ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

মক্কা মসজিদ হামলার আসামি ৫ হিন্দুত্ববাদীকেই বেকসুর খালাস

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদ শহরে ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদে ১১ বছর আগে বোমা বিস্ফোরণ মামলার আসামি পাঁচ কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর সবাইকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকালে হায়দরাবাদের বিশেষ আদালতের বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি এ রায় দেন।-খবর বিবিসি ও এনডিটিভি। ২০০৭ সালের ১৮ মে জুমার নামাজের সময় ওই বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য।

তাদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ। তিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের সদস্য ছিলেন। সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের আগে তার নাম ছিল নবকুমার সরকার।

তিনি বহুদিন পশ্চিম ও মধ্য ভারতে আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করেছেন। মক্কা মসজিদ, আজমির শরিফ ও সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের তিনটি ঘটনাতেই তিনি মূল অভিযুক্ত ছিলেন।

এর মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস মামলায় অসীমানন্দ জামিনে আছেন। আর আজমির মামলায় খালাস পাওয়ার পর মক্কা মসজিদ হামলায়ও তাকে আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেন।

রায়ের পর ভারতের শাসক দল বিজেপি দাবি করেছে, হিন্দু সন্ত্রাসবাদের যে তত্ত্ব কংগ্রেস আমলে অবতারণা করা হয়েছিল তা এখন মুখ থুবড়ে পড়ল। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ মোদি সরকারের আমলে এ মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং বিস্ফোরণে হতাহতরা বিচারও পাননি।

অভিযুক্তদের কৌঁসুলি জানান, অসীমানন্দসহ পাঁচজনই এদিন আদালতে হাজির ছিলেন। কিন্তু বিচারকরা সব সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘোষণা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণ করা যায়নি। ফলে আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করেন।

ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএ গত সাত বছর ধরে এ মামলার তদন্ত করেছে। তারা যে প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণ করতেই ব্যর্থ হয়েছে, আদালত সে কথাও স্পষ্ট বলেছেন।

আর তার সূত্র ধরেই কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ এ রায়ের পর মন্তব্য করেছেন- সরকার যে নিজের ইচ্ছেমতো এসব সংস্থাকে ব্যবহার করছে, আজকের রায় তার আরও একটি প্রমাণ।

আজাদ বলেন, আমরা একের পর এক ঘটনায় দেখছি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখাতে বা হেনস্তা করতে। সত্যিকে মিথ্যে বা মিথ্যেকে সত্যি বানাতে এসব সংস্থাকে সরকার কাজে লাগাচ্ছে। আর এটি চলছে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছর ধরেই।

তিনি বলেন, এতদিন অন্তত বিচার বিভাগের ওপর মানুষের ভরসাটুকু ছিল- জানি না সেটিও এবার কোথায় যাবে!

হায়দরাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও টুইট করে বলেন, মোদি সরকারের আমলে মক্কা মসজিদ মামলায় একের পর এক সাক্ষী বিগড়ে গেছেন, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা পর্যন্ত করেনি।

বিজেপি অবশ্য এদিন রায় ঘোষণার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, আজকের রায় কংগ্রেসি ষড়যন্ত্রের এক কড়া জবাব।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সেখানে বলেন, কংগ্রেসের জয়পুর অধিবেশনে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার সিন্ধে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা প্রথমবার উচ্চারণ করে হাজার কোটি বছরের হিন্দু সভ্যতাকে প্রথম অপমান করেছিলেন।

তিনি বলেন, সেদিন মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কিংবা সোনিয়া-রাহুল গান্ধীরা কেউ তার প্রতিবাদ করেননি। ধর্মীয় তোষণের রাজনীতি করার জন্য তারা সেদিন যে দেশকে বদনাম করতেও পিছপা হননি। আজ সেই ষড়যন্ত্রই ফাঁস হয়ে গেল।

বিজেপির কট্টরপন্থী এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আবার বলছেন, সোনিয়া-রাহুল-চিদম্বরম যে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা বলে আসলে হিন্দুবিরোধী চক্রান্ত করেছিলেন, সেটি এখন পরিষ্কার।

তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার ও মিথ্যে জেল খাটানোর জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়েরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

২০১০ সালে মক্কা মসজিদ মামলার চার্জশিটে সিবিআই বলেছিল, হিন্দুদের মন্দিরে ও তাদের ওপরে একের পর এক ইসলামি হামলার প্রতিশোধ নিতেই নাকি অসীমানন্দসহ অন্য অভিযুক্তরা এ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু বিস্ফোরণের ১১ বছরের মাথায় এসে সরকারেরই আরেক সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে সেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে গেলেন। শুধু রয়ে গেল হিন্দু সন্ত্রাসের তত্ত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক।

হায়দরাবাদ শহরের প্রতীক বিখ্যাত তোরণ চারমিনারের কাছে এ মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৬১৬-১৭ সালে।

তখণ সময়টি ছিল সুলতান মুহাম্মদ কুতুবের রাজত্বকাল। কুতুব শাহী সুলতানরা ১৫১৮ সাল থেকে ১৬৮৭ সাল পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের গোলকোন্ডা রাজ্য শাসন করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

