ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পোড়াদহ মেলায় শত কেজি ওজনের বাঘাআইড়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার স্বল্প পরিসরে হলেও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এবার মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ১০০ কেজি ওজনের যমুনা নদীর বাঘাআইড় মাছ। দাম হাঁকা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এককভাবে কেউ কিনতে না পারায় প্রতি কেজি এক হাজার ২৫০ টাকা হিসাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

গাবতলীর মাছ ব্যবসায়ী ভোলা, কাশেম, লাল মিয়া, নান্নু, জলিল ও মোস্তা বিশাল আকৃতির ১০০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ তোলেন। যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি, ১৫-১৮ কেজি ওজনের কাতলা দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি, ৮-১০ কেজি ওজনের কাতলা এক হাজার ২০০ টাকা, ১০-১২ কেজির আইড় মাছ এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া এছাড়া রুই, পাঙাশ, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন মাছ মোলায় তোলা হয়েছিল।

এলাকার মুরুব্বি খাজা উদ্দিন, মহররম আলী, আব্বাস খলিফা, সুজা উদ্দিন প্রমুখ জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি বন্দরের কাছে পোড়াদহ এলাকায় নদীর পাশে একদিনের পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মণ্ডল পরিবার বংশানুক্রমে মেলা পরিচালনার দায়িত্বপালন করে থাকে।

এ সময় শত বিঘা জমির ২২ জন মালিক চাষাবাদ বন্ধ রাখেন। গত বছর মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের টোল আদায়ের দায়িত্ব দেননি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার তারা ওই জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলে এবার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বল্প পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়।

তারা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকেন। প্রতিটি বাড়িতে মেলার মাছ, গোশত ও হরেক রকম পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন চলছে।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিক রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। জামাই মেয়েসহ আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোড়াদহ মেলায় শত কেজি ওজনের বাঘাআইড়

আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার স্বল্প পরিসরে হলেও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এবার মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ১০০ কেজি ওজনের যমুনা নদীর বাঘাআইড় মাছ। দাম হাঁকা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এককভাবে কেউ কিনতে না পারায় প্রতি কেজি এক হাজার ২৫০ টাকা হিসাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

গাবতলীর মাছ ব্যবসায়ী ভোলা, কাশেম, লাল মিয়া, নান্নু, জলিল ও মোস্তা বিশাল আকৃতির ১০০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ তোলেন। যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি, ১৫-১৮ কেজি ওজনের কাতলা দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি, ৮-১০ কেজি ওজনের কাতলা এক হাজার ২০০ টাকা, ১০-১২ কেজির আইড় মাছ এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া এছাড়া রুই, পাঙাশ, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন মাছ মোলায় তোলা হয়েছিল।

এলাকার মুরুব্বি খাজা উদ্দিন, মহররম আলী, আব্বাস খলিফা, সুজা উদ্দিন প্রমুখ জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি বন্দরের কাছে পোড়াদহ এলাকায় নদীর পাশে একদিনের পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মণ্ডল পরিবার বংশানুক্রমে মেলা পরিচালনার দায়িত্বপালন করে থাকে।

এ সময় শত বিঘা জমির ২২ জন মালিক চাষাবাদ বন্ধ রাখেন। গত বছর মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের টোল আদায়ের দায়িত্ব দেননি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার তারা ওই জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলে এবার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বল্প পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়।

তারা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকেন। প্রতিটি বাড়িতে মেলার মাছ, গোশত ও হরেক রকম পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন চলছে।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিক রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। জামাই মেয়েসহ আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।