ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শ্রমিক ধর্মঘটে চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে ও শরীরে পোড়া মবিল, পুলিশের ভূমিকা জানতে চান হাইকোর্ট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবহন ধর্মঘটের সময় গাড়ির চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে ও শরীরে পোড়া মবিল মাখানো, অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশু মৃত্যুসহ শ্রমিকদের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে ধর্মঘটের নামে এসব ভয়ংকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের দুই ডেপুটি কমিশনার এবং পুলিশ সুপারকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

পরে সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের নামে শ্রমিকরা গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে। এ সময় বিশৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা সাধারণ চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেয়। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অন্তত দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা মঙ্গলবার হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে বুধবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। সেই রিটের শুনানি শেষে আদালত উক্ত আদেশ দেন।’

সপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার সকাল থেকে সারা দেশে চলা ৪৮ ঘণ্টার এ পরিবহন ধর্মঘটকে ‘নৈরাজ্য’ উল্লেখ করে সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক দুর্ঘটনার সব অপরাধ জামিনযোগ্য করা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করা, সড়ক দুর্ঘটনায় গঠিত যেকোনো তদন্ত কমিটিতে ফেডারেশনের প্রতিনিধি রাখা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি নির্ধারণ এবং সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর শ্রমিক ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ আট দফা দাবি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে পূরণ না হলে ২৮ অক্টোবর থেকে দুদিনের কর্মবিরতিতে যাবেন শ্রমিকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শ্রমিক ধর্মঘটে চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে ও শরীরে পোড়া মবিল, পুলিশের ভূমিকা জানতে চান হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১২:২৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবহন ধর্মঘটের সময় গাড়ির চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে ও শরীরে পোড়া মবিল মাখানো, অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশু মৃত্যুসহ শ্রমিকদের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে ধর্মঘটের নামে এসব ভয়ংকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের দুই ডেপুটি কমিশনার এবং পুলিশ সুপারকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

পরে সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের নামে শ্রমিকরা গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে। এ সময় বিশৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা সাধারণ চালক ও শিক্ষার্থীদের মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেয়। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অন্তত দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা মঙ্গলবার হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে বুধবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। সেই রিটের শুনানি শেষে আদালত উক্ত আদেশ দেন।’

সপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার সকাল থেকে সারা দেশে চলা ৪৮ ঘণ্টার এ পরিবহন ধর্মঘটকে ‘নৈরাজ্য’ উল্লেখ করে সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক দুর্ঘটনার সব অপরাধ জামিনযোগ্য করা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করা, সড়ক দুর্ঘটনায় গঠিত যেকোনো তদন্ত কমিটিতে ফেডারেশনের প্রতিনিধি রাখা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি নির্ধারণ এবং সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর শ্রমিক ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ আট দফা দাবি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে পূরণ না হলে ২৮ অক্টোবর থেকে দুদিনের কর্মবিরতিতে যাবেন শ্রমিকরা।