ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভারতই প্রমাণ করে সে কারও বন্ধু নয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ যেদিন ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু করলো, ঠিক সেদিনই দিল্লি জানালো তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তবে সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই তারা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। গত বছর ভারত এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষের দিকে। আর এ বছর একটু আগেই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো।

কয়েকদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্তের ঋণে আবদ্ধ বলে বাংলাদেশের কোনো কোনো মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ভারত যে কারও বন্ধু হয় না, সেটা তারা বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। গতকাল নতুন করে তারা এর আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখালো। ভারত প্রমাণ করলো যে, বন্ধুত্ব দূরে থাক, ন্যূনতম সৌজন্যবোধও তাদের নেই। কারণ বাংলাদেশের ইলিশের প্রথম শিপমেন্ট যেদিন বেনাপোল পৌঁছালো, সেদিনই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল। সৌজন্যবোধ থাকলে দু’এক পরে তারা এই ঘোষণা দিতে পারতো। বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্যই এই ‘হঠাৎ ঘোষণা’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু পেঁয়াজ নয়, এর আগেও ভারত একাধিকবার বাংলাদেশের ব্যাপারে হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য অনিভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যেমন- বারবার আমরা বলছি যে, সীমান্তহত্যা যেন বন্ধ হয়, কিন্তু নিয়মিতই এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তিস্তার পানি আরেকটি পুরোনো ইস্যু, যেটা নিয়ে কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন ক্লান্ত। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারতের কাছে আর কিছু প্রত্যাশাও করে না। রোহিঙ্গা সংকটেও ভারত বাংলাদেশের পাশে তো দাঁড়ায়ইনি, উল্টো জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এ রকম আরও অনেক ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ভারত বন্ধুবেশে কেবল বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণই করে গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তখনই বাংলাদেশে ছুটে আসেন, যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ চীনা কোম্পানি পায় বা সিলেট বিমানবন্দরের কাজ যখন চীনা কোম্পানীকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভারত শুধু একটাই কথা ‘আমার এটা চাই আমার ওটা চাই।’ নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও ভারতের নীতি ঠিক একই রকম। কদিন আগেই তারা নেপালে সার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন এবং সার রপ্তানির ব্যাপারে বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে সার দিতে সম্মত হন।

একটা সময় বলা হতো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সার্ক অঞ্চলেও কি ভারতের ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ভারতই প্রমাণ করে সে কারও বন্ধু নয়

আপডেট সময় ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ যেদিন ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু করলো, ঠিক সেদিনই দিল্লি জানালো তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তবে সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই তারা পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। গত বছর ভারত এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষের দিকে। আর এ বছর একটু আগেই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো।

কয়েকদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্তের ঋণে আবদ্ধ বলে বাংলাদেশের কোনো কোনো মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ভারত যে কারও বন্ধু হয় না, সেটা তারা বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। গতকাল নতুন করে তারা এর আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখালো। ভারত প্রমাণ করলো যে, বন্ধুত্ব দূরে থাক, ন্যূনতম সৌজন্যবোধও তাদের নেই। কারণ বাংলাদেশের ইলিশের প্রথম শিপমেন্ট যেদিন বেনাপোল পৌঁছালো, সেদিনই তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল। সৌজন্যবোধ থাকলে দু’এক পরে তারা এই ঘোষণা দিতে পারতো। বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্যই এই ‘হঠাৎ ঘোষণা’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু পেঁয়াজ নয়, এর আগেও ভারত একাধিকবার বাংলাদেশের ব্যাপারে হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য অনিভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যেমন- বারবার আমরা বলছি যে, সীমান্তহত্যা যেন বন্ধ হয়, কিন্তু নিয়মিতই এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তিস্তার পানি আরেকটি পুরোনো ইস্যু, যেটা নিয়ে কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন ক্লান্ত। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারতের কাছে আর কিছু প্রত্যাশাও করে না। রোহিঙ্গা সংকটেও ভারত বাংলাদেশের পাশে তো দাঁড়ায়ইনি, উল্টো জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এ রকম আরও অনেক ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ভারত বন্ধুবেশে কেবল বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণই করে গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তখনই বাংলাদেশে ছুটে আসেন, যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ চীনা কোম্পানি পায় বা সিলেট বিমানবন্দরের কাজ যখন চীনা কোম্পানীকে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভারত শুধু একটাই কথা ‘আমার এটা চাই আমার ওটা চাই।’ নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও ভারতের নীতি ঠিক একই রকম। কদিন আগেই তারা নেপালে সার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন এবং সার রপ্তানির ব্যাপারে বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে সার দিতে সম্মত হন।

একটা সময় বলা হতো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সার্ক অঞ্চলেও কি ভারতের ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য?