ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

১৫ ছাত্রকে ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৫ ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষ থেকে এক শিক্ষিকাকে উদ্ধারের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ওই ১৫ ছাত্রকে স্থায়ী বহিস্কারের সুপারিশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল দৈনিক আকাশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দৈনিক আকাশকে বলেন, ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্য তিনজন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ২০১১-১২ সেশনের দুই জন, ২০১৩-১৪ সেশনের ১ জন এবং ২০১৬-১৭ সেশনের একজন রয়েছে।

জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃতরা তিনজন হলো- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয় (২০১১-১২), পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন রানা (২০১১-১২), ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন (২০১৩-১৪)।

এই তিন জন জালিয়াত চক্রের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করতো। রানা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিল। ঘটনার পর তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া ২০১৬-১৭ সেশনের বহিষ্কৃতরা হলো- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাহিদ ইফতেখার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. আজিজুল হাকিম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের বায়েজীদ, সংস্কৃত বিভাগের প্রসেনজিৎ দাস, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ফারদিন আহমেদ সাব্বির, অর্থনীতি বিভাগের রিফাত হোসাইন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফসান করিম, বাংলা বিভাগের আখিনুর রহমান অনিক, ইতিহাস বিভাগের টিএম তানভীর হাসনাইন, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মুন্সী সুজাউর রহমান এবং পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল হাসান নাঈম।

এদিকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষ থেকে শিক্ষিকা উদ্ধারের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদ কামাল ও নীলিমা আক্তার।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের প্রতিবেদন, শিক্ষকদ্বয়ের স্ব স্ব বিভাগের সিএন্ডডি’র সিদ্ধান্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- সিন্ডিকেট সদস্য ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক, সিন্ডিকেট সদস্য নীলিমা আক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য বাহালুল মজনুন চুন্নু। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সূত্র জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর শনিবার এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কাওসার লতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আকিব উল হকের কক্ষ হতে তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় আকিব উল হকের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী তাহমিনা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বরারব একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আকিব উল হককে অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং উম্মে কাউসার লতাকে এক বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

১৫ ছাত্রকে ঢাবি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

আপডেট সময় ০১:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৫ ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষ থেকে এক শিক্ষিকাকে উদ্ধারের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ওই ১৫ ছাত্রকে স্থায়ী বহিস্কারের সুপারিশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল দৈনিক আকাশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দৈনিক আকাশকে বলেন, ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্য তিনজন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ২০১১-১২ সেশনের দুই জন, ২০১৩-১৪ সেশনের ১ জন এবং ২০১৬-১৭ সেশনের একজন রয়েছে।

জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃতরা তিনজন হলো- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয় (২০১১-১২), পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন রানা (২০১১-১২), ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন (২০১৩-১৪)।

এই তিন জন জালিয়াত চক্রের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করতো। রানা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিল। ঘটনার পর তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া ২০১৬-১৭ সেশনের বহিষ্কৃতরা হলো- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাহিদ ইফতেখার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. আজিজুল হাকিম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের বায়েজীদ, সংস্কৃত বিভাগের প্রসেনজিৎ দাস, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ফারদিন আহমেদ সাব্বির, অর্থনীতি বিভাগের রিফাত হোসাইন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফসান করিম, বাংলা বিভাগের আখিনুর রহমান অনিক, ইতিহাস বিভাগের টিএম তানভীর হাসনাইন, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মুন্সী সুজাউর রহমান এবং পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল হাসান নাঈম।

এদিকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষ থেকে শিক্ষিকা উদ্ধারের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদ কামাল ও নীলিমা আক্তার।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের প্রতিবেদন, শিক্ষকদ্বয়ের স্ব স্ব বিভাগের সিএন্ডডি’র সিদ্ধান্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- সিন্ডিকেট সদস্য ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক, সিন্ডিকেট সদস্য নীলিমা আক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য বাহালুল মজনুন চুন্নু। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সূত্র জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর শনিবার এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কাওসার লতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আকিব উল হকের কক্ষ হতে তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় আকিব উল হকের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী তাহমিনা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বরারব একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আকিব উল হককে অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং উম্মে কাউসার লতাকে এক বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।