ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

পোড়াদহ মেলায় শত কেজি ওজনের বাঘাআইড়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার স্বল্প পরিসরে হলেও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এবার মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ১০০ কেজি ওজনের যমুনা নদীর বাঘাআইড় মাছ। দাম হাঁকা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এককভাবে কেউ কিনতে না পারায় প্রতি কেজি এক হাজার ২৫০ টাকা হিসাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

গাবতলীর মাছ ব্যবসায়ী ভোলা, কাশেম, লাল মিয়া, নান্নু, জলিল ও মোস্তা বিশাল আকৃতির ১০০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ তোলেন। যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি, ১৫-১৮ কেজি ওজনের কাতলা দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি, ৮-১০ কেজি ওজনের কাতলা এক হাজার ২০০ টাকা, ১০-১২ কেজির আইড় মাছ এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া এছাড়া রুই, পাঙাশ, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন মাছ মোলায় তোলা হয়েছিল।

এলাকার মুরুব্বি খাজা উদ্দিন, মহররম আলী, আব্বাস খলিফা, সুজা উদ্দিন প্রমুখ জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি বন্দরের কাছে পোড়াদহ এলাকায় নদীর পাশে একদিনের পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মণ্ডল পরিবার বংশানুক্রমে মেলা পরিচালনার দায়িত্বপালন করে থাকে।

এ সময় শত বিঘা জমির ২২ জন মালিক চাষাবাদ বন্ধ রাখেন। গত বছর মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের টোল আদায়ের দায়িত্ব দেননি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার তারা ওই জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলে এবার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বল্প পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়।

তারা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকেন। প্রতিটি বাড়িতে মেলার মাছ, গোশত ও হরেক রকম পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন চলছে।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিক রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। জামাই মেয়েসহ আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

পোড়াদহ মেলায় শত কেজি ওজনের বাঘাআইড়

আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার স্বল্প পরিসরে হলেও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এবার মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ১০০ কেজি ওজনের যমুনা নদীর বাঘাআইড় মাছ। দাম হাঁকা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এককভাবে কেউ কিনতে না পারায় প্রতি কেজি এক হাজার ২৫০ টাকা হিসাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

গাবতলীর মাছ ব্যবসায়ী ভোলা, কাশেম, লাল মিয়া, নান্নু, জলিল ও মোস্তা বিশাল আকৃতির ১০০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ তোলেন। যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি, ১৫-১৮ কেজি ওজনের কাতলা দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি, ৮-১০ কেজি ওজনের কাতলা এক হাজার ২০০ টাকা, ১০-১২ কেজির আইড় মাছ এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি বিক্রি হয়। এছাড়া এছাড়া রুই, পাঙাশ, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন মাছ মোলায় তোলা হয়েছিল।

এলাকার মুরুব্বি খাজা উদ্দিন, মহররম আলী, আব্বাস খলিফা, সুজা উদ্দিন প্রমুখ জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি বন্দরের কাছে পোড়াদহ এলাকায় নদীর পাশে একদিনের পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মণ্ডল পরিবার বংশানুক্রমে মেলা পরিচালনার দায়িত্বপালন করে থাকে।

এ সময় শত বিঘা জমির ২২ জন মালিক চাষাবাদ বন্ধ রাখেন। গত বছর মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের টোল আদায়ের দায়িত্ব দেননি। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার তারা ওই জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলে এবার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বল্প পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়।

তারা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকেন। প্রতিটি বাড়িতে মেলার মাছ, গোশত ও হরেক রকম পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন চলছে।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিক রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। জামাই মেয়েসহ আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।