ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বকুল হোসেন (৩৫)। পরে ৯ এপ্রিল রাত থেকে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

মাধবডাঙ্গা গ্রামে বকুল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গত ৯ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত এক সপ্তাহ তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

স্বজনরা টের পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আসমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাতেই আসমার ভাসুর শাহ্ আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূ মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ও ভাসুরদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন প্রায় আট বছর আগে ধুনট সদরপাড়ার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামে দুই ছেলে আছে।

বকুল গত এক বছর ধরে যৌতুকের জন্য আসমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও বকুল সংশোধন হয়নি। সে আরও বেপরোয়া হয়ে যায়।

গত ৯ এপ্রিল রাতে যৌতুক নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বকুল তার স্ত্রী আসমাকে বেদম মারপিট করে। এতে রাগ না কমলে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন তাকে বাড়ি থেকে বের হতে না দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এদিকে বাবা ইসমাইল হোসেন সোমবার টের পেয়ে তার মেয়েকে দেখতে গেলে বকুল তাতে বাধা দেয়। তিনি সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহায়তায় মেয়ে আসমাকে উদ্ধার ও তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। পুলিশ রাতেই ভাসুর শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করলেও স্বামী বকুল হোসেন পালিয়ে যায়।

আসমা খাতুন জানান, যৌতুক না পেয়ে ও নানা কারণে ভাসুরের উসকানিতে বকুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এক সপ্তাহ আগে জোড় করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে। গত কয়েকদিন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বকুল হোসেন ফোনে স্ত্রীকে নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাথায় খুসকি হওয়ায় ন্যাড়া করা হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি খান এরফান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে আসমা মামলা করেছেন। এর আগেই ভাসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকুলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া

আপডেট সময় ১০:০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বকুল হোসেন (৩৫)। পরে ৯ এপ্রিল রাত থেকে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

মাধবডাঙ্গা গ্রামে বকুল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৬) নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গত ৯ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত এক সপ্তাহ তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি।

স্বজনরা টের পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আসমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাতেই আসমার ভাসুর শাহ্ আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূ মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ও ভাসুরদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন প্রায় আট বছর আগে ধুনট সদরপাড়ার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামে দুই ছেলে আছে।

বকুল গত এক বছর ধরে যৌতুকের জন্য আসমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও বকুল সংশোধন হয়নি। সে আরও বেপরোয়া হয়ে যায়।

গত ৯ এপ্রিল রাতে যৌতুক নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বকুল তার স্ত্রী আসমাকে বেদম মারপিট করে। এতে রাগ না কমলে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন তাকে বাড়ি থেকে বের হতে না দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এদিকে বাবা ইসমাইল হোসেন সোমবার টের পেয়ে তার মেয়েকে দেখতে গেলে বকুল তাতে বাধা দেয়। তিনি সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীদের সহায়তায় মেয়ে আসমাকে উদ্ধার ও তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। পুলিশ রাতেই ভাসুর শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করলেও স্বামী বকুল হোসেন পালিয়ে যায়।

আসমা খাতুন জানান, যৌতুক না পেয়ে ও নানা কারণে ভাসুরের উসকানিতে বকুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এক সপ্তাহ আগে জোড় করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে। গত কয়েকদিন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বকুল হোসেন ফোনে স্ত্রীকে নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাথায় খুসকি হওয়ায় ন্যাড়া করা হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি খান এরফান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে আসমা মামলা করেছেন। এর আগেই ভাসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকুলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।