ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

ধর্ষণ মামলার অসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ধর্ষিতার আত্মহত্যার হুমকি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাতক্ষীরায় মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় পুলিশ ধর্ষন মামলার অসামি গ্রেফতার না করায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ারচক গ্রামের মুনছুর আলীর মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষীতা সালমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা খাতুন বলেন, তার বাবা মুনছুর আলী দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্রে বসবাস করায় তা মা ফজিলা খাতুন দীনমজুরের কাজ করে তাকে পড়া লেখা শিখানোর চেষ্টা করে আসছেন। সে স্থানীয় সিরাজপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়া আসার পথে কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আহম্মাদ শেখের ছেলে অশিক ও শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ার চক গ্রামের রফিকুলসহ কয়েকজন প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে আশিক ও রফিকুল গংরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ ও ধর্ষনের হুমকি দেয়।

ফলে তাদের ভয়ে মা আমার বিয়ের জন্য পাত্র খুজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ৮ আগষ্ট যশোরের মনিরামপুর এলাকা থেকে একটি পাত্র পক্ষ অমাকে দেখতে আসেন। ফিরে যাওয়ার পথে অশিক গংরা শ্যামনগর থানার পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে আটক করায়। খবর পেয়ে আমার মা পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং ১১ আগষ্ট সারাদিন থানায় অবস্থান করেন। বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আশিক, রুহুল আমিন ও পবিত্র কুমার মন্ডল অব্দুর রহিমের ব্যবহৃত সিআরভি গাড়ী নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে এবং পুলিশ পরিচয়ে পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর কথা বলে আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তারা অমাকে থানায় না নিয়ে আব্দুর রহিমের বংশিপুরস্থ রোজা ব্রিক্সের দোতালা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে আশিক ও রফিকুল অস্ত্রের মুখে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রথমে আব্দুর রহিম, রফিকুল, শফিকুল, রুহুল আমিন, পবিত্র ও আশিক পালাক্রমে জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষন করে।

পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই গাড়িতে করে ইসমাইলপুর রাস্তার পাশে একটি ফাকা স্থানে আমাকে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা অমাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ্য হয়ে শ্যামনগর থানায় উল্লেখিত ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তালবাহনা শুরু করে। উপায় না পেয়ে ২০ আগস্ট আমি নিজে বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

পুলিশ মামালা রেকর্ড করলেও আসামীদের গ্রেফতার করছে না। আমারা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না কারায় আশিক গংরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাকে ও মাকে হত্যা গুমসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় আমার মা ফজিলা কাতুন বাদি হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর অমাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ৭ ধারার মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। অনতিবিলম্বে মামলার অসামীদের গ্রেফতার না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। তিনি আসামিদের গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনে সোপর্দ করার জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ধর্ষণ মামলার অসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ধর্ষিতার আত্মহত্যার হুমকি

আপডেট সময় ১১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাতক্ষীরায় মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় পুলিশ ধর্ষন মামলার অসামি গ্রেফতার না করায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ারচক গ্রামের মুনছুর আলীর মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষীতা সালমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা খাতুন বলেন, তার বাবা মুনছুর আলী দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্রে বসবাস করায় তা মা ফজিলা খাতুন দীনমজুরের কাজ করে তাকে পড়া লেখা শিখানোর চেষ্টা করে আসছেন। সে স্থানীয় সিরাজপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়া আসার পথে কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আহম্মাদ শেখের ছেলে অশিক ও শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ার চক গ্রামের রফিকুলসহ কয়েকজন প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে আশিক ও রফিকুল গংরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ ও ধর্ষনের হুমকি দেয়।

ফলে তাদের ভয়ে মা আমার বিয়ের জন্য পাত্র খুজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ৮ আগষ্ট যশোরের মনিরামপুর এলাকা থেকে একটি পাত্র পক্ষ অমাকে দেখতে আসেন। ফিরে যাওয়ার পথে অশিক গংরা শ্যামনগর থানার পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে আটক করায়। খবর পেয়ে আমার মা পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং ১১ আগষ্ট সারাদিন থানায় অবস্থান করেন। বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আশিক, রুহুল আমিন ও পবিত্র কুমার মন্ডল অব্দুর রহিমের ব্যবহৃত সিআরভি গাড়ী নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে এবং পুলিশ পরিচয়ে পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর কথা বলে আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তারা অমাকে থানায় না নিয়ে আব্দুর রহিমের বংশিপুরস্থ রোজা ব্রিক্সের দোতালা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে আশিক ও রফিকুল অস্ত্রের মুখে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রথমে আব্দুর রহিম, রফিকুল, শফিকুল, রুহুল আমিন, পবিত্র ও আশিক পালাক্রমে জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষন করে।

পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই গাড়িতে করে ইসমাইলপুর রাস্তার পাশে একটি ফাকা স্থানে আমাকে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা অমাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ্য হয়ে শ্যামনগর থানায় উল্লেখিত ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তালবাহনা শুরু করে। উপায় না পেয়ে ২০ আগস্ট আমি নিজে বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

পুলিশ মামালা রেকর্ড করলেও আসামীদের গ্রেফতার করছে না। আমারা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না কারায় আশিক গংরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাকে ও মাকে হত্যা গুমসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় আমার মা ফজিলা কাতুন বাদি হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর অমাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ৭ ধারার মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। অনতিবিলম্বে মামলার অসামীদের গ্রেফতার না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। তিনি আসামিদের গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনে সোপর্দ করার জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।