খুনের মামলায় আসামি মেয়র ও সাংবাদিক!

85

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ কর্মী তাপস নিহতের ঘটনায় বাউফল পৌরসভার মেয়র ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েলকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তাপসের ভাই পঙ্কজ চন্দ্র দাস। আসামি করা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মিজানুর রহমানকেও। মামলায় ৩৫জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনকে আসামী করা হয়েছে।

এছাড়াও মামলায়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাদ জামসেদ, বাউফল সরকারী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারভূক্ত কার্তিক ও সোহাগ নামের দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি হত্যা মামলায় একজন পেশাদার সাংবাদিককে আসামী করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবসহ জেলার সকল উপজেলা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে থানা ব্রিজের পাশে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে ‘করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মূলক’ বক্তব্য দিয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে তোরণ নির্মাণকালে তাতে বাধা প্রদান করেন এমপি গ্রুপের ইব্রাহিম ফারুক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে সেখানে মেয়র উপস্থিত হলে ফারুক ও মেয়রের সাথে কথা কাটাকাটি হলে থানার ওসি ও সার্কেল এসপি তাদেরকে থানার ভিতরে নিয়ে আসেন সমঝোতার জন্য। এই ফাকে এমপি গ্রুপের মনির মোল্লার নেতৃত্বে ২০/৩০জনের একদল লোক এসে ওই তোরণ ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় মেয়র গ্রুপের সাথে এমপি গ্রুপের পুনরায় সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী তাপসসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১০জন আহত হয়। আহতদের বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হলেও তাপসের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেবাচিমে পাঠানো হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে তাপস মারা যায়।

অপরদিকে বাউফলের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পৌর মেয়রের পক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে পৌর ভবনের ডাঃ এএফএম নাসির উদ্দিন সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল লতিফ খান বাবুল। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মেয়র জুয়েল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় এলাকায় অবস্থান নিয়ে যখন অসহায় মানুষকে মানবিক খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন, তখন একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় মেয়র সাহেব থানার মধ্যে ওসির রুমে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সার্কেল এসপিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাপস হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয় ওই সাংবাদিক সম্মেলনে।

এদিকে সাংবাদিক মিজান বলেন, ‘তাকে হয়রানি করার উদ্যেশ্যেই এই মামলায় আসামি করা হয়েছে’।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাদির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি এই মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করবে। মামলায় নিরপরাধ কোন ব্যক্তিদের হয়রানি হওয়ার সুযোগ নেই।’

এছাড়া এমপি গ্রুপের নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনের গেটটি ছিল আওয়ামী লীগের। বিগত ৫ বছর ধরে আমি সেটি লালন করে আসছি। কয়েক দিন আগে ঝড়ে গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি পুনরায় নির্মাণের সময় মেয়রের নেতৃত্বে বাধা দেয়া হয়।’