ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

‘চীনের উচিত শিনজিয়াংয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেওয়া’

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পরে এবার জাতিসংঘ উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের ওপর চাপ তৈরি করল। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল বলেছেন, চীনের উচিত উইঘুর অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেওয়া। সেখানে কী চলছে, তা ওই দল খতিয়ে দেখতে চায়। চীন অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। খবর ডয়চে ভেলে বাংলার।

জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট। বহুদিন ধরেই তিনি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে চীনে যেতে চাইছেন। সেখানে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীন ঠিক কী ব্যবহার করছে, তা দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে চাইছেন তিনি। কিন্তু চীন এখনো পর্যন্ত তাতে সম্মত হয়নি। মঙ্গলবার বরেল বলেন, তাঁরা চান, মিশেলের নেতৃত্বে একটি দল শিনজিয়াং প্রদেশে যাক। এ বিষয়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সোমবারই কানাডার পার্লামেন্টে চীন এবং উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সেখানে বলা হয়েছে, চীন ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তাঁর মন্ত্রিসভা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই কথা বলেছিলেন। তিনিই প্রথম চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যা করছে চীন। যার জেরে পম্পেও এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চীন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য, চীন শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় দশ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের ধর্মের অধিকার, সন্তান উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে কার্যত দাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলো চীন কখনোই মানতে চায়নি।

চীন না মানলেও শিনজিয়াংয়ের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়া উইঘুররা ভয়াবহ অত্যাচারের কথা বলেছেন। সমস্যা হলো, এখনো পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কোনো সংগঠনকে যেতে দেয়নি চীন। সে কারণেই জাতিসংঘ চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও একটি পিটিশন জমা পড়েছিল। কিন্তু বিচারপতিরা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। তাঁরা জানিয়েছিলেন, চীন যেহেতু আদালতে আসবে না, ফলে বিষয়টির বিচার করা সম্ভব নয়। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপের সামনে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘চীনের উচিত শিনজিয়াংয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেওয়া’

আপডেট সময় ১১:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পরে এবার জাতিসংঘ উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের ওপর চাপ তৈরি করল। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল বলেছেন, চীনের উচিত উইঘুর অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেওয়া। সেখানে কী চলছে, তা ওই দল খতিয়ে দেখতে চায়। চীন অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। খবর ডয়চে ভেলে বাংলার।

জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট। বহুদিন ধরেই তিনি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে চীনে যেতে চাইছেন। সেখানে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীন ঠিক কী ব্যবহার করছে, তা দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে চাইছেন তিনি। কিন্তু চীন এখনো পর্যন্ত তাতে সম্মত হয়নি। মঙ্গলবার বরেল বলেন, তাঁরা চান, মিশেলের নেতৃত্বে একটি দল শিনজিয়াং প্রদেশে যাক। এ বিষয়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সোমবারই কানাডার পার্লামেন্টে চীন এবং উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সেখানে বলা হয়েছে, চীন ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তাঁর মন্ত্রিসভা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই কথা বলেছিলেন। তিনিই প্রথম চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যা করছে চীন। যার জেরে পম্পেও এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চীন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য, চীন শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় দশ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের ধর্মের অধিকার, সন্তান উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে কার্যত দাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলো চীন কখনোই মানতে চায়নি।

চীন না মানলেও শিনজিয়াংয়ের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়া উইঘুররা ভয়াবহ অত্যাচারের কথা বলেছেন। সমস্যা হলো, এখনো পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কোনো সংগঠনকে যেতে দেয়নি চীন। সে কারণেই জাতিসংঘ চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও একটি পিটিশন জমা পড়েছিল। কিন্তু বিচারপতিরা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। তাঁরা জানিয়েছিলেন, চীন যেহেতু আদালতে আসবে না, ফলে বিষয়টির বিচার করা সম্ভব নয়। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপের সামনে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।