ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

১০ বছর পরও সুয়ারেসকে ক্ষমা করতে পারেননি ঘানাইয়ানরা

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

‘আমার জন্য, উরুগুয়ের ম্যাচটি ছিল এমন এক ম্যাচ, ভেবেছিলাম আমরা জিতবো,’ কথাটা জন পেইন্টসিলের। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ঘানার রক্ষণভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আজ যখন পেছনের দিকে ফিরে তাকান, তখন হয়তো তাকে দুঃসময়ের মতো তাড়া করে সেই দিনের স্মৃতি। না হলে এমনভাবে কথাটা বলতেন না ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ফুলব্যাক।

জেতার কথা ভাবলেও জিতেনি ঘানা। যাদের সামনে ছিল ইতিহাসের হাতছানি। ২০১০ বিশ্বকাপে জোহানাসবার্গের কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে যেতো আফ্রিকান দেশটি।

কিন্তু দুর্ভাগ্য বলতে হবে ঘানাইয়ানদের। সঙ্গে এটাও বলতে হবে, ‘প্রতারণা’র শিকার হয়েছিলেন তারা। আর সেই ‘প্রতারক’ ছিলেন লুইস সুয়ারেস। উরুগুয়ের জন্য রাতারাতি নায়ক বনে গেলেও ঘানাইয়ানদের চোখে এখনও প্রতারক তিনি। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডকে ক্ষমা করতে পারেনি তারা।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ঘানা ম্যাচটিতে প্রথমার্ধের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে সাবেক এসি মিলান মিডফিল্ডার মুনতারির গোলে এগিয়ে যায়। বিরতি থেকে ফিরে ৫৫তম মিনিটে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দিয়েগো ফোরলান।

সুয়ারেসকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি। পরে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল করতে ব্যর্থ হয় দু’দল। বলা চলে, ঘানাকে গোল করতে দেননি সুয়ারেস। তাদের ভাগ্য কেড়ে নিয়েছিলেন বার্সা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে অর্থাৎ ১২০তম মিনিটে ঘানার এক নিশ্চিত গোল হাত দিয়ে রুখে দিয়েছিলেন তিনি। তার জন্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুয়ারেস। কিন্তু সেই এক চাতুরিতে উরুগুয়েকে তুলে দেন সেমিতে। ভাগ্যের খেলা টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় ঘানা।

এখনও অনেকের চোখে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা হয়ে আছে ম্যাচটি। এখনও সবার মুখে মুখে ফেরে ম্যাচটির কথা। নিজ দেশের সমর্থকদের কাছে নায়ক হয়ে ওঠা সুয়ারেসের সেদিনের এই চাতুরি কেমন লেগেছিল ঘানাইয়ানদের? তারা কি এখনও সেই দুঃখ ভুলতে পেরেছে? ক্ষমা করতে পেরেছে স্বপ্ন ভঙ্গের ‘ভিলেন’ সুয়ারেসকে?

আজ সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ১০ বছর পূর্ণ হলো। ২০১০ সালের ০২ জূলাই হয়েছিল রোমাঞ্চকর ম্যাচটি। ঘানার তখনকার ডিফেন্ডার পেইন্টসিল সেই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার জন্য এখনও ক্ষমা করতে পারেননি সুয়ারেসকে। ওয়েস্ট হ্যাম ও ফুলহ্যামের সাবেক তারকা বলেন, ‘আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছিলাম। লাইন থেকে তোমার (সুয়ারেস) হাত বলটি ক্লিয়ার করেছে, ওটা নিশ্চিত গোল হতো। আমি তাকে এখনও ক্ষমা করতে পারিনি কারণ এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

১০ বছর পরও সুয়ারেসকে ক্ষমা করতে পারেননি ঘানাইয়ানরা

আপডেট সময় ০৯:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

‘আমার জন্য, উরুগুয়ের ম্যাচটি ছিল এমন এক ম্যাচ, ভেবেছিলাম আমরা জিতবো,’ কথাটা জন পেইন্টসিলের। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ঘানার রক্ষণভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আজ যখন পেছনের দিকে ফিরে তাকান, তখন হয়তো তাকে দুঃসময়ের মতো তাড়া করে সেই দিনের স্মৃতি। না হলে এমনভাবে কথাটা বলতেন না ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ফুলব্যাক।

জেতার কথা ভাবলেও জিতেনি ঘানা। যাদের সামনে ছিল ইতিহাসের হাতছানি। ২০১০ বিশ্বকাপে জোহানাসবার্গের কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে যেতো আফ্রিকান দেশটি।

কিন্তু দুর্ভাগ্য বলতে হবে ঘানাইয়ানদের। সঙ্গে এটাও বলতে হবে, ‘প্রতারণা’র শিকার হয়েছিলেন তারা। আর সেই ‘প্রতারক’ ছিলেন লুইস সুয়ারেস। উরুগুয়ের জন্য রাতারাতি নায়ক বনে গেলেও ঘানাইয়ানদের চোখে এখনও প্রতারক তিনি। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডকে ক্ষমা করতে পারেনি তারা।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ঘানা ম্যাচটিতে প্রথমার্ধের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে সাবেক এসি মিলান মিডফিল্ডার মুনতারির গোলে এগিয়ে যায়। বিরতি থেকে ফিরে ৫৫তম মিনিটে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান সেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দিয়েগো ফোরলান।

সুয়ারেসকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি। পরে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল করতে ব্যর্থ হয় দু’দল। বলা চলে, ঘানাকে গোল করতে দেননি সুয়ারেস। তাদের ভাগ্য কেড়ে নিয়েছিলেন বার্সা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে অর্থাৎ ১২০তম মিনিটে ঘানার এক নিশ্চিত গোল হাত দিয়ে রুখে দিয়েছিলেন তিনি। তার জন্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুয়ারেস। কিন্তু সেই এক চাতুরিতে উরুগুয়েকে তুলে দেন সেমিতে। ভাগ্যের খেলা টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় ঘানা।

এখনও অনেকের চোখে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা হয়ে আছে ম্যাচটি। এখনও সবার মুখে মুখে ফেরে ম্যাচটির কথা। নিজ দেশের সমর্থকদের কাছে নায়ক হয়ে ওঠা সুয়ারেসের সেদিনের এই চাতুরি কেমন লেগেছিল ঘানাইয়ানদের? তারা কি এখনও সেই দুঃখ ভুলতে পেরেছে? ক্ষমা করতে পেরেছে স্বপ্ন ভঙ্গের ‘ভিলেন’ সুয়ারেসকে?

আজ সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ১০ বছর পূর্ণ হলো। ২০১০ সালের ০২ জূলাই হয়েছিল রোমাঞ্চকর ম্যাচটি। ঘানার তখনকার ডিফেন্ডার পেইন্টসিল সেই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার জন্য এখনও ক্ষমা করতে পারেননি সুয়ারেসকে। ওয়েস্ট হ্যাম ও ফুলহ্যামের সাবেক তারকা বলেন, ‘আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছিলাম। লাইন থেকে তোমার (সুয়ারেস) হাত বলটি ক্লিয়ার করেছে, ওটা নিশ্চিত গোল হতো। আমি তাকে এখনও ক্ষমা করতে পারিনি কারণ এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল।’