ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিশুমৃত্যুর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে জরুরি বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলের বাবুল মিয়ার ছেলে আলভী এলাহী(১০) বুধবার আখাউড়া উপজেলার টানমান্দাইলে তার মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দুতলার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় আলভী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হতে বলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আলভী সার্জারি বিভাগে মারা যান।

আলভী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা করেন। এ সময় ভাঙচুর করার হয় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের কাঁচে ঘেরা বেষ্টনি। প্রাণে রক্ষা পায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী।

পরে পুলিশ এসে জরুরী বিভাগে গেইট বন্ধ করে বিক্ষুব্ধদের আটক করে। আটকরা হলেন, আখাউড়া উপজেলার টান-মান্দাইল গ্রামের মুহাম্মদ শানু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া(২৮), সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সাব্বির(৩০) ও নবীনগর উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ আলীর ছেলে আলাউদ্দিন(২৬)।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রোগীটি আসার পরই তার স্বজনদের জানানো হয়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা আমাদের উপর হামলা করেন। এতে আমি রক্ষা পেলেও কাঁচের বেষ্টনি ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে।

তবে মৃত আলভীর বাবা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পাচ্ছিল না আলভী। প্রায় এক ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়েছে আহত আলভীকে। চিকিৎসার অবহেলার কারণে আলভীর মৃত্যু হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শিশুমৃত্যুর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর

আপডেট সময় ০৫:২৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে জরুরি বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলের বাবুল মিয়ার ছেলে আলভী এলাহী(১০) বুধবার আখাউড়া উপজেলার টানমান্দাইলে তার মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দুতলার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় আলভী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হতে বলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আলভী সার্জারি বিভাগে মারা যান।

আলভী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা করেন। এ সময় ভাঙচুর করার হয় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের কাঁচে ঘেরা বেষ্টনি। প্রাণে রক্ষা পায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী।

পরে পুলিশ এসে জরুরী বিভাগে গেইট বন্ধ করে বিক্ষুব্ধদের আটক করে। আটকরা হলেন, আখাউড়া উপজেলার টান-মান্দাইল গ্রামের মুহাম্মদ শানু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া(২৮), সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সাব্বির(৩০) ও নবীনগর উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ আলীর ছেলে আলাউদ্দিন(২৬)।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রোগীটি আসার পরই তার স্বজনদের জানানো হয়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা আমাদের উপর হামলা করেন। এতে আমি রক্ষা পেলেও কাঁচের বেষ্টনি ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে।

তবে মৃত আলভীর বাবা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি বিভাগে ছেলেকে ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা পাচ্ছিল না আলভী। প্রায় এক ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়েছে আহত আলভীকে। চিকিৎসার অবহেলার কারণে আলভীর মৃত্যু হয়েছে।