ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

খালেদার সাজা হলে বিচার করবে জাতি: খালেদার আইনজীবী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে জাতি এর বিচার করবে বলে বিচারককে সতর্ক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এই রায় ইতিহাস হয়ে থাকবে জানিয়ে তিনি এমনও বলেছেন, এই মামলায় বিএনপি প্রধানকে সাজা দেয়া উচিত হবে না।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে বিএনপি নেত্রীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছিলেন খন্দকার মাহবুব। গত পাঁচ কার্যদিবস ধরে খালেদার আইনজীবীদের এই যুক্তি উপস্থাপন চলছে। আজকেই এই যুক্তি দেয়া শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।

খালেদা জিয়া সকালে আদালতে আসার পর তার আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা। তারা এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন।

এরপর গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২১ ডিসেম্বর বিএনপি প্রধানের আইনজীবীদের আবেদনের পর ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর আবার যু্ক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেন বিচারক। গত দুই দিন বিএনপি নেত্রীর পক্ষে আদালতে কথা বলেন তার আইনজীবী আবদুল রেজাক খান। আজ কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিচারককে উদ্দেশ্য করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আপনি ন্যায় বিচার করবেন। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করবেন। এটা একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ এই আইনজীবী বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে ফায়দা নিতে চান