঙ্গে (কাদের মির্জা) আর কখনো উপজেলা আওয়ামী লীগ রাজনীতি করব না। আবু নাসের চৌধুরী বাড়ির সবুজ চৌধুরীরা আমাদের বাইরে নয়।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই বিকালে সাবেক সংসদ সদস্য আবু নাসেরের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার জন্য কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

‘শান্তির বার্তা’ নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে কাদের মির্জা

আপডেট সময় ১১:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক এমপি প্রয়াত আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে তার নাতিদের সঙ্গে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সাক্ষাত করেছেন।

শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে যান তিনি।

এ সময় মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী নোয়াখালী জেলা পরিষদ সদস্য ও আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল ও চরহাজারীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন চৌধুরী রাফেলের ঘরে যান তিনি।

এদিকে, শনিবার সকালে সাবেক এমপি আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে যাওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন কাদের মির্জার অনুসারীরা।

তারা দাবি করেন, জেলা পরিষদ সদস্য আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজের দাওয়াতে কাদের মির্জা তাদের বাড়িতে চা-চক্রে যোগ দিয়েছেন। এসময় কাদের মির্জা শান্তির বার্তা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তবে আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ জানান, বিষয়টি আমি কিছুই জানি না। সকালে হঠাৎ লোকজন নিয়ে মেয়র কাদের মির্জা আমার ঘরে এসে হাজির। এ সময় মেয়র চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাবেন বলে অতীতের সব কিছু ভুলে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

পরে তিনি (সবুজ চৌধুরী) নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসও দেন। এতে তিনি লিখেন, আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আমেরিকা সফরের উদ্দেশে সাক্ষাত করতে আমাদের বাড়িতে আসেন, সবার কাছে দোয়া চেয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেন, কেউ ভুল বুঝবেন না।

অপরদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেলও মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি হঠাৎ কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে চলে এসেছেন। একজন মেয়র কারও বাড়িতে আসলে তো আর বের করে দেওয়া যায় না।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল তার ফেসবুকে লিখেন, চৌধুরী বাড়িতে কোনো শত্রু আসলেও তাকে অপমান করা আমাদের বিধানে নাই। আজ সকালে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আমাদের বাড়িতে আসে, সৌজন্যতা দেখিয়ে তাকে আপ্যায়ন করা হয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে মেয়র কাদের মির্জার মোবাইলে বার বার কল দিলেও ব্যস্ত পাওয়া যায়। তবে অন্য ফোনে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে একজন জানান, আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজের দাওয়াতে মেয়র কাদের মির্জা সাবেক এমপি আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করেছেন।

এদিকে, কাদের মির্জার ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (মূলত সহ-সভাপতি) ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল দাবি করেন, সবুজ চৌধুরীসহ তার লোকজন মেয়রের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

তবে মেয়রের ভাগনে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সবুজ চৌধুরীরা মেয়রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা সিদ্ধান্তই নিয়েছি তার সঙ্গে (কাদের মির্জা) আর কখনো উপজেলা আওয়ামী লীগ রাজনীতি করব না। আবু নাসের চৌধুরী বাড়ির সবুজ চৌধুরীরা আমাদের বাইরে নয়।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই বিকালে সাবেক সংসদ সদস্য আবু নাসেরের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার জন্য কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়।