ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বকুল হোসেন (৩৫)। পরে ৯ এপ্রিল রাত থেকে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

মাধবডাঙ্গা গ্রামে বকুল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গত ৯ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত এক সপ্তাহ তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

স্বজনরা টের পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আসমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাতেই আসমার ভাসুর শাহ্ আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূ মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ও ভাসুরদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন প্রায় আট বছর আগে ধুনট সদরপাড়ার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামে দুই ছেলে আছে।

বকুল গত এক বছর ধরে যৌতুকের জন্য আসমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও বকুল সংশোধন হয়নি। সে আরও বেপরোয়া হয়ে যায়।

গত ৯ এপ্রিল রাতে যৌতুক নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বকুল তার স্ত্রী আসমাকে বেদম মারপিট করে। এতে রাগ না কমলে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন তাকে বাড়ি থেকে বের হতে না দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এদিকে বাবা ইসমাইল হোসেন সোমবার টের পেয়ে তার মেয়েকে দেখতে গেলে বকুল তাতে বাধা দেয়। তিনি সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহায়তায় মেয়ে আসমাকে উদ্ধার ও তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। পুলিশ রাতেই ভাসুর শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করলেও স্বামী বকুল হোসেন পালিয়ে যায়।

আসমা খাতুন জানান, যৌতুক না পেয়ে ও নানা কারণে ভাসুরের উসকানিতে বকুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এক সপ্তাহ আগে জোড় করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে। গত কয়েকদিন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বকুল হোসেন ফোনে স্ত্রীকে নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাথায় খুসকি হওয়ায় ন্যাড়া করা হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি খান এরফান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে আসমা মামলা করেছেন। এর আগেই ভাসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকুলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া

আপডেট সময় ১০:০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বকুল হোসেন (৩৫)। পরে ৯ এপ্রিল রাত থেকে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

মাধবডাঙ্গা গ্রামে বকুল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গত ৯ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত এক সপ্তাহ তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

স্বজনরা টের পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আসমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাতেই আসমার ভাসুর শাহ্ আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূ মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ও ভাসুরদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন প্রায় আট বছর আগে ধুনট সদরপাড়ার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামে দুই ছেলে আছে।

বকুল গত এক বছর ধরে যৌতুকের জন্য আসমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও বকুল সংশোধন হয়নি। সে আরও বেপরোয়া হয়ে যায়।

গত ৯ এপ্রিল রাতে যৌতুক নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বকুল তার স্ত্রী আসমাকে বেদম মারপিট করে। এতে রাগ না কমলে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন তাকে বাড়ি থেকে বের হতে না দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এদিকে বাবা ইসমাইল হোসেন সোমবার টের পেয়ে তার মেয়েকে দেখতে গেলে বকুল তাতে বাধা দেয়। তিনি সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহায়তায় মেয়ে আসমাকে উদ্ধার ও তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। পুলিশ রাতেই ভাসুর শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করলেও স্বামী বকুল হোসেন পালিয়ে যায়।

আসমা খাতুন জানান, যৌতুক না পেয়ে ও নানা কারণে ভাসুরের উসকানিতে বকুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এক সপ্তাহ আগে জোড় করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে। গত কয়েকদিন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বকুল হোসেন ফোনে স্ত্রীকে নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাথায় খুসকি হওয়ায় ন্যাড়া করা হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি খান এরফান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে আসমা মামলা করেছেন। এর আগেই ভাসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকুলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।