ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

১ ফ্যান ১ এনার্জি লাইট ১ মোবাইল চার্জার, বিল ৭৯ হাজার টাকা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে এক মাসে ৭৮ হাজার ৬৭৯ টাকা বিল এসেছে।

ভুতুড়ে এই বিলে দিশাহারা ওই অসহায় পরিবারটি বিল পরিশোধে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চাপে বাড়ি ছাড়ার উপক্রম। বিষয়টি জানাতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

ঘটনাটি উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের। ওই গ্রামের বেপারীবাড়ির ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার মিটারের গ্রাহক (হিসাব নং-০৩-৫৩৬-১১৭৮)।

সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর যাবত ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি এনার্জি লাইট ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে বিলের সীমাবদ্ধতা ছিল।

বিদ্যুতের পূর্বের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে রুমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে। সেখানে গিয়ে কোনো সমাধান মেলেনি বরং কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারে দিশাহারা বলে জানিয়েছেন রুমা আক্তার।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত ঘরটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। ওই মিটারটি দিয়ে অন্য কিছু চার্জ দেয়া কিংবা ব্যবহার করা কিংবা শর্টসার্কিটের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরল হোসাইন জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না। আমি খোঁজ নিয়েছি ওখানে শর্টসার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।

শর্টসার্কিট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে- কোনো অগ্নিকাণ্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোনো ক্ষতি হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইউএনও বিষয়টি জানেন।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি ডিজিএমের কাছে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১ ফ্যান ১ এনার্জি লাইট ১ মোবাইল চার্জার, বিল ৭৯ হাজার টাকা!

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে এক মাসে ৭৮ হাজার ৬৭৯ টাকা বিল এসেছে।

ভুতুড়ে এই বিলে দিশাহারা ওই অসহায় পরিবারটি বিল পরিশোধে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চাপে বাড়ি ছাড়ার উপক্রম। বিষয়টি জানাতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন।

ঘটনাটি উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের। ওই গ্রামের বেপারীবাড়ির ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার মিটারের গ্রাহক (হিসাব নং-০৩-৫৩৬-১১৭৮)।

সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর যাবত ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি এনার্জি লাইট ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে বিলের সীমাবদ্ধতা ছিল।

বিদ্যুতের পূর্বের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে রুমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে। সেখানে গিয়ে কোনো সমাধান মেলেনি বরং কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারে দিশাহারা বলে জানিয়েছেন রুমা আক্তার।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত ঘরটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। ওই মিটারটি দিয়ে অন্য কিছু চার্জ দেয়া কিংবা ব্যবহার করা কিংবা শর্টসার্কিটের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরল হোসাইন জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না। আমি খোঁজ নিয়েছি ওখানে শর্টসার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিলগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।

শর্টসার্কিট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে- কোনো অগ্নিকাণ্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোনো ক্ষতি হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ইউএনও বিষয়টি জানেন।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি ডিজিএমের কাছে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।