আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার চিকিৎসাধীন রোগীর বোনকে উত্যক্ত করা এবং তার সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগে একটি ক্লিনিকের পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হয়রানীর শিকার নারী বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে এই মামলা দায়ের করেন।
রোগীর স্বজনকে উত্যক্ত করার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাত ৮ টার দিকে উজিরপুর থানা পুলিশ ওই উপজেলার পশ্চিম সাতলা এলাকার মায়ের দোয়া ক্লিনিক থেকে পরিচালক রেজাউল করিমকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতার কারণে এক নারীকে তার স্বজনরা মায়ের দোয়া ক্লিনিকে ভর্তি করেন। রোগীর সেবার জন্য তার ছোট বোন ক্লিনিকে ছিলেন। ছোট বোনের দিকে নজর পড়ে ক্লিনিকের পরিচালক রেজাউল করিমের।
ভুক্তভোগী জানান, রেজাউল করিম তাকে ফোনে একান্তে তার নিজের কক্ষে যাওয়ার আহবান জানায়। এতে সাড়া না দেওয়ায় তাকে নানা প্রলোভন দেখানো হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় তাকে স্থানীয় বখাটে দিয়ে ধর্ষণের হুমকি-ধামকি দেয় সে। একইভাবে আরও অনেকের সাথে রেজাউল করিমের অশালীন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন ক্লিনিকের পরিচালক রেজাউল করিম।
উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, উত্যক্ত করার ঘটনায় তরুণী নিজে বাদী হয়ে রেজাউলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, পরিচালক রেজাউল করিম নিজের ক্লিনিকে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। তার চিকিৎসা সনদ নিয়ে সন্দেহ থাকায় দেড় বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রোগী ও তাদের স্বজনদের যৌন হয়রানি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে ওসি জানান।
স্থানীয়রা জানান, রেজাউল ওই এলাকায় একটি বাহিনী তৈরি করেছে। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি উজিরপুরের সাংবাদিক কল্যান চন্দ্র তার ক্লিনিকের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য এবং ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাকে বেদম মারধর করে রেজাউল বাহিনী। মারধরে কল্যান চন্দ্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি ভারতে চিকিৎসা নেন।
রেজাউলকে আটকের খবরে নির্যাতিত অনেকে মামলা দায়ের করার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























