ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

ভারতই প্রমাণ করে সে কারও বন্ধু নয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ যেদিন ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু করলো, ঠিক সেদিনই দিল্লি জানালো তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তবে সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই তারা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। গত বছর ভারত এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষের দিকে। আর এ বছর একটু আগেই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো।

কয়েকদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্তের ঋণে আবদ্ধ বলে বাংলাদেশের কোনো কোনো মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ভারত যে কারও বন্ধু হয় না, সেটা তারা বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। গতকাল নতুন করে তারা এর আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখালো। ভারত প্রমাণ করলো যে, বন্ধুত্ব দূরে থাক, ন্যূনতম সৌজন্যবোধও তাদের নেই। কারণ বাংলাদেশের ইলিশের প্রথম শিপমেন্ট যেদিন বেনাপোল পৌঁছালো, সেদিনই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল। সৌজন্যবোধ থাকলে দু’এক পরে তারা এই ঘোষণা দিতে পারতো। বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্যই এই ‘হঠাৎ ঘোষণা’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু পেঁয়াজ নয়, এর আগেও ভারত একাধিকবার বাংলাদেশের ব্যাপারে হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য অনিভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যেমন- বারবার আমরা বলছি যে, সীমান্তহত্যা যেন বন্ধ হয়, কিন্তু নিয়মিতই এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তিস্তার পানি আরেকটি পুরোনো ইস্যু, যেটা নিয়ে কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন ক্লান্ত। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারতের কাছে আর কিছু প্রত্যাশাও করে না। রোহিঙ্গা সংকটেও ভারত বাংলাদেশের পাশে তো দাঁড়ায়ইনি, উল্টো জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এ রকম আরও অনেক ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ভারত বন্ধুবেশে কেবল বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণই করে গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তখনই বাংলাদেশে ছুটে আসেন, যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ চীনা কোম্পানি পায় বা সিলেট বিমানবন্দরের কাজ যখন চীনা কোম্পানীকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভারত শুধু একটাই কথা ‘আমার এটা চাই আমার ওটা চাই।’ নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও ভারতের নীতি ঠিক একই রকম। কদিন আগেই তারা নেপালে সার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন এবং সার রপ্তানির ব্যাপারে বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে সার দিতে সম্মত হন।

একটা সময় বলা হতো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সার্ক অঞ্চলেও কি ভারতের ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতই প্রমাণ করে সে কারও বন্ধু নয়

আপডেট সময় ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ যেদিন ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু করলো, ঠিক সেদিনই দিল্লি জানালো তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তবে সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই তারা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। গত বছর ভারত এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষের দিকে। আর এ বছর একটু আগেই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো।

কয়েকদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্তের ঋণে আবদ্ধ বলে বাংলাদেশের কোনো কোনো মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ভারত যে কারও বন্ধু হয় না, সেটা তারা বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। গতকাল নতুন করে তারা এর আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখালো। ভারত প্রমাণ করলো যে, বন্ধুত্ব দূরে থাক, ন্যূনতম সৌজন্যবোধও তাদের নেই। কারণ বাংলাদেশের ইলিশের প্রথম শিপমেন্ট যেদিন বেনাপোল পৌঁছালো, সেদিনই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল। সৌজন্যবোধ থাকলে দু’এক পরে তারা এই ঘোষণা দিতে পারতো। বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্যই এই ‘হঠাৎ ঘোষণা’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু পেঁয়াজ নয়, এর আগেও ভারত একাধিকবার বাংলাদেশের ব্যাপারে হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য অনিভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যেমন- বারবার আমরা বলছি যে, সীমান্তহত্যা যেন বন্ধ হয়, কিন্তু নিয়মিতই এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তিস্তার পানি আরেকটি পুরোনো ইস্যু, যেটা নিয়ে কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন ক্লান্ত। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারতের কাছে আর কিছু প্রত্যাশাও করে না। রোহিঙ্গা সংকটেও ভারত বাংলাদেশের পাশে তো দাঁড়ায়ইনি, উল্টো জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এ রকম আরও অনেক ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ভারত বন্ধুবেশে কেবল বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণই করে গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তখনই বাংলাদেশে ছুটে আসেন, যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ চীনা কোম্পানি পায় বা সিলেট বিমানবন্দরের কাজ যখন চীনা কোম্পানীকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভারত শুধু একটাই কথা ‘আমার এটা চাই আমার ওটা চাই।’ নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও ভারতের নীতি ঠিক একই রকম। কদিন আগেই তারা নেপালে সার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন এবং সার রপ্তানির ব্যাপারে বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে সার দিতে সম্মত হন।

একটা সময় বলা হতো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সার্ক অঞ্চলেও কি ভারতের ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য?