ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

ডেথ সার্টিফিকেটে পজিটিভ মৃত্যুর পর রিপোর্ট নেগেটিভ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইরের বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ জামাল (৭০)। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কভিড-১৯ সংক্রমণে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। ইতিমধ্যে তার জানাজা ও দাফনও হয়ে গেছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় মৃত্যু শিউলি আক্তার পুতুলের মৃত্যু সনদে কারণ উল্লেখ হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোক কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে। পরে ২ এপ্রিল মৃত্যুর পর রিপোর্ট আসে শিউলি করোনা পজেটিভ। সেই সময় সেই আলোচিত রিপোর্ট দৈনিক আকাশে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মৃত হাজী মোহাম্মদ জামালের ছেলে আবুল বাশার জানান, কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তার বাবা। ডায়ালাইসিস চলছিল তার। এ ছাড়া ফুসফুসে পানিও জমেছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে গত ২০ এপ্রিল বেসরকারি আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৪ এপ্রিল জানানো হয় হাজী জামালের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এসেছে। করোনা পজেটিভ লেখা একটি রিপোর্টের ফটোকপিও দেওয়া হয় আজগর আলী হাসপাতাল থেকে। পরে তাকে কুর্মিটোলা ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজী জামাল।

আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বাবা হাজী মোহাম্মদ জামালের করোনা পজেটিভের রিপোর্টের ফটোকপি দিয়ে তাকে কুর্মিটোলা পাঠাল। সেখানে রাতে মারা গেলেন বাবা। কুর্মিটোলা থেকে ডেথ সার্টিফিকেটেও করোনা পজেটিভ লেখা হলো। পরদিন দুপুর ৩টার দিকে মেসেজ আসল বাবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম করোনা পজেটিভ না বললে লাইফ সাপোর্টেই থাকতেন বাবা। হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।

হাসপাতালের রিপোর্টের এই ভুল খুনের শামিল। ওই রিপোর্টের কারণে ডেথ সার্টিফিকেটেও লেখা হলো করোনা পজেটিভ। এই কারণে বাবার লাশের সামনেও যেতে পারিনি। দূর থেকেই বাবার দাফন দেখেছি, জানাজাতেও অংশ নিতে পারিনি।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনার মৃত্যুর তালিকায় হাজী মোহাম্মদ জামালের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ডেথ সার্টিফিকেটে পজিটিভ মৃত্যুর পর রিপোর্ট নেগেটিভ

আপডেট সময় ১১:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইরের বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ জামাল (৭০)। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কভিড-১৯ সংক্রমণে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। ইতিমধ্যে তার জানাজা ও দাফনও হয়ে গেছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনায় মৃত্যু শিউলি আক্তার পুতুলের মৃত্যু সনদে কারণ উল্লেখ হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোক কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে। পরে ২ এপ্রিল মৃত্যুর পর রিপোর্ট আসে শিউলি করোনা পজেটিভ। সেই সময় সেই আলোচিত রিপোর্ট দৈনিক আকাশে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মৃত হাজী মোহাম্মদ জামালের ছেলে আবুল বাশার জানান, কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তার বাবা। ডায়ালাইসিস চলছিল তার। এ ছাড়া ফুসফুসে পানিও জমেছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে গত ২০ এপ্রিল বেসরকারি আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৪ এপ্রিল জানানো হয় হাজী জামালের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এসেছে। করোনা পজেটিভ লেখা একটি রিপোর্টের ফটোকপিও দেওয়া হয় আজগর আলী হাসপাতাল থেকে। পরে তাকে কুর্মিটোলা ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজী জামাল।

আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বাবা হাজী মোহাম্মদ জামালের করোনা পজেটিভের রিপোর্টের ফটোকপি দিয়ে তাকে কুর্মিটোলা পাঠাল। সেখানে রাতে মারা গেলেন বাবা। কুর্মিটোলা থেকে ডেথ সার্টিফিকেটেও করোনা পজেটিভ লেখা হলো। পরদিন দুপুর ৩টার দিকে মেসেজ আসল বাবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম করোনা পজেটিভ না বললে লাইফ সাপোর্টেই থাকতেন বাবা। হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।

হাসপাতালের রিপোর্টের এই ভুল খুনের শামিল। ওই রিপোর্টের কারণে ডেথ সার্টিফিকেটেও লেখা হলো করোনা পজেটিভ। এই কারণে বাবার লাশের সামনেও যেতে পারিনি। দূর থেকেই বাবার দাফন দেখেছি, জানাজাতেও অংশ নিতে পারিনি।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনার মৃত্যুর তালিকায় হাজী মোহাম্মদ জামালের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।