আকাশ নিউজ ডেস্ক:
গহনার সাজে প্রকাশ পায় নারীর সৌন্দর্য। তাই যুগের পর যুগ ধরে নারীর সাজের ক্যানভাসে থাকে নানা গহনা। সেই আদিকাল থেকে গহনা নারীর সাজের ভূষণ। তাই একে ঘিরে থাকে নানা পরিবর্তন আর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এক অভিব্যক্তি। বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে যে কোনো অনুষ্ঠানে সাজের ডালায় থাকে গহনা।
সময়ের চাকায় ফিরে তাকালে দেখা যাবে, আগে নারীর সাজের গহনায় মাটি, তামা, পিতল, পাতা, গাছের বাকলসহ নানা কিছুর প্রাধান্য থাকত সবার ঊর্ধ্বে। এর পরে আসে গহনার ব্যবহার। শুরু হয় নানা আকৃতির আর ডিজাইনের নকশা করে গহনা তৈরির পালা। গলার হার, মাদুলি, টিকলি, টায়রা, সীতাহার, পাটিহার, কণ্ঠহার, হাতের বালা, নাকের নোলক কত গহনাতেই নারী সাজায় তার নিজেকে।
আর এসব গহনাও যেন তার সাজের সঙ্গী হতে নানা রঙে-ঢংয়ে আর নামে আসে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তবে কিছু গহনা তার নিজের অবস্থানেই যেন শ্রেষ্ঠ। তার নিজস্বতায় রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। গহনার এ ভিড়ে ঠিক তেমনি সাজের গহনা হচ্ছে ঝুমকা। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এতে পরিবর্তন এলেও নানা সময়ে আর যে কোনো সাজের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে যায় ঝুমকা। একটি সময় কেবল শাড়ির সঙ্গে ঝুমকা পরা হতো। বর্তমানে সেই ধারাতে এসেছে পরিবর্তন। রুচি আর অভিব্যক্তির মিশ্রণে ঝুমকা তার জায়গা কেড়ে নিয়েছে নারীর সাজের যে কোনো ভূষণে। গহনার এ ধারাতে পরিবর্তন এলেও ঝুমকাতে রয়েছে আধিপত্য থেকে শুরু করে রাজকীয় সাজ। এমনটি মনে করেন কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং গহনা ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনক। তিনি বলেন, যারা খুব কম সাজে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তাদের জন্য ঝুমকা হতে পারে সঠিক নির্বাচন। এটি খুব সহজে যেমন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়,তেমনি এর আকৃতির পরিবর্তন আর নানা ডিজাইনের জন্য এটি বর্তমানে সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ঝুমকার ব্যবহার এ অঞ্চলে নতুন নয়। এর ব্যবহার চলে আসছে অনেক আগে থেকেই।
আর সেই সময় থেকে স্বর্ণ, রূপা, তামায় নানা ডিজাইনে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছে ঝুমকা। ঝুমকা একটি সময় কেবল এক তারের বেষ্টনীতেই আবদ্ধ করে পরা হতো। বর্তমানে এতে যুক্ত হয়েছে নানা ডিজাইন। একটি তারের বৃত্ততে অনেক ছোট ছোট ঝুমকা একত্রিত করে পরতে দেখা যায় ফ্যাশনপ্রেমী নারীর সাজে। এছাড়াও তামা, পিতল, কাঁসা, স্বর্ণ, রূপা থেকে শুরু করে গোল্ড প্লেটের ওপর নানা ডিজাইন করে তৈরি করা হয় এক একটি ঝুমকা। এর সঙ্গে আরও আছে নানা নকশাও।
পাতা-লতা ছাড়া জ্যামিতিক নকশা, ফুল পাখির কারুকাজ যেন ঝুমকার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলে শতগুণ। এছাড়া এতে থাকে পাথরের কাজ, পুঁতির কাজ আবার কখনও স্টোনের কাজও। কিছু ঝুমকাতে থাকে চেইন; যা খোঁপা কিংবা মাথার চুলের সঙ্গে আটকিয়েও পরা যায়। আবার কিছু ঝুমকাতে ছোট-বড় নানা আকৃতির চেইন আর তাতেও ঝুমকা বসিয়ে তৈরি করা হয়।
এছাড়া গোল আকারের ঝুকমাতে অনেক ছোট ছোট আকৃতির পাথর আর রূপার কাজ করা ঝুমকা বসিয়েও তাকে দেয়া হয়েছে নান্দনিকতা। অন্যদিকে গোল আকৃতির ঝুমকা ছাড়াও রয়েছে চারকোণা, ত্রিকোণা আর বক্স আকৃতির নানা ধরনের ফ্যাশনেবল ঝুমকা।
কোথায় পাবেন
যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট-গাউছিয়া, রাপা প্লাজা, মেট্রোশপিংমলসহ আপনার আশপাশের শপিংমলে একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন পছন্দসই ঝুমকা। এছাড়াও অনলাইন শপগুলোতে পাবেন।
দাম
এসব ঝুমকা আকার-আকৃতির ওপর নির্ভর করে ৬০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























