ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কারাগারে নারীসঙ্গ: কাশিমপুরের জেল সুপার ও জেলার বরখাস্ত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কাশিমপুর কারাগারে বন্দী হল-মার্ক কর্মকর্তা তুষার আহমেদকে অবৈধভাবে নারীসঙ্গের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা বরখাস্ত করা হয়েছেন।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে কারাগারের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, জড়িত কারো কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও জেলারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারাগারে থাকা হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদকে গত ৬ জানুয়ারি কারা কর্মকর্তাদের কক্ষেই নারীসঙ্গের ব্যবস্থার সংবাদ প্রচার হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হলে তাৎক্ষণিকভাবে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথমে জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।

বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কমিটি সুরক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ৪৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে ১৮ কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তদন্ত কমিটি ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা, চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে জেলা কারাগারে পদায়ন করা, কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন করাসহ ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে।

কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশ পথে কর্মকর্তাদের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ। তিনি সেখানে আসার কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারা কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাকে সেখানে অভ্যর্থনা জানান খোদ ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দী তুষার আহমদকে সেখানে আনা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কারাগারে নারীসঙ্গ: কাশিমপুরের জেল সুপার ও জেলার বরখাস্ত

আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কাশিমপুর কারাগারে বন্দী হল-মার্ক কর্মকর্তা তুষার আহমেদকে অবৈধভাবে নারীসঙ্গের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা বরখাস্ত করা হয়েছেন।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে কারাগারের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, জড়িত কারো কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও জেলারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারাগারে থাকা হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদকে গত ৬ জানুয়ারি কারা কর্মকর্তাদের কক্ষেই নারীসঙ্গের ব্যবস্থার সংবাদ প্রচার হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হলে তাৎক্ষণিকভাবে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথমে জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।

বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কমিটি সুরক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ৪৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে ১৮ কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তদন্ত কমিটি ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা, চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে জেলা কারাগারে পদায়ন করা, কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন করাসহ ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে।

কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশ পথে কর্মকর্তাদের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ। তিনি সেখানে আসার কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারা কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাকে সেখানে অভ্যর্থনা জানান খোদ ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দী তুষার আহমদকে সেখানে আনা হয়।