ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কক্সবাজারে বেঁধে অমানসিক নির্যাতনে কিশোর হত্যার অভিযোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের খুরুশকুলে টমটম চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন (১৪) নামে এক কিশোরকে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে খুরুশকুল পালপাড়া বাজারের জাকের হোসেন বাক্কুর টমটম (ইজিবাইক) গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া এলাকার নবিউল হকের ছেলে।

নিহত মামুনের মা হাজেরা বেগম জানান, মামুন কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করত। কাজ শেষে রোববার দুপুর ২টার দিকে ছেলে বাড়িতে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুপুরে মামুন তার সমবয়সী প্রতিবেশী আব্বাস উদ্দিন, নবাব মিয়া, কাজল ও নুরুল হুদা মিলে একটি টমটম নিয়ে পার্শ্ববর্তী পিএমখালীতে বেড়াতে যায়।

সেখানে তারা শিবুল ডাকাত বাহিনীর কবলে পড়ে। ওই বাহিনী তাদের টমটমসহ আটকে রাখে। একপর্যায়ে মামুন কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে আসে। পরে ডাকাতরা টমটমটি রেখে দিয়ে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়।

এর পর তারা ফিরে এসে মামুনকে ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং তাকে ধরে টমটম মালিক জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন চালায়। মারধরের একপর্যায়ে মামুন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

খবর পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লাথি-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে তাদের হাত-পা ধরে মামুনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও দুঃখজনক। অন্য এলাকার একজন অপরাধী টমটম আটকে রাখে। এর অপরাধে একজন কিশোরকে দায়ী করে এভাবে প্রহার ও মেরে ফেলা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা চাই হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, খবর পেয়ে রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কক্সবাজারে বেঁধে অমানসিক নির্যাতনে কিশোর হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের খুরুশকুলে টমটম চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন (১৪) নামে এক কিশোরকে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে খুরুশকুল পালপাড়া বাজারের জাকের হোসেন বাক্কুর টমটম (ইজিবাইক) গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া এলাকার নবিউল হকের ছেলে।

নিহত মামুনের মা হাজেরা বেগম জানান, মামুন কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করত। কাজ শেষে রোববার দুপুর ২টার দিকে ছেলে বাড়িতে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুপুরে মামুন তার সমবয়সী প্রতিবেশী আব্বাস উদ্দিন, নবাব মিয়া, কাজল ও নুরুল হুদা মিলে একটি টমটম নিয়ে পার্শ্ববর্তী পিএমখালীতে বেড়াতে যায়।

সেখানে তারা শিবুল ডাকাত বাহিনীর কবলে পড়ে। ওই বাহিনী তাদের টমটমসহ আটকে রাখে। একপর্যায়ে মামুন কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে আসে। পরে ডাকাতরা টমটমটি রেখে দিয়ে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়।

এর পর তারা ফিরে এসে মামুনকে ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং তাকে ধরে টমটম মালিক জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন চালায়। মারধরের একপর্যায়ে মামুন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

খবর পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লাথি-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে তাদের হাত-পা ধরে মামুনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও দুঃখজনক। অন্য এলাকার একজন অপরাধী টমটম আটকে রাখে। এর অপরাধে একজন কিশোরকে দায়ী করে এভাবে প্রহার ও মেরে ফেলা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা চাই হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, খবর পেয়ে রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।