ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

ডেথ সার্টিফিকেটে পজিটিভ মৃত্যুর পর রিপোর্ট নেগেটিভ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইরের বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ জামাল (৭০)। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কভিড-১৯ সংক্রমণে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। ইতিমধ্যে তার জানাজা ও দাফনও হয়ে গেছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় মৃত্যু শিউলি আক্তার পুতুলের মৃত্যু সনদে কারণ উল্লেখ হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোক কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে। পরে ২ এপ্রিল মৃত্যুর পর রিপোর্ট আসে শিউলি করোনা পজেটিভ। সেই সময় সেই আলোচিত রিপোর্ট দৈনিক আকাশে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মৃত হাজী মোহাম্মদ জামালের ছেলে আবুল বাশার জানান, কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তার বাবা। ডায়ালাইসিস চলছিল তার। এ ছাড়া ফুসফুসে পানিও জমেছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে গত ২০ এপ্রিল বেসরকারি আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৪ এপ্রিল জানানো হয় হাজী জামালের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এসেছে। করোনা পজেটিভ লেখা একটি রিপোর্টের ফটোকপিও দেওয়া হয় আজগর আলী হাসপাতাল থেকে। পরে তাকে কুর্মিটোলা ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজী জামাল।

আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বাবা হাজী মোহাম্মদ জামালের করোনা পজেটিভের রিপোর্টের ফটোকপি দিয়ে তাকে কুর্মিটোলা পাঠাল। সেখানে রাতে মারা গেলেন বাবা। কুর্মিটোলা থেকে ডেথ সার্টিফিকেটেও করোনা পজেটিভ লেখা হলো। পরদিন দুপুর ৩টার দিকে মেসেজ আসল বাবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম করোনা পজেটিভ না বললে লাইফ সাপোর্টেই থাকতেন বাবা। হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।

হাসপাতালের রিপোর্টের এই ভুল খুনের শামিল। ওই রিপোর্টের কারণে ডেথ সার্টিফিকেটেও লেখা হলো করোনা পজেটিভ। এই কারণে বাবার লাশের সামনেও যেতে পারিনি। দূর থেকেই বাবার দাফন দেখেছি, জানাজাতেও অংশ নিতে পারিনি।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনার মৃত্যুর তালিকায় হাজী মোহাম্মদ জামালের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

ডেথ সার্টিফিকেটে পজিটিভ মৃত্যুর পর রিপোর্ট নেগেটিভ

আপডেট সময় ১১:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইরের বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ জামাল (৭০)। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কভিড-১৯ সংক্রমণে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। ইতিমধ্যে তার জানাজা ও দাফনও হয়ে গেছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় মৃত্যু শিউলি আক্তার পুতুলের মৃত্যু সনদে কারণ উল্লেখ হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোক কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে। পরে ২ এপ্রিল মৃত্যুর পর রিপোর্ট আসে শিউলি করোনা পজেটিভ। সেই সময় সেই আলোচিত রিপোর্ট দৈনিক আকাশে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মৃত হাজী মোহাম্মদ জামালের ছেলে আবুল বাশার জানান, কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তার বাবা। ডায়ালাইসিস চলছিল তার। এ ছাড়া ফুসফুসে পানিও জমেছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে গত ২০ এপ্রিল বেসরকারি আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৪ এপ্রিল জানানো হয় হাজী জামালের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এসেছে। করোনা পজেটিভ লেখা একটি রিপোর্টের ফটোকপিও দেওয়া হয় আজগর আলী হাসপাতাল থেকে। পরে তাকে কুর্মিটোলা ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজী জামাল।

আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বাবা হাজী মোহাম্মদ জামালের করোনা পজেটিভের রিপোর্টের ফটোকপি দিয়ে তাকে কুর্মিটোলা পাঠাল। সেখানে রাতে মারা গেলেন বাবা। কুর্মিটোলা থেকে ডেথ সার্টিফিকেটেও করোনা পজেটিভ লেখা হলো। পরদিন দুপুর ৩টার দিকে মেসেজ আসল বাবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম করোনা পজেটিভ না বললে লাইফ সাপোর্টেই থাকতেন বাবা। হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।

হাসপাতালের রিপোর্টের এই ভুল খুনের শামিল। ওই রিপোর্টের কারণে ডেথ সার্টিফিকেটেও লেখা হলো করোনা পজেটিভ। এই কারণে বাবার লাশের সামনেও যেতে পারিনি। দূর থেকেই বাবার দাফন দেখেছি, জানাজাতেও অংশ নিতে পারিনি।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনার মৃত্যুর তালিকায় হাজী মোহাম্মদ জামালের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।