ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যানজটে ভেস্তে গেল বিসিএসের স্বপ্ন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। তাই পরীক্ষায় বসতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন তারা। কিন্তু যানজটে পড়ে তারা সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হতে পারেননি। বগুড়া অঞ্চলের এই ১৫০ শিক্ষার্থীর অনেকেরই এবার ছিলো বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ। তাই থেমে গেলো তাদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন।

শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় তাদের কেন্দ্র ছিলো রাজশাহী কলেজ। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঢুকতে দেয়নি। এ সময় পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। তবুও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ মেলেনি তাদের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়ার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেক পরীক্ষার্থী স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ গেট খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছেন পুলিশকে। আবার কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন হতাশায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এক কথা, সরকারি কর্ম কমিশনের বেঁধে দেয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে তাদের পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না।

বগুড়া থেকে রাজশাহী কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী শিলা খাতুন দৈনিক আকাশকে জানান, নাটোর-বগুড়া সড়কের রণবাঘা নামক স্থানে একটি ট্রাক উল্টে সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সড়কের দুই পাশে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। এই যানজটে আটকে পড়ে বগুড়া থেকে রাজশাহী আসা বাসগুলো। আটকে পড়েন পরীক্ষার্থীরাও।

পরে সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসতে কয়েক মিনিট দেরি হয়ে যায়। তাই রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রের অন্তত ১৫০ জন বিসিএস পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেন না। তিনি যে বাসে এসেছেন সে বাসেই অন্তত ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানান শিলা খাতুন।

আরেক পরীক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি বগুড়া থেকে রওনা হন। তার বাসেও ৫২ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক মিনিট দেরি হওয়ায় তারাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের অনেকেরই ছিলো এবার পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ।

কান্নায় ভেঙে পড়ে বগুড়ার পরীক্ষার্থী আফসানা আফরিন বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। উৎকোচ দিয়ে চাকরি নেয়ার সামর্থ্য নেই। তাই অনেক কষ্ট করে ভালোভাবে পড়াশোনা করেছিলেন। প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষার। ভেবেছিলেন- বিসিএস ক্যাডার হয়ে দুঃখ ঘুচাবেন বাবা-মায়ের। কিন্তু যানজটে ভেস্তে গেলো তার সেই রঙিন স্বপ্ন।

জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, পরীক্ষা দিতে হলে সকাল ১০টার মধ্যে অন্তত কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে হবে। এটা নিয়ম। কিছু পরীক্ষার্থীরা এই সময়ের মধ্যে আসতে না পারায় তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন তিন হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা একে একে কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন। তখনও পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় যানজটে আটকে পড়া পরীক্ষার্থীরা। এক সময় বের হতে থাকা পরীক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ে। এই ভিড়ের মাঝেই হারিয়ে যান পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীরাও। চুরমার যায় তাদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যানজটে ভেস্তে গেল বিসিএসের স্বপ্ন

আপডেট সময় ০২:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। তাই পরীক্ষায় বসতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন তারা। কিন্তু যানজটে পড়ে তারা সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হতে পারেননি। বগুড়া অঞ্চলের এই ১৫০ শিক্ষার্থীর অনেকেরই এবার ছিলো বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ। তাই থেমে গেলো তাদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন।

শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় তাদের কেন্দ্র ছিলো রাজশাহী কলেজ। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঢুকতে দেয়নি। এ সময় পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। তবুও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ মেলেনি তাদের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়ার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেক পরীক্ষার্থী স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ গেট খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছেন পুলিশকে। আবার কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন হতাশায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এক কথা, সরকারি কর্ম কমিশনের বেঁধে দেয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে তাদের পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না।

বগুড়া থেকে রাজশাহী কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী শিলা খাতুন দৈনিক আকাশকে জানান, নাটোর-বগুড়া সড়কের রণবাঘা নামক স্থানে একটি ট্রাক উল্টে সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সড়কের দুই পাশে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। এই যানজটে আটকে পড়ে বগুড়া থেকে রাজশাহী আসা বাসগুলো। আটকে পড়েন পরীক্ষার্থীরাও।

পরে সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসতে কয়েক মিনিট দেরি হয়ে যায়। তাই রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রের অন্তত ১৫০ জন বিসিএস পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেন না। তিনি যে বাসে এসেছেন সে বাসেই অন্তত ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানান শিলা খাতুন।

আরেক পরীক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি বগুড়া থেকে রওনা হন। তার বাসেও ৫২ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক মিনিট দেরি হওয়ায় তারাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের অনেকেরই ছিলো এবার পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ।

কান্নায় ভেঙে পড়ে বগুড়ার পরীক্ষার্থী আফসানা আফরিন বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। উৎকোচ দিয়ে চাকরি নেয়ার সামর্থ্য নেই। তাই অনেক কষ্ট করে ভালোভাবে পড়াশোনা করেছিলেন। প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষার। ভেবেছিলেন- বিসিএস ক্যাডার হয়ে দুঃখ ঘুচাবেন বাবা-মায়ের। কিন্তু যানজটে ভেস্তে গেলো তার সেই রঙিন স্বপ্ন।

জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, পরীক্ষা দিতে হলে সকাল ১০টার মধ্যে অন্তত কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে হবে। এটা নিয়ম। কিছু পরীক্ষার্থীরা এই সময়ের মধ্যে আসতে না পারায় তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন তিন হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা একে একে কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন। তখনও পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় যানজটে আটকে পড়া পরীক্ষার্থীরা। এক সময় বের হতে থাকা পরীক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ে। এই ভিড়ের মাঝেই হারিয়ে যান পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীরাও। চুরমার যায় তাদের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নও।