ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ৯ দফার ঘোষক কাদের: ফিমেল জোন যেন ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয় ৩০০ এমপিকে হাওড় ঘুরে আসার আহ্বান নাহিদের ভয়াবহ দাবানল : ফ্রান্সে সরানো হলো ৬৩ হাজার মানুষ, স্পেনে জরুরি অবস্থা মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাত, লেগেছে ৪৩ সেলাই আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মের নামে যারা বিভক্তি চায়, তারা জাতি ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও সাহাবুদ্দিনের বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল: স্পিকার

রাজশাহীতে আগাছানাশক প্রয়োগে মরেছে ৩শ বিঘার ধান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আগাছানাশক প্রয়োগে বোরো ধানের চারা মরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক একটি আগাছানাশক প্রয়োগে ৩শ বিঘা চারাধান নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এসিআই অ্যাগ্রোর কর্তারা।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বিড়ইল, শেীরামপুর, রৈাগীতলা, বলিয়াডাং, দাদৌড়, মধুমাঠ, বিজয়নগর ও আইহাই এলাকায় বোরো জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করলে ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব এলাকার কৃষকেরা জানান, এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগ করলে ঘাসের সঙ্গে ধানের চারাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করে কোন লাভ হচ্ছে না।

বিজয়নগর ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ধানের চারা গোড়া ও শিকড়ে পচন ধরেছে। নতুন করে চারার কুশি তৈরি হচ্ছে না। পচন রোধে কৃষকেরা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করে। কিন্তু পচন রোধ না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

উপজেলার বিড়ইলের কৃষক ইসারুল হক বলেন, স্থানীয় কীটনাশকের দোকান থেকে সংগ্রহ করে ১২ বিঘা জমির বোরো ধানে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করি। দুইদিন পর জমির ঘাসের সঙ্গে ধানও মরা শুরু করে। এতে করে এক সপ্তর ব্যবধানে সম্পূর্ণ বোরো ধানের চারা মরে যায়। প্রতি বিঘা বোরো ধান চাষে কৃষক এসারুলের খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

উপজেলার শ্রীরামপুরের কৃষক আবদুর রহিমের চার বিঘা, আইনালের তিন বিঘা, বলিয়াডাংয়ের মাজারুলের পাঁচ বিঘাসহ এ এলাকার শতাধিক কৃষকের ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে নষ্ট গেছে। এ ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে নি কৃষকরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির বিজনেস ম্যানেজার বিএম সাইফুল্লাহ বলেন, জমিতে ধানের চারা রোপণের এক সপ্তার মধ্যে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হয়। কিন্ত সঠিক সময় না মেনে ও মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এসিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কারণ নির্ণয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করছে। জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

রাজশাহীতে আগাছানাশক প্রয়োগে মরেছে ৩শ বিঘার ধান

আপডেট সময় ১২:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আগাছানাশক প্রয়োগে বোরো ধানের চারা মরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক একটি আগাছানাশক প্রয়োগে ৩শ বিঘা চারাধান নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এসিআই অ্যাগ্রোর কর্তারা।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বিড়ইল, শেীরামপুর, রৈাগীতলা, বলিয়াডাং, দাদৌড়, মধুমাঠ, বিজয়নগর ও আইহাই এলাকায় বোরো জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করলে ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব এলাকার কৃষকেরা জানান, এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির ‘জাম্প’ নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগ করলে ঘাসের সঙ্গে ধানের চারাও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করে কোন লাভ হচ্ছে না।

বিজয়নগর ব্লকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ধানের চারা গোড়া ও শিকড়ে পচন ধরেছে। নতুন করে চারার কুশি তৈরি হচ্ছে না। পচন রোধে কৃষকেরা অন্য কীটনাশক ব্যবহার করে। কিন্তু পচন রোধ না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

উপজেলার বিড়ইলের কৃষক ইসারুল হক বলেন, স্থানীয় কীটনাশকের দোকান থেকে সংগ্রহ করে ১২ বিঘা জমির বোরো ধানে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করি। দুইদিন পর জমির ঘাসের সঙ্গে ধানও মরা শুরু করে। এতে করে এক সপ্তর ব্যবধানে সম্পূর্ণ বোরো ধানের চারা মরে যায়। প্রতি বিঘা বোরো ধান চাষে কৃষক এসারুলের খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

উপজেলার শ্রীরামপুরের কৃষক আবদুর রহিমের চার বিঘা, আইনালের তিন বিঘা, বলিয়াডাংয়ের মাজারুলের পাঁচ বিঘাসহ এ এলাকার শতাধিক কৃষকের ৩শ বিঘা জমির বোরো ধান আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে নষ্ট গেছে। এ ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জাম্প নামক আগাছানাশক বোরো ধানে প্রয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে নি কৃষকরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানির বিজনেস ম্যানেজার বিএম সাইফুল্লাহ বলেন, জমিতে ধানের চারা রোপণের এক সপ্তার মধ্যে জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হয়। কিন্ত সঠিক সময় না মেনে ও মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এসিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কারণ নির্ণয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করছে। জাম্প নামক আগাছানাশক প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে এসিআই অ্যাগ্রো কোম্পানি।