ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রাজশাহীর চাঞ্চল্যকর শিশু আলিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চাঞ্চল্যকর সাত বছর বয়সী শিশু আজমাইন সারোয়ার আলিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক নারীসহ দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ওই নারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শিশু আলিফ উপজেলার চকশিমুলিয়া গ্রামের মো. তারেকের ছেলে। গত ৯ আগস্ট কালুহাটি এলাকায় বড়াল নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশু আলিফের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন আলিফের মা চম্পা বেগম। পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে।

শিশু আলিফকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার দুজন হলেন- চকশিমুলিয়া গ্রামের পারভীন বেগম (৩৫) ও আজাদ আলী (৪২)। এদের মধ্যে পারভীন নিহত শিশু আলিফের মামি। আর আজাদ হলেন পারভীনের সহযোগী।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম শুক্রবার দুপুরে জানান, থানায় হত্যামামলা দায়েরের পর আসামি পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে পারভীন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সব খুলে বলেন। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজাদকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পারভীন এবং তার গ্রামের মাদকাসক্ত ব্যক্তি আজাদ গত ৭ আগস্ট শিশু আলিফকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক পরদিন শিশুটিকে কোলে নিয়ে পারভীন তার বাড়ির সামনে রাস্তায় আগে থেকেই অপেক্ষমান আসামি আজাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এরপর আজাদ শিশুটিকে বড়াল নদীতে ফেলে দিয়ে তার শরীরে থাকা রুপার চেইন ও কোমরের বিছা আসামি পারভীনকে এনে দেন। এ সময় পারভীন আজাদকে ৩০০ টাকা দেন।

আসামি পারভীনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার বসতবাড়ির ভেতর আঙিনায় লিচুগাছের তলায় আবর্জনার স্তূপের নিচে মাটিতে পুতে রাখা অবস্থায় শিশু আলিফের গলার চেইন ও কোমরের বিছা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার আসামি পারভীন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। আসামি আজাদকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার রহস্য উদঘাটন হওয়ায় দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রাজশাহীর চাঞ্চল্যকর শিশু আলিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

আপডেট সময় ০৫:৪২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চাঞ্চল্যকর সাত বছর বয়সী শিশু আজমাইন সারোয়ার আলিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক নারীসহ দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ওই নারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শিশু আলিফ উপজেলার চকশিমুলিয়া গ্রামের মো. তারেকের ছেলে। গত ৯ আগস্ট কালুহাটি এলাকায় বড়াল নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশু আলিফের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন আলিফের মা চম্পা বেগম। পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে।

শিশু আলিফকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার দুজন হলেন- চকশিমুলিয়া গ্রামের পারভীন বেগম (৩৫) ও আজাদ আলী (৪২)। এদের মধ্যে পারভীন নিহত শিশু আলিফের মামি। আর আজাদ হলেন পারভীনের সহযোগী।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম শুক্রবার দুপুরে জানান, থানায় হত্যামামলা দায়েরের পর আসামি পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে পারভীন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সব খুলে বলেন। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজাদকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পারভীন এবং তার গ্রামের মাদকাসক্ত ব্যক্তি আজাদ গত ৭ আগস্ট শিশু আলিফকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক পরদিন শিশুটিকে কোলে নিয়ে পারভীন তার বাড়ির সামনে রাস্তায় আগে থেকেই অপেক্ষমান আসামি আজাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এরপর আজাদ শিশুটিকে বড়াল নদীতে ফেলে দিয়ে তার শরীরে থাকা রুপার চেইন ও কোমরের বিছা আসামি পারভীনকে এনে দেন। এ সময় পারভীন আজাদকে ৩০০ টাকা দেন।

আসামি পারভীনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার বসতবাড়ির ভেতর আঙিনায় লিচুগাছের তলায় আবর্জনার স্তূপের নিচে মাটিতে পুতে রাখা অবস্থায় শিশু আলিফের গলার চেইন ও কোমরের বিছা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার আসামি পারভীন দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। আসামি আজাদকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার রহস্য উদঘাটন হওয়ায় দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম।