ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

‘ওদের পায়ে ধরেছি, তারপরও আমাকে ছাড়েনি’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রিফাত মিয়া (৯) নামে এক শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতনকারী মা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

রিফাত রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ (গুচ্ছগ্রাম) গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া জানান, গত শুক্রবার আমার ছেলেকে মোবাইল চুরির অপবাদে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়ার স্ত্রী মো. ফাতেমা আক্তার (৫০) ও মৃত আব্দুল বারেকের পুত্র মো. হিমেল মিয়া (২৫) ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত আব্দুল বারেক ছিলেন ফাতেমা আক্তারের প্রথম স্বামী।

তিনি আরও জানান, ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক আমার ছেলেকে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। আমার ছেলে গাছে উঠার পর মা-ছেলে দুজন মিলে গাছের উপরে রেখেই পিটায়। নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়।

নির্যাতনের শিকার মো. রিফাত মিয়া বলে- ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক তার আমগাছে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। আমি আম পাড়ার জন্য গাছে উঠতেই গাছেই আমাকে মারপিট করে। গত শুক্রবার বাড়িতে কেউ ছিল না। ফাতেমা আক্তার ও তার ছেলে খালি বাড়ি থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যায। আমাকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে। আমি ওদের পায়ে ধরেছি, হাতজোড় করেছি, আল্লাহকে ডেকেছি এরপরেও মারপিট বন্ধ করে নাই। আমাকে পিটানোর সময় ওরা বারবার বলেছে- আমি মোবাইল চুরি করেছি। আল্লাহর কসম খেয়ে বলেছি, আমি চুরি করি নাই-এরপরও ওরা আমাকে গাছে বেঁধে মারধর করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়- ওই নারী নিজেই ভিডিওকারীকে বলছেন, ভিডিও কর ভিডিও কর, খোকন এটা ফেসবুকে দে, চেয়ারম্যান দেখুক, চোর ধরছি।

শিশুটি কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছে। শিশুটি বলছে সে চুরি করে নাই। ওই নারীর ছেলে হিমেল বলছে- মোবাইল চুরি করেছে, মোবাইল চুরি করেছে। এরপর ঘর থেকে গরুর দড়ি এনে ছেলেটাকে আরও মজবুত করে বাঁধে। ওই নারী কখনও কখনও তার ছাগল চুরির কথাও বলেছেন।

মোবাইল চুরির ঘটনায় শিশুটিকে ধরে এনে সামান্য মারধর করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন নির্যাতনকারী মো. হিমেল মিয়া। তিনি বলেন, তাহলে আমার ছেলে মো. বরকত উল্লাহকে সুরুজ মিয়া নির্যাতন করেছে, আঙুল ভেঙে দিয়েছে, আমি এ ঘটনারও বিচার চাই।

মধুবন আদর্শ গ্রামের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, আমি নির্যাতনের বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরেছি। সালিশ হওয়ার কথা ছিল, পরে আর সালিশ হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ওদের পায়ে ধরেছি, তারপরও আমাকে ছাড়েনি’

আপডেট সময় ১০:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রিফাত মিয়া (৯) নামে এক শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতনকারী মা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

রিফাত রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ (গুচ্ছগ্রাম) গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া জানান, গত শুক্রবার আমার ছেলেকে মোবাইল চুরির অপবাদে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়ার স্ত্রী মো. ফাতেমা আক্তার (৫০) ও মৃত আব্দুল বারেকের পুত্র মো. হিমেল মিয়া (২৫) ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত আব্দুল বারেক ছিলেন ফাতেমা আক্তারের প্রথম স্বামী।

তিনি আরও জানান, ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক আমার ছেলেকে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। আমার ছেলে গাছে উঠার পর মা-ছেলে দুজন মিলে গাছের উপরে রেখেই পিটায়। নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়।

নির্যাতনের শিকার মো. রিফাত মিয়া বলে- ফাতেমা আক্তারের ভাতিজা আজিজুল হক তার আমগাছে আম পাড়ার জন্য নিয়ে যায়। আমি আম পাড়ার জন্য গাছে উঠতেই গাছেই আমাকে মারপিট করে। গত শুক্রবার বাড়িতে কেউ ছিল না। ফাতেমা আক্তার ও তার ছেলে খালি বাড়ি থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যায। আমাকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে। আমি ওদের পায়ে ধরেছি, হাতজোড় করেছি, আল্লাহকে ডেকেছি এরপরেও মারপিট বন্ধ করে নাই। আমাকে পিটানোর সময় ওরা বারবার বলেছে- আমি মোবাইল চুরি করেছি। আল্লাহর কসম খেয়ে বলেছি, আমি চুরি করি নাই-এরপরও ওরা আমাকে গাছে বেঁধে মারধর করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়- ওই নারী নিজেই ভিডিওকারীকে বলছেন, ভিডিও কর ভিডিও কর, খোকন এটা ফেসবুকে দে, চেয়ারম্যান দেখুক, চোর ধরছি।

শিশুটি কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছে। শিশুটি বলছে সে চুরি করে নাই। ওই নারীর ছেলে হিমেল বলছে- মোবাইল চুরি করেছে, মোবাইল চুরি করেছে। এরপর ঘর থেকে গরুর দড়ি এনে ছেলেটাকে আরও মজবুত করে বাঁধে। ওই নারী কখনও কখনও তার ছাগল চুরির কথাও বলেছেন।

মোবাইল চুরির ঘটনায় শিশুটিকে ধরে এনে সামান্য মারধর করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন নির্যাতনকারী মো. হিমেল মিয়া। তিনি বলেন, তাহলে আমার ছেলে মো. বরকত উল্লাহকে সুরুজ মিয়া নির্যাতন করেছে, আঙুল ভেঙে দিয়েছে, আমি এ ঘটনারও বিচার চাই।

মধুবন আদর্শ গ্রামের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, আমি নির্যাতনের বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরেছি। সালিশ হওয়ার কথা ছিল, পরে আর সালিশ হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।