আকাশ আইসিটি ডেস্ক :
দেশব্যাপী ইন্টারনেটে ধীরগতির পাশাপাশি তিন দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পটুয়াখালীতে সাবমেরিন ক্যাবল-২-এর ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রোববার সকাল ১১টার দিকে পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ে। তারপর থেকে দেশে ইন্টারনেটে গতি কমে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ক্যাবলটি মেরামত করে গতি ফিরিয়ে আনতে রোববার রাত ১২টা বেজে যেতে পারে।
অপর দিকে, কোনো ধরনের অগ্রিম নোটিশ ও অবকাঠামো তৈরি করে না দিয়ে তিন দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ওভারহেড তার কেটে ফেলায় রাজধানীর অনেক এলাকায় ইন্টারনেট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস নিচ্ছে। কিন্তু তিন দিন ধরে তারা এসব ক্লাস করতে পারছে না। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ইন্টারনেট বিপর্যয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ধানমণ্ডি এলাকার ছাত্রছাত্রীরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের অলিগলিতে বিপজ্জনকভাবে রাস্তাঘাটে তারের জঞ্জাল থাকলেও এসবের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অ্যাকশন নেয়নি।
এখন করোনাভাইরাসের কারণে যখন তাদের ইন্টারনেট প্রয়োজন তখন সরকার এসব লাইন কেটে দিচ্ছে। এটা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। তিন দিন ধরে তারা কোনো ধরনের ভার্চুয়াল ক্লাস করতে পারছেন না। জানা গেছে, তিন দিন ধরে রাজধানীর ধানমণ্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, বঙ্গবাজার এলাকায় রাস্তায় ঝুলে থাকা তার কেটে ফেলায় এসব এলাকার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপি) নেতারা বলেছেন, রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার অলিগলিতে এখনও আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক তৈরি হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা ওভারহেড তার দিয়ে গ্রাহকদের ইন্টারনেট দিচ্ছেন।
তাদের বক্তব্য একমাত্র গুলশান, বনানী, মহাখালী, নিকেতন, মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় অলিগলির রাস্তা এমনকি হাউস টু হাউস আন্ডারগ্রাউন্ড ইন্টারন্টে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে সরকার। এছাড়া বাকি এলাকার প্রধান সড়ক ছাড়া অলিগলিতে এখনও আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক তৈরি হয়নি। যার কারণে আইএসপি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়ে ঝুলানো তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি বলে, গত তিন দিনে এভাবে বিনা নোটিশে তাদের তার কেটে ফেলায় কমপক্ষে দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
সাবমেরিন পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ায় ইন্টারনেটের গতি কম : দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-৫) পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়ায় দেশে ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে। দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘মূল ক্যাবল নয়, পাওয়ার ক্যাবল কাটা পড়েছে। এতে রিপিটারে বিদ্যুৎ যাচ্ছে না। এজন্য ব্যান্ডউইথ পেতে সমস্যা হচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবল ১ ও আইটিসি দিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। এতে গতি ধীর হয়ে গেছে। তিনি জানান, ৪০-৫০ শতাংশ গতি কমে গেছে। জানা গেছে, ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকায় খারাপ আবহাওয়া থাকায় পাওয়ার ক্যাবল মেরামতে সময় লাগছে। রাতের মধ্যেই (রোববার রাত) মেরামত সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) জানিয়েছে, কুয়াকাটায় সাবমেরিন ক্যাবলের লাইনে সমস্যা হয়েছে। বিএসসিসিএল লাইন মেরামতে কাজ করছে। আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠান লেভেল-থ্রি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনায়েদ আহমেদ বলেন, পাওয়ার ক্যাবল কাটার পরপরই আমরা জানতে পারি। আমাদের জানানো হয়, ৭ ঘণ্টার মধ্যে (সন্ধ্যা ৬টা) মেরামত কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জেনেছি কুয়াকাটা এলাকায় খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করায় পাওয়ার ক্যাবল মেরামতে দেরি হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা গতিবিষয়ক সমস্যায় পড়েছেন। তিনি জানান, সাবমেরিন ক্যাবল-১ ও আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল) মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যান্ডউইথ দিয়ে আমরা ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছি। এতে সেবার মান খারাপ হচ্ছে। গতি অনেক কমে গেছে। তিনি আরও জানান, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগাযোগ এখন বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে এক হাজার ৭৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি আসে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























