ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

এক বোন শিকলে বাঁধা, একজনের আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একই পরিবারে তিনজন মানসিক রোগী। এরা হলো- মিনা বেগম (৩০), মোরশিদা বেগম (৩৫) ও ভাই কাউছার (২৮)। বুধবার সন্ধ্যায় বোন মোরশিদা বেগম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পাড়াতলা গ্রামের গ্রামপুলিশ মরহুম শহীদ মিয়ার ছেলে-মেয়ে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সৎভাই সুমন মিয়া তার বোন মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে ঘরের জানালায় বেঁধে রেখেছে।

এ বিষয়ে সুমন জানায়, আমার বোনটি দীর্ঘদিন যাবত পাগল। শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে প্রতিবেশীদের মারধর করে এবং কামড়িয়ে আহত করে। আরেক বোন মোরশিদা বহুদিন যাবত মানসিক রোগী ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে এসে লাশ থানায় নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। অপর ভাই কাউছার সেও দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে বলে জানান তার ভাই সুমন।

এলাকার ইউপি মেম্বার হজরত আলী জানান, একই পরিবার তিনজন মানসিক রোগী। পরিবারটি অতি দরিদ্র। দিন আনে দিন খায়। মোরশিদা মারা গেল কিন্তু দাফন-কাফনের টাকাটা পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে সে প্রতিবেশীদের অত্যাচার করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাদের ভাই কাউছার অনেক দিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে। শিকলে বাঁধা মিনা বেগমকে প্রতিবেশীরা ভাগ করে তিনবেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন এই মেম্বার।

তাদের আরেক বোন তুহুরা বেগম। তার বিয়ে হয়ে গেছে। কথা হয় তুহুরার সঙ্গে। তিনি জানান, অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে থাকতে আমার বোন মোরশেদা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যটি কেন এমন করল। টাকার অভাবে আমি ভাইবোনের চিকিৎসা করাতে পারি না। মিনাকে ডাক্তারের পরামর্শে মাঝেমধ্যে মানসিক রোগের ইনজেকশন দিতাম। একটি ইনজেকশনের দাম ৫০০ টাকা। ইনজেকশন দিলে কয়েকদিন সুস্থ থাকে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মোরশিদার লাশ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার পরিবারের তিনজন মানসিক রোগী বলে জানতে পারি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কেউ বলতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

এক বোন শিকলে বাঁধা, একজনের আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একই পরিবারে তিনজন মানসিক রোগী। এরা হলো- মিনা বেগম (৩০), মোরশিদা বেগম (৩৫) ও ভাই কাউছার (২৮)। বুধবার সন্ধ্যায় বোন মোরশিদা বেগম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পাড়াতলা গ্রামের গ্রামপুলিশ মরহুম শহীদ মিয়ার ছেলে-মেয়ে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সৎভাই সুমন মিয়া তার বোন মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে ঘরের জানালায় বেঁধে রেখেছে।

এ বিষয়ে সুমন জানায়, আমার বোনটি দীর্ঘদিন যাবত পাগল। শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে প্রতিবেশীদের মারধর করে এবং কামড়িয়ে আহত করে। আরেক বোন মোরশিদা বহুদিন যাবত মানসিক রোগী ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে এসে লাশ থানায় নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। অপর ভাই কাউছার সেও দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে বলে জানান তার ভাই সুমন।

এলাকার ইউপি মেম্বার হজরত আলী জানান, একই পরিবার তিনজন মানসিক রোগী। পরিবারটি অতি দরিদ্র। দিন আনে দিন খায়। মোরশিদা মারা গেল কিন্তু দাফন-কাফনের টাকাটা পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। মিনা বেগমকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে সে প্রতিবেশীদের অত্যাচার করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাদের ভাই কাউছার অনেক দিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছে। শিকলে বাঁধা মিনা বেগমকে প্রতিবেশীরা ভাগ করে তিনবেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন এই মেম্বার।

তাদের আরেক বোন তুহুরা বেগম। তার বিয়ে হয়ে গেছে। কথা হয় তুহুরার সঙ্গে। তিনি জানান, অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে থাকতে আমার বোন মোরশেদা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যটি কেন এমন করল। টাকার অভাবে আমি ভাইবোনের চিকিৎসা করাতে পারি না। মিনাকে ডাক্তারের পরামর্শে মাঝেমধ্যে মানসিক রোগের ইনজেকশন দিতাম। একটি ইনজেকশনের দাম ৫০০ টাকা। ইনজেকশন দিলে কয়েকদিন সুস্থ থাকে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মোরশিদার লাশ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার পরিবারের তিনজন মানসিক রোগী বলে জানতে পারি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কেউ বলতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।