ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর শরীরে আগুন দিল বান্ধবী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে স্বামীর সঙ্গে বান্ধবীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই বান্ধবী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বান্ধবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া পদ্মাপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গ্রহবধূকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ওই গৃহবধূর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকালে গুরুত্বর দগ্ধ রেখার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ। দগ্ধ গৃহবধূর রেখা (৪০) নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার কামরুল ইসলামের স্ত্রী। রেখার বাবার বাড়ি নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। আর রেখার বান্ধবির নাম ফেরদৌসি। তার বাড়ি দরগাপাড়া এলাকায়।

এদিকে, এ ঘটনায় রেখা বেগমের স্বামী কামরুল হুদা ও বান্ধবী ফেরদৌসিকে আসামী করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেখা বেগমের বড় ভাই নওশাদ আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি কামরুল হুদা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ।

তবে গ্রেফতারের পর ফেরদৌসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সে ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিল না।

রেখার ভাই নওশাদ আলী জানান, তার বোন জামাই কামরুল ইসলামের সঙ্গে রেখার ঘনিষ্ঠ বান্ধবি ফেরদৌসির পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেখা তাদের পরকিয়ায় বাধা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে দরগাপাড়া পদ্মা পাড়ে একা পেয়ে ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, পরকিয়ার জের ধরে রেখার সংসারে প্রায় সাত বছর ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এ থেকে পরিত্রান পেতে রেখা শাহ মখদুম রূপস (রা.) মাজারে মাগরিবের নামাজ আদায় ও দোয়া খায়ের করতে গিয়েছিল। নামাজ আদায় করে দরগা থেকে বের হয়ে পদ্মা পাড়ের দিকে যেতেই ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীন বলেন, তারা কয়েক বন্ধু মিলে পদ্মার পাড়ে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় বাঁধের উপরে এক নারীর শরীরে আগুন জ্বলতে তারা দেখতে পায়। ওই নারী শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। তার কাছ থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ রেখার জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। ফেরদৌসি তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে রেখা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেরদৌসিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান থানার এই কর্মকর্তা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর শরীরে আগুন দিল বান্ধবী

আপডেট সময় ০৫:০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে স্বামীর সঙ্গে বান্ধবীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই বান্ধবী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বান্ধবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া পদ্মাপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গ্রহবধূকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ওই গৃহবধূর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকালে গুরুত্বর দগ্ধ রেখার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ। দগ্ধ গৃহবধূর রেখা (৪০) নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার কামরুল ইসলামের স্ত্রী। রেখার বাবার বাড়ি নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। আর রেখার বান্ধবির নাম ফেরদৌসি। তার বাড়ি দরগাপাড়া এলাকায়।

এদিকে, এ ঘটনায় রেখা বেগমের স্বামী কামরুল হুদা ও বান্ধবী ফেরদৌসিকে আসামী করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেখা বেগমের বড় ভাই নওশাদ আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি কামরুল হুদা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ।

তবে গ্রেফতারের পর ফেরদৌসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সে ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিল না।

রেখার ভাই নওশাদ আলী জানান, তার বোন জামাই কামরুল ইসলামের সঙ্গে রেখার ঘনিষ্ঠ বান্ধবি ফেরদৌসির পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেখা তাদের পরকিয়ায় বাধা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে দরগাপাড়া পদ্মা পাড়ে একা পেয়ে ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, পরকিয়ার জের ধরে রেখার সংসারে প্রায় সাত বছর ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এ থেকে পরিত্রান পেতে রেখা শাহ মখদুম রূপস (রা.) মাজারে মাগরিবের নামাজ আদায় ও দোয়া খায়ের করতে গিয়েছিল। নামাজ আদায় করে দরগা থেকে বের হয়ে পদ্মা পাড়ের দিকে যেতেই ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীন বলেন, তারা কয়েক বন্ধু মিলে পদ্মার পাড়ে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় বাঁধের উপরে এক নারীর শরীরে আগুন জ্বলতে তারা দেখতে পায়। ওই নারী শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। তার কাছ থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ রেখার জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। ফেরদৌসি তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে রেখা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেরদৌসিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান থানার এই কর্মকর্তা।