ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

যে গ্রামে মানুষ-বাঘের শতবছরের পাশাপাশি বসবাস

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভারতের রাজস্থানের একটি খেয়ালি আধা শহর, আধা গ্রাম, যার নাম বেরা। শান্ত এ অঞ্চল রমরমা পর্যটন কেন্দ্রও। উদয়পুর ও যোধপুরের মাঝামাঝি এ অঞ্চল ‘চিতাবাঘের গ্রাম’ নামে পরিচিত।

এলাকার কাঁটাযুক্ত ছোট ছোট ঝোঁপে অন্তত ৯০টি চিতা বাঘের বাস। প্রায় হাজার বছর আগে ইরান থেকে আফগানিস্তান হয়ে রাজস্থানে পাড়ি জমানো রাখাল জনগোষ্ঠী রাবারির সঙ্গে বেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ওই বাঘগুলোর।

এখানে এ গোত্রের দীর্ঘকায় ও কোমলদেহী আদিবাসী পুরুষেরা গরু ও ভেড়ার পাল চড়ান। তাদের গায়ে থাকে সাদা ধুতি, লাল পাগড়ি ও রূপালি মাদুলি। কাঁধে লম্বা ছড়ি। তাদের অধিকাংশের মুখেই দীর্ঘ গোঁফ খেলা করে; সেগুলোকে তারা বেশ সৃজনশীল তরিকায় পাকিয়ে রাখেন।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাবারি গোত্রের সঙ্গে চিতাবাঘের সহাবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে একটি গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ।

বেরার সাফারি কোম্পানি জাওয়াই ওয়াইল্ড ক্যাম্পের মালিক দিলীপ সিং দেওরা বলেছেন, ‘রাবারিরা অভিভাবকতুল্য দেবতা হিসেবে পশুদের মান্য ও পূজা করেন। চিতাবাঘ কোনো রাবারির প্রাণ কেড়ে নিলে এই গোত্রের লোকেরা ওই শিকারি প্রাণীকে বাধা দেন না। তাদের বিশ্বাস, নিজের প্রতি উৎসর্গকৃত এই প্রাণবলির বিনিময়ে শিব তাদের পালিত পশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেবেন এবং তাদের পুরস্কৃত করবেন।’

চারপাশে ছড়িয়ে থাকা দেবি মন্দিরগুলোতে ওই শিকারি প্রাণীগুলোর অবাধ বিচরণ। বেড়ার ১০-১২টি গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক মন্দির। ‘গ্রামের মন্দিরে চিতাবাঘের এমন বিচরণ অনেক পর্যটককে বিস্মিত করে; সেই পরিবেশেই পুরোহিতকে দৈনন্দিন আরাধনা করতে দেখা তারা রীতিমতো চমকে যান,’ হাসি মুখে বলেন দেওরা। ‘তবু, বেরার প্রাত্যহিক জীবন বরাবরই এমন।’

চিতাবাঘের সংখ্যা দিন-দিন বাড়তে থাকায় স্থানীয় সাফারি প্যাকেজগুলো একটা সুনিশ্চিয়তা দিতেই পারে: ‘চিতাবাঘের দেখা না পেলে পয়সা ফেরত!’ পর্যটকের সংখ্যা দিন-দিন বাড়ার পাশাপাশি এখানে বছরের পর বছর ধরে গবেষক ও পক্ষীবিজ্ঞানীদেরও দেখা মেলে।

মানুষ ও পশুর এমন সহাবস্থান এই অঞ্চল অনন্য করে তুলেছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বাঘ, বিশেষ করে চিতাবাঘ মানুষের ওপর আক্রমণকারী হিসেবেই পরিচিত। খাদ্যসংকট, আবাস দখল, নির্বিচারে অবকাঠামো নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে ওইসব অঞ্চল বাঘের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

যে গ্রামে মানুষ-বাঘের শতবছরের পাশাপাশি বসবাস

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভারতের রাজস্থানের একটি খেয়ালি আধা শহর, আধা গ্রাম, যার নাম বেরা। শান্ত এ অঞ্চল রমরমা পর্যটন কেন্দ্রও। উদয়পুর ও যোধপুরের মাঝামাঝি এ অঞ্চল ‘চিতাবাঘের গ্রাম’ নামে পরিচিত।

এলাকার কাঁটাযুক্ত ছোট ছোট ঝোঁপে অন্তত ৯০টি চিতা বাঘের বাস। প্রায় হাজার বছর আগে ইরান থেকে আফগানিস্তান হয়ে রাজস্থানে পাড়ি জমানো রাখাল জনগোষ্ঠী রাবারির সঙ্গে বেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ওই বাঘগুলোর।

এখানে এ গোত্রের দীর্ঘকায় ও কোমলদেহী আদিবাসী পুরুষেরা গরু ও ভেড়ার পাল চড়ান। তাদের গায়ে থাকে সাদা ধুতি, লাল পাগড়ি ও রূপালি মাদুলি। কাঁধে লম্বা ছড়ি। তাদের অধিকাংশের মুখেই দীর্ঘ গোঁফ খেলা করে; সেগুলোকে তারা বেশ সৃজনশীল তরিকায় পাকিয়ে রাখেন।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাবারি গোত্রের সঙ্গে চিতাবাঘের সহাবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে একটি গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ।

বেরার সাফারি কোম্পানি জাওয়াই ওয়াইল্ড ক্যাম্পের মালিক দিলীপ সিং দেওরা বলেছেন, ‘রাবারিরা অভিভাবকতুল্য দেবতা হিসেবে পশুদের মান্য ও পূজা করেন। চিতাবাঘ কোনো রাবারির প্রাণ কেড়ে নিলে এই গোত্রের লোকেরা ওই শিকারি প্রাণীকে বাধা দেন না। তাদের বিশ্বাস, নিজের প্রতি উৎসর্গকৃত এই প্রাণবলির বিনিময়ে শিব তাদের পালিত পশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেবেন এবং তাদের পুরস্কৃত করবেন।’

চারপাশে ছড়িয়ে থাকা দেবি মন্দিরগুলোতে ওই শিকারি প্রাণীগুলোর অবাধ বিচরণ। বেড়ার ১০-১২টি গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক মন্দির। ‘গ্রামের মন্দিরে চিতাবাঘের এমন বিচরণ অনেক পর্যটককে বিস্মিত করে; সেই পরিবেশেই পুরোহিতকে দৈনন্দিন আরাধনা করতে দেখা তারা রীতিমতো চমকে যান,’ হাসি মুখে বলেন দেওরা। ‘তবু, বেরার প্রাত্যহিক জীবন বরাবরই এমন।’

চিতাবাঘের সংখ্যা দিন-দিন বাড়তে থাকায় স্থানীয় সাফারি প্যাকেজগুলো একটা সুনিশ্চিয়তা দিতেই পারে: ‘চিতাবাঘের দেখা না পেলে পয়সা ফেরত!’ পর্যটকের সংখ্যা দিন-দিন বাড়ার পাশাপাশি এখানে বছরের পর বছর ধরে গবেষক ও পক্ষীবিজ্ঞানীদেরও দেখা মেলে।

মানুষ ও পশুর এমন সহাবস্থান এই অঞ্চল অনন্য করে তুলেছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বাঘ, বিশেষ করে চিতাবাঘ মানুষের ওপর আক্রমণকারী হিসেবেই পরিচিত। খাদ্যসংকট, আবাস দখল, নির্বিচারে অবকাঠামো নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে ওইসব অঞ্চল বাঘের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।