মক্কা মসজিদ হামলার আসামি ৫ হিন্দুত্ববাদীকেই বেকসুর খালাস

আপডেট সময় ০২:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের হায়দরাবাদ শহরে ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদে ১১ বছর আগে বোমা বিস্ফোরণ মামলার আসামি পাঁচ কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর সবাইকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকালে হায়দরাবাদের বিশেষ আদালতের বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি এ রায় দেন।-খবর বিবিসি ও এনডিটিভি। ২০০৭ সালের ১৮ মে জুমার নামাজের সময় ওই বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য।

তাদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গেরুয়াধারী সন্ন্যাসী অসীমানন্দ। তিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের সদস্য ছিলেন। সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের আগে তার নাম ছিল নবকুমার সরকার।

তিনি বহুদিন পশ্চিম ও মধ্য ভারতে আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করেছেন। মক্কা মসজিদ, আজমির শরিফ ও সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের তিনটি ঘটনাতেই তিনি মূল অভিযুক্ত ছিলেন।

এর মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস মামলায় অসীমানন্দ জামিনে আছেন। আর আজমির মামলায় খালাস পাওয়ার পর মক্কা মসজিদ হামলায়ও তাকে আদালত নির্দোষ ঘোষণা করলেন।

রায়ের পর ভারতের শাসক দল বিজেপি দাবি করেছে, হিন্দু সন্ত্রাসবাদের যে তত্ত্ব কংগ্রেস আমলে অবতারণা করা হয়েছিল তা এখন মুখ থুবড়ে পড়ল। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ মোদি সরকারের আমলে এ মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং বিস্ফোরণে হতাহতরা বিচারও পাননি।

অভিযুক্তদের কৌঁসুলি জানান, অসীমানন্দসহ পাঁচজনই এদিন আদালতে হাজির ছিলেন। কিন্তু বিচারকরা সব সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘোষণা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণ করা যায়নি। ফলে আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করেন।

ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএ গত সাত বছর ধরে এ মামলার তদন্ত করেছে। তারা যে প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণ করতেই ব্যর্থ হয়েছে, আদালত সে কথাও স্পষ্ট বলেছেন।

আর তার সূত্র ধরেই কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ এ রায়ের পর মন্তব্য করেছেন- সরকার যে নিজের ইচ্ছেমতো এসব সংস্থাকে ব্যবহার করছে, আজকের রায় তার আরও একটি প্রমাণ।

আজাদ বলেন, আমরা একের পর এক ঘটনায় দেখছি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখাতে বা হেনস্তা করতে। সত্যিকে মিথ্যে বা মিথ্যেকে সত্যি বানাতে এসব সংস্থাকে সরকার কাজে লাগাচ্ছে। আর এটি চলছে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছর ধরেই।

তিনি বলেন, এতদিন অন্তত বিচার বিভাগের ওপর মানুষের ভরসাটুকু ছিল- জানি না সেটিও এবার কোথায় যাবে!

হায়দরাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও টুইট করে বলেন, মোদি সরকারের আমলে মক্কা মসজিদ মামলায় একের পর এক সাক্ষী বিগড়ে গেছেন, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা পর্যন্ত করেনি।

বিজেপি অবশ্য এদিন রায় ঘোষণার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই দিল্লিতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, আজকের রায় কংগ্রেসি ষড়যন্ত্রের এক কড়া জবাব।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সেখানে বলেন, কংগ্রেসের জয়পুর অধিবেশনে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার সিন্ধে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা প্রথমবার উচ্চারণ করে হাজার কোটি বছরের হিন্দু সভ্যতাকে প্রথম অপমান করেছিলেন।

তিনি বলেন, সেদিন মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কিংবা সোনিয়া-রাহুল গান্ধীরা কেউ তার প্রতিবাদ করেননি। ধর্মীয় তোষণের রাজনীতি করার জন্য তারা সেদিন যে দেশকে বদনাম করতেও পিছপা হননি। আজ সেই ষড়যন্ত্রই ফাঁস হয়ে গেল।

বিজেপির কট্টরপন্থী এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আবার বলছেন, সোনিয়া-রাহুল-চিদম্বরম যে হিন্দু সন্ত্রাসের কথা বলে আসলে হিন্দুবিরোধী চক্রান্ত করেছিলেন, সেটি এখন পরিষ্কার।

তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার ও মিথ্যে জেল খাটানোর জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়েরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

২০১০ সালে মক্কা মসজিদ মামলার চার্জশিটে সিবিআই বলেছিল, হিন্দুদের মন্দিরে ও তাদের ওপরে একের পর এক ইসলামি হামলার প্রতিশোধ নিতেই নাকি অসীমানন্দসহ অন্য অভিযুক্তরা এ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু বিস্ফোরণের ১১ বছরের মাথায় এসে সরকারেরই আরেক সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে সেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে গেলেন। শুধু রয়ে গেল হিন্দু সন্ত্রাসের তত্ত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক।

হায়দরাবাদ শহরের প্রতীক বিখ্যাত তোরণ চারমিনারের কাছে এ মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৬১৬-১৭ সালে।

তখণ সময়টি ছিল সুলতান মুহাম্মদ কুতুবের রাজত্বকাল। কুতুব শাহী সুলতানরা ১৫১৮ সাল থেকে ১৬৮৭ সাল পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের গোলকোন্ডা রাজ্য শাসন করেছেন।