ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘ক্রিকেট বোর্ডে চাকরির জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি কেউ পাত্তা দেয়নি’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইতিহাস রচনাকারী বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে জয়ের নায়ক তিনি। কেনিয়ার বিপক্ষে সেদিন ব্যাট হাতে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন রফিক।

তাকে ছাড়া এক সময় জাতীয় দল কল্পনাই করা যেত না। আর সেই তারকা ক্রিকেটার রফিক এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে উপেক্ষিত। তাকে কোনো কাজেই লাগাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সমস্যাটা কোথায়? বিসিবি নাকি রফিকের অনাগ্রহে এমনটা হচ্ছে?

এতোদিন পর সে কথা জানালেন দেশের ইতিহাসে সেরা বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার মোহাম্মদ রফিক।

দুঃখ প্রকাশ করে রফিক জানান, অনেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেকের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। এভাবে ১২ বছর চলে গেলেও শেষপর্যন্ত তার বিসিবিতে তার কোনো কোচের চাকরি হয়নি।

শুক্রবার ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে এসে এভাবেই বিসিবির ওপর অভিযোগ আনলেন মোহাম্মদ রফিক।

তিনি বলেন, কেউ আমাকে কোনো কাজ দেয়নি। বার বার আশ্বাস দিয়ে বলেছে, ঠিক আছে আমরা ব্যস্ত আছি। এ নিয়ে পরে আলোচনা হবে। এভাবেই ১২ বছর চলে গেল। আমার আর ক্রিকেট বোর্ডে কোনো কোচের চাকরি হলো না।

তিনি বলেন, অনেকের কাছেই গিয়েছি। এখন আর তাদের নাম বলে কি করব? এমনও দেখা গেছে, আসতে বলে সময় দেয়ার পর বোর্ডের অফিসে গিয়ে দেখি কেউ নেই। কত বছর ধরে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোনো জব পাচ্ছি না, কোনো অবদান রাখতে পারছি না ক্রিকেটে।

রফিক জানান, অসুস্থ শরীর আর পায়ে ব্যথা নিয়ে আইসিসি খেলতে গিয়েছিলেন। গাদা গাদা পেইন কিলার খেয়ে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। পরে খেলা শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি তার শরীরে বিরূপ প্রভাবে ফেলে। যেজন্য তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হয়। পায়ের জন্য দুই বছর ধরে ঢাকায় বাংলামোটরে এক ফিজিও থেরাপিস্ট দেখাতে হয়েছিল। এসব চিকিৎসায় আইসিসি জয়ে পাওয়া টাকাগুলো ব্যয় হয়ে যায় তার।

বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পেয়েছিলেন কিনা প্রশ্ন করলে রফিক বলেন, না তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। ভারতে যাওয়ার সময় বিসিবি থেকে আমাকে ২০০ ডলার দেয়া হয়েছিল। তখন এক ডলারের মূল্য ৩১ থেকে ৩২ টাকা হবে। আসলে বিসিবির তখন এখনকার মতো এতো টাকা ছিল না যে সাহায্য করবে।

অনেকটা বিসিবিকে উদ্দেশ্য করেই রফিক বলেন, আমি তো আর কারও দয়া চাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে আমি এখনও ফিট আছি। শরীরে শক্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই উপার্জন করতে পারব। আর আমার কোনো আকাশ ছোঁয়া ডিমান্ডও নেই। আমার কাজ অনুপাতেই যেন অর্থ দেয়া হয় আমাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

‘ক্রিকেট বোর্ডে চাকরির জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি কেউ পাত্তা দেয়নি’

আপডেট সময় ০৯:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইতিহাস রচনাকারী বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে জয়ের নায়ক তিনি। কেনিয়ার বিপক্ষে সেদিন ব্যাট হাতে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন রফিক।

তাকে ছাড়া এক সময় জাতীয় দল কল্পনাই করা যেত না। আর সেই তারকা ক্রিকেটার রফিক এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে উপেক্ষিত। তাকে কোনো কাজেই লাগাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সমস্যাটা কোথায়? বিসিবি নাকি রফিকের অনাগ্রহে এমনটা হচ্ছে?

এতোদিন পর সে কথা জানালেন দেশের ইতিহাসে সেরা বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার মোহাম্মদ রফিক।

দুঃখ প্রকাশ করে রফিক জানান, অনেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেকের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। এভাবে ১২ বছর চলে গেলেও শেষপর্যন্ত তার বিসিবিতে তার কোনো কোচের চাকরি হয়নি।

শুক্রবার ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে এসে এভাবেই বিসিবির ওপর অভিযোগ আনলেন মোহাম্মদ রফিক।

তিনি বলেন, কেউ আমাকে কোনো কাজ দেয়নি। বার বার আশ্বাস দিয়ে বলেছে, ঠিক আছে আমরা ব্যস্ত আছি। এ নিয়ে পরে আলোচনা হবে। এভাবেই ১২ বছর চলে গেল। আমার আর ক্রিকেট বোর্ডে কোনো কোচের চাকরি হলো না।

তিনি বলেন, অনেকের কাছেই গিয়েছি। এখন আর তাদের নাম বলে কি করব? এমনও দেখা গেছে, আসতে বলে সময় দেয়ার পর বোর্ডের অফিসে গিয়ে দেখি কেউ নেই। কত বছর ধরে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোনো জব পাচ্ছি না, কোনো অবদান রাখতে পারছি না ক্রিকেটে।

রফিক জানান, অসুস্থ শরীর আর পায়ে ব্যথা নিয়ে আইসিসি খেলতে গিয়েছিলেন। গাদা গাদা পেইন কিলার খেয়ে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। পরে খেলা শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি তার শরীরে বিরূপ প্রভাবে ফেলে। যেজন্য তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হয়। পায়ের জন্য দুই বছর ধরে ঢাকায় বাংলামোটরে এক ফিজিও থেরাপিস্ট দেখাতে হয়েছিল। এসব চিকিৎসায় আইসিসি জয়ে পাওয়া টাকাগুলো ব্যয় হয়ে যায় তার।

বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পেয়েছিলেন কিনা প্রশ্ন করলে রফিক বলেন, না তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। ভারতে যাওয়ার সময় বিসিবি থেকে আমাকে ২০০ ডলার দেয়া হয়েছিল। তখন এক ডলারের মূল্য ৩১ থেকে ৩২ টাকা হবে। আসলে বিসিবির তখন এখনকার মতো এতো টাকা ছিল না যে সাহায্য করবে।

অনেকটা বিসিবিকে উদ্দেশ্য করেই রফিক বলেন, আমি তো আর কারও দয়া চাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে আমি এখনও ফিট আছি। শরীরে শক্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই উপার্জন করতে পারব। আর আমার কোনো আকাশ ছোঁয়া ডিমান্ডও নেই। আমার কাজ অনুপাতেই যেন অর্থ দেয়া হয় আমাকে।