ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

রাজশাহীতে আগাছানাশক প্রয়োগে মরেছে ৩শ বিঘার ধান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আগাছানাশক প্রয়োগে বোরো ধানের চারা মরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক একটি আগাছানাশক প্রয়োগে ৩শ বিঘা চারাধান নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এসিআই অ্যাগ্রোর কর্তারা।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বিড়ইল, শেীরামপুর, রৈাগীতলা, বলিয়াডাং, দাদৌড়, মধুমাঠ, বিজয়নগর ও আইহাই এলাকায় বোরো জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করলে ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব এলাকার কৃষকেরা জানান, এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগ করলে ঘাসের সঙ্গে ধানের চারাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করে কোন লাভ হচ্ছে না।

বিজয়নগর ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ধানের চারা গোড়া ও শিকড়ে পচন ধরেছে। নতুন করে চারার কুশি তৈরি হচ্ছে না। পচন রোধে কৃষকেরা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করে। কিন্তু পচন রোধ না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

উপজেলার বিড়ইলের কৃষক ইসারুল হক বলেন, স্থানীয় কীটনাশকের দোকান থেকে সংগ্রহ করে ১২ বিঘা জমির বোরো ধানে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করি। দুইদিন পর জমির ঘাসের সঙ্গে ধানও মরা শুরু করে। এতে করে এক সপ্তর ব্যবধানে সম্পূর্ণ বোরো ধানের চারা মরে যায়। প্রতি বিঘা বোরো ধান চাষে কৃষক এসারুলের খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

উপজেলার শ্রীরামপুরের কৃষক আবদুর রহিমের চার বিঘা, আইনালের তিন বিঘা, বলিয়াডাংয়ের মাজারুলের পাঁচ বিঘাসহ এ এলাকার শতাধিক কৃষকের ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে নষ্ট গেছে। এ ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে নি কৃষকরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির বিজনেস ম্যানেজার বিএম সাইফুল্লাহ বলেন, জমিতে ধানের চারা রোপণের এক সপ্তার মধ্যে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হয়। কিন্ত সঠিক সময় না মেনে ও মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এসিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কারণ নির্ণয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করছে। জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

রাজশাহীতে আগাছানাশক প্রয়োগে মরেছে ৩শ বিঘার ধান

আপডেট সময় ১২:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আগাছানাশক প্রয়োগে বোরো ধানের চারা মরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক একটি আগাছানাশক প্রয়োগে ৩শ বিঘা চারাধান নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এসিআই অ্যাগ্রোর কর্তারা।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বিড়ইল, শেীরামপুর, রৈাগীতলা, বলিয়াডাং, দাদৌড়, মধুমাঠ, বিজয়নগর ও আইহাই এলাকায় বোরো জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করলে ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব এলাকার কৃষকেরা জানান, এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগ করলে ঘাসের সঙ্গে ধানের চারাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করে কোন লাভ হচ্ছে না।

বিজয়নগর ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ধানের চারা গোড়া ও শিকড়ে পচন ধরেছে। নতুন করে চারার কুশি তৈরি হচ্ছে না। পচন রোধে কৃষকেরা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করে। কিন্তু পচন রোধ না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

উপজেলার বিড়ইলের কৃষক ইসারুল হক বলেন, স্থানীয় কীটনাশকের দোকান থেকে সংগ্রহ করে ১২ বিঘা জমির বোরো ধানে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করি। দুইদিন পর জমির ঘাসের সঙ্গে ধানও মরা শুরু করে। এতে করে এক সপ্তর ব্যবধানে সম্পূর্ণ বোরো ধানের চারা মরে যায়। প্রতি বিঘা বোরো ধান চাষে কৃষক এসারুলের খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

উপজেলার শ্রীরামপুরের কৃষক আবদুর রহিমের চার বিঘা, আইনালের তিন বিঘা, বলিয়াডাংয়ের মাজারুলের পাঁচ বিঘাসহ এ এলাকার শতাধিক কৃষকের ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে নষ্ট গেছে। এ ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে নি কৃষকরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির বিজনেস ম্যানেজার বিএম সাইফুল্লাহ বলেন, জমিতে ধানের চারা রোপণের এক সপ্তার মধ্যে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হয়। কিন্ত সঠিক সময় না মেনে ও মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এসিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কারণ নির্ণয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করছে। জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানি।