ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

কক্সবাজারে বেঁধে অমানসিক নির্যাতনে কিশোর হত্যার অভিযোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের খুরুশকুলে টমটম চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন (১৪) নামে এক কিশোরকে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে খুরুশকুল পালপাড়া বাজারের জাকের হোসেন বাক্কুর টমটম (ইজিবাইক) গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া এলাকার নবিউল হকের ছেলে।

নিহত মামুনের মা হাজেরা বেগম জানান, মামুন কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করত। কাজ শেষে রোববার দুপুর ২টার দিকে ছেলে বাড়িতে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুপুরে মামুন তার সমবয়সী প্রতিবেশী আব্বাস উদ্দিন, নবাব মিয়া, কাজল ও নুরুল হুদা মিলে একটি টমটম নিয়ে পার্শ্ববর্তী পিএমখালীতে বেড়াতে যায়।

সেখানে তারা শিবুল ডাকাত বাহিনীর কবলে পড়ে। ওই বাহিনী তাদের টমটমসহ আটকে রাখে। একপর্যায়ে মামুন কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে আসে। পরে ডাকাতরা টমটমটি রেখে দিয়ে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়।

এর পর তারা ফিরে এসে মামুনকে ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং তাকে ধরে টমটম মালিক জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন চালায়। মারধরের একপর্যায়ে মামুন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

খবর পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লাথি-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে তাদের হাত-পা ধরে মামুনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও দুঃখজনক। অন্য এলাকার একজন অপরাধী টমটম আটকে রাখে। এর অপরাধে একজন কিশোরকে দায়ী করে এভাবে প্রহার ও মেরে ফেলা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা চাই হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, খবর পেয়ে রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী

কক্সবাজারে বেঁধে অমানসিক নির্যাতনে কিশোর হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের খুরুশকুলে টমটম চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন (১৪) নামে এক কিশোরকে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে খুরুশকুল পালপাড়া বাজারের জাকের হোসেন বাক্কুর টমটম (ইজিবাইক) গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া এলাকার নবিউল হকের ছেলে।

নিহত মামুনের মা হাজেরা বেগম জানান, মামুন কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করত। কাজ শেষে রোববার দুপুর ২টার দিকে ছেলে বাড়িতে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুপুরে মামুন তার সমবয়সী প্রতিবেশী আব্বাস উদ্দিন, নবাব মিয়া, কাজল ও নুরুল হুদা মিলে একটি টমটম নিয়ে পার্শ্ববর্তী পিএমখালীতে বেড়াতে যায়।

সেখানে তারা শিবুল ডাকাত বাহিনীর কবলে পড়ে। ওই বাহিনী তাদের টমটমসহ আটকে রাখে। একপর্যায়ে মামুন কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে আসে। পরে ডাকাতরা টমটমটি রেখে দিয়ে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়।

এর পর তারা ফিরে এসে মামুনকে ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং তাকে ধরে টমটম মালিক জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন চালায়। মারধরের একপর্যায়ে মামুন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

খবর পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লাথি-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে তাদের হাত-পা ধরে মামুনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও দুঃখজনক। অন্য এলাকার একজন অপরাধী টমটম আটকে রাখে। এর অপরাধে একজন কিশোরকে দায়ী করে এভাবে প্রহার ও মেরে ফেলা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা চাই হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, খবর পেয়ে রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।