ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনায় আক্রান্ত র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। শনিবার দিনগত রাত ১২টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান তিনি।

সারোয়ার আলম জানান, ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফলাফল পজিটিভ। আলহামদুলিল্লাহ, শারীরিকভাবে ভালো আছি। সবার নিকট দোয়া ও ক্ষমার দরখাস্ত রইল।’

সারোয়ার আলম জানান, তার স্ত্রীরও করোনা পজিটিভ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন। তবে সারওয়ার আলম বাসায় আছেন। তাদের দুই সন্তানও সুস্থ আছে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারোয়ার আলম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক ও গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়া রমজানে বেশ কয়েকটি ভেজাল বিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে নিয়মিত আলোচনায় আসেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। তবে র‍্যাবের আলোচিত অভিযানের পাশাপাশি একবার হাইকোর্টের তলবের কারণে আলোচনায় আসেন এ ম্যাজিস্ট্রেট।

তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে দায়ের করা রিটে আবারও আলোচিত হন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে দেয়া দণ্ডাদেশের চারমাস পার হলেও আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে করা এক রিটে ১ ডিসেম্বর তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে। ফার্মগেটে ওভার ব্রিজ বাদ দিয়ে যারা সড়কে রাস্তা পারাপার হচ্ছিলেন তাদের নামমাত্র জরিমানা করে সচেতন করেছিলেন তিনি।

তার আলোচিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফকিরাপুল ক্যাসিনোতে অভিযান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অভিযান চালান তিনি। এ সময় ১৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। উদ্ধার করা হয় ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত অবৈধ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নিকেতনে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের অফিসে অভিযানে যায় র‍্যাব। সেখানেও ছিলেন সারোয়ার আলম। অভিযানে তার কার্যালয়ে তল্লাশি করে অবৈধভাবে উপার্জিত নগদ এক কোটি ৮০ লাখ, ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, বিদেশি ডলার, মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করেন তিনি।

ঢাকায় যখন কিশোর অপরাধী ও গ্যাংয়ের দ্বারা হত্যাকাণ্ড, চুরি-ছিনতাই বেড়ে যায় তখন তাদের শনাক্তে অভিযান চালান সারোয়ার আলম। ৩১ জুলাই গ্যাং, ছিনতাই, মাদকসহ নানাবিধ অপরাধে রাজধানীর শ্যামলী, শিশুমেলা, কলেজ গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ কিশোরকে আটক করে ছয় মাসের জন্য কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠান তিনি।

গেল বছরের জুলাইয়ে সারাদেশ যখন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তখন হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু ও সিবিসি পরীক্ষায় মর্জিমতো ফি আদায় শুরু হয়। সংবেদনশীল এ বিষয়ে অভিযান শুরু করেন সারোয়ার। ৩১ জুলাই ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নেয়া এবং টেস্ট না করে প্যাথলজিক্যল রিপোর্ট দেয়ায় পল্টন এবং ফকিরাপুল এলাকায় চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঁচজনকে জেল, ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করে দুই প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোতে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারোয়ার আলম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক ও গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়া রমজানে বেশ কয়েকটি ভেজাল বিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেন তিনি। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

করোনায় আক্রান্ত র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম

আপডেট সময় ১২:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। শনিবার দিনগত রাত ১২টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান তিনি।

সারোয়ার আলম জানান, ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফলাফল পজিটিভ। আলহামদুলিল্লাহ, শারীরিকভাবে ভালো আছি। সবার নিকট দোয়া ও ক্ষমার দরখাস্ত রইল।’

সারোয়ার আলম জানান, তার স্ত্রীরও করোনা পজিটিভ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন। তবে সারওয়ার আলম বাসায় আছেন। তাদের দুই সন্তানও সুস্থ আছে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারোয়ার আলম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক ও গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়া রমজানে বেশ কয়েকটি ভেজাল বিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে নিয়মিত আলোচনায় আসেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। তবে র‍্যাবের আলোচিত অভিযানের পাশাপাশি একবার হাইকোর্টের তলবের কারণে আলোচনায় আসেন এ ম্যাজিস্ট্রেট।

তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে দায়ের করা রিটে আবারও আলোচিত হন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে দেয়া দণ্ডাদেশের চারমাস পার হলেও আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে করা এক রিটে ১ ডিসেম্বর তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে। ফার্মগেটে ওভার ব্রিজ বাদ দিয়ে যারা সড়কে রাস্তা পারাপার হচ্ছিলেন তাদের নামমাত্র জরিমানা করে সচেতন করেছিলেন তিনি।

তার আলোচিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফকিরাপুল ক্যাসিনোতে অভিযান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অভিযান চালান তিনি। এ সময় ১৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। উদ্ধার করা হয় ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত অবৈধ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নিকেতনে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের অফিসে অভিযানে যায় র‍্যাব। সেখানেও ছিলেন সারোয়ার আলম। অভিযানে তার কার্যালয়ে তল্লাশি করে অবৈধভাবে উপার্জিত নগদ এক কোটি ৮০ লাখ, ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, বিদেশি ডলার, মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করেন তিনি।

ঢাকায় যখন কিশোর অপরাধী ও গ্যাংয়ের দ্বারা হত্যাকাণ্ড, চুরি-ছিনতাই বেড়ে যায় তখন তাদের শনাক্তে অভিযান চালান সারোয়ার আলম। ৩১ জুলাই গ্যাং, ছিনতাই, মাদকসহ নানাবিধ অপরাধে রাজধানীর শ্যামলী, শিশুমেলা, কলেজ গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ কিশোরকে আটক করে ছয় মাসের জন্য কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠান তিনি।

গেল বছরের জুলাইয়ে সারাদেশ যখন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তখন হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু ও সিবিসি পরীক্ষায় মর্জিমতো ফি আদায় শুরু হয়। সংবেদনশীল এ বিষয়ে অভিযান শুরু করেন সারোয়ার। ৩১ জুলাই ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নেয়া এবং টেস্ট না করে প্যাথলজিক্যল রিপোর্ট দেয়ায় পল্টন এবং ফকিরাপুল এলাকায় চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঁচজনকে জেল, ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করে দুই প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোতে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারোয়ার আলম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক ও গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়া রমজানে বেশ কয়েকটি ভেজাল বিরোধী অভিযানও পরিচালনা করেন তিনি। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়।