ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে কেউ ঠেকাতে পারত না: সর্বোচ্চ নেতা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ‌‘তার দেশ পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে নিজের যৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না এবং প্রয়োজন হলে শতকরা ৬০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।

তিনি সোমবার সন্ধ্যায় ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “দেশের প্রয়োজনে পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ কারণে আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০-এ সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং যত মাত্রা প্রয়োজন হবে তত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ নিউক্লিয়ার প্রোপালশন (প্রযুক্তি) বা অন্য কোনো কাজে আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।”

ইরান এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় এই মাত্রা সাড়ে তিন ভাগ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি ইরান আবার ২০ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে। পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে শতকরা ৯০ ভাগ বা তার বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন হয়। তেহরান বলেছে, ইসলামের সুমহান দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।

সোমবারের ভাষণে ইরানের এই নীতি অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রসহ যেসব অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে গণহারে হত্যা করা যায়, সেসব অস্ত্র তৈরিতে ইসলামের বিধিনিষেধ রয়েছে এবং আমরা সে বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের দুটি শহরে আমেরিকার পরমাণু বোমা হামলায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ হত্যার কথা স্মরণ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা চালানো পশ্চিমাদের পাশবিক মানসিকতা থেকে উৎসারিত। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই মানসিকতায় বিশ্বাস করে না।’

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদী চক্র বারবার বলে আসছে ‘আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।’ তাদের জেনে রাখা উচিত, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির করার সিদ্ধান্ত নিত তাহলে ইহুদিবাদীরা তো দূরের কথা, তাদের চেয়ে বড় শক্তিগুলোর পক্ষেও তা প্রতিহত করা সম্ভব হতো না।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে পরমাণু অস্ত্র নিছক একটি অজুহাত। আমাদের কাছে সাধারণ মানের কোনো সমরাস্ত্র থাকুক তাও তারা চায় না।কারণ, তারা ইরানকে আত্মরক্ষার অধিকার দিতেই রাজি নয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে কেউ ঠেকাতে পারত না: সর্বোচ্চ নেতা

আপডেট সময় ০৫:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ‌‘তার দেশ পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে নিজের যৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না এবং প্রয়োজন হলে শতকরা ৬০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।

তিনি সোমবার সন্ধ্যায় ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “দেশের প্রয়োজনে পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ কারণে আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০-এ সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং যত মাত্রা প্রয়োজন হবে তত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ নিউক্লিয়ার প্রোপালশন (প্রযুক্তি) বা অন্য কোনো কাজে আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।”

ইরান এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় এই মাত্রা সাড়ে তিন ভাগ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি ইরান আবার ২০ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে। পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে শতকরা ৯০ ভাগ বা তার বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন হয়। তেহরান বলেছে, ইসলামের সুমহান দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।

সোমবারের ভাষণে ইরানের এই নীতি অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রসহ যেসব অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে গণহারে হত্যা করা যায়, সেসব অস্ত্র তৈরিতে ইসলামের বিধিনিষেধ রয়েছে এবং আমরা সে বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের দুটি শহরে আমেরিকার পরমাণু বোমা হামলায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ হত্যার কথা স্মরণ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা চালানো পশ্চিমাদের পাশবিক মানসিকতা থেকে উৎসারিত। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই মানসিকতায় বিশ্বাস করে না।’

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদী চক্র বারবার বলে আসছে ‘আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।’ তাদের জেনে রাখা উচিত, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির করার সিদ্ধান্ত নিত তাহলে ইহুদিবাদীরা তো দূরের কথা, তাদের চেয়ে বড় শক্তিগুলোর পক্ষেও তা প্রতিহত করা সম্ভব হতো না।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে পরমাণু অস্ত্র নিছক একটি অজুহাত। আমাদের কাছে সাধারণ মানের কোনো সমরাস্ত্র থাকুক তাও তারা চায় না।কারণ, তারা ইরানকে আত্মরক্ষার অধিকার দিতেই রাজি নয়।’