ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাইগ্রেন মনে হলেও যে সমস্যাগুলো অন্য রোগের ইঙ্গিত

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

মাথাব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ। কারও ক্ষেত্রে এটি মাইগ্রেন, কারও সাইনোসাইটিস বা স্ট্রেসজনিত হেডেক। তবে তীব্র মাথাব্যথা হলেই যে সেটি মাইগ্রেন—তা কিন্তু সব সময় ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও এর পেছনে ভিন্ন ও জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।

মাইগ্রেন মূলত একটি নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, যার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং আলো ও শব্দে অতিসংবেদনশীলতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথায় ভোগেন, যার মধ্যে মাইগ্রেনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ তৈরি না করলেও এমন কিছু অসুস্থতা আছে, যেগুলোর লক্ষণ মাইগ্রেনের সঙ্গে মিলে যায় এবং অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। এমন কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হলো—

স্ট্রোক: হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা:

স্ট্রোকের সময় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হতে পারে। তবে স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত আকস্মিকভাবে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে মুখ বা হাত নড়াতে সমস্যা, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। মাইগ্রেনের মতো এটি ধীরে ধীরে বাড়ে না।

হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্ক:

বিশেষ করে অরাসহ মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক কিছুটা বেশি হতে পারে। অরা বলতে চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখাকে বোঝায়। এ কারণে মাইগ্রেন ও হৃদরোগের মধ্যে একটি পরোক্ষ সম্পর্কের কথা চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেন।

খিঁচুনি বা ফোকাল সমস্যা:

কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের অরার লক্ষণ খিঁচুনির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। যেমন—হঠাৎ বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অল্প সময়ের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকদের ধারণা, কিছু ধরনের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মধ্যে জিনগত যোগসূত্র থাকতে পারে।

মাইগ্রেনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিরল সমস্যা হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, যা কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। যদিও এটি খুব কম ক্ষেত্রে ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের তুলনায় মাইগ্রেন রোগীদের মধ্যে এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা:

মাইগ্রেনের সঙ্গে অ্যাংজাইটি ও ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, এ সমস্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলেও কোনটি কোনটির কারণ—তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

কখন সতর্ক হবেন?

মাথাব্যথা যদি হঠাৎ খুব তীব্র হয়, সঙ্গে হাত বা মুখ নাড়াতে অসুবিধা দেখা দেয় কিংবা কথা এলোমেলো হয়ে যায়, তাহলে সেটিকে শুধু মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ স্ট্রোক, খিঁচুনি বা অন্য গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যথানাশক বা বিশ্রামে কাজ না হলে দ্রুত হেডেক স্পেশালিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মাইগ্রেন মনে হলেও যে সমস্যাগুলো অন্য রোগের ইঙ্গিত

আপডেট সময় ০২:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

মাথাব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ। কারও ক্ষেত্রে এটি মাইগ্রেন, কারও সাইনোসাইটিস বা স্ট্রেসজনিত হেডেক। তবে তীব্র মাথাব্যথা হলেই যে সেটি মাইগ্রেন—তা কিন্তু সব সময় ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও এর পেছনে ভিন্ন ও জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।

মাইগ্রেন মূলত একটি নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, যার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং আলো ও শব্দে অতিসংবেদনশীলতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথায় ভোগেন, যার মধ্যে মাইগ্রেনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন নিজে অন্য রোগ তৈরি না করলেও এমন কিছু অসুস্থতা আছে, যেগুলোর লক্ষণ মাইগ্রেনের সঙ্গে মিলে যায় এবং অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। এমন কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হলো—

স্ট্রোক: হঠাৎ ভয়াবহ মাথাব্যথা:

স্ট্রোকের সময় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হতে পারে। তবে স্ট্রোকের ব্যথা সাধারণত আকস্মিকভাবে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে মুখ বা হাত নড়াতে সমস্যা, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। মাইগ্রেনের মতো এটি ধীরে ধীরে বাড়ে না।

হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্ক:

বিশেষ করে অরাসহ মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক কিছুটা বেশি হতে পারে। অরা বলতে চোখের সামনে আলো ঝলমল করা বা দাগ দেখাকে বোঝায়। এ কারণে মাইগ্রেন ও হৃদরোগের মধ্যে একটি পরোক্ষ সম্পর্কের কথা চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেন।

খিঁচুনি বা ফোকাল সমস্যা:

কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের অরার লক্ষণ খিঁচুনির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। যেমন—হঠাৎ বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অল্প সময়ের জন্য অচেতন ভাব। গবেষকদের ধারণা, কিছু ধরনের খিঁচুনি ও মাইগ্রেনের মধ্যে জিনগত যোগসূত্র থাকতে পারে।

মাইগ্রেনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিরল সমস্যা হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, যা কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। যদিও এটি খুব কম ক্ষেত্রে ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের তুলনায় মাইগ্রেন রোগীদের মধ্যে এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা:

মাইগ্রেনের সঙ্গে অ্যাংজাইটি ও ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, এ সমস্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলেও কোনটি কোনটির কারণ—তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

কখন সতর্ক হবেন?

মাথাব্যথা যদি হঠাৎ খুব তীব্র হয়, সঙ্গে হাত বা মুখ নাড়াতে অসুবিধা দেখা দেয় কিংবা কথা এলোমেলো হয়ে যায়, তাহলে সেটিকে শুধু মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ স্ট্রোক, খিঁচুনি বা অন্য গুরুতর নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যথানাশক বা বিশ্রামে কাজ না হলে দ্রুত হেডেক স্পেশালিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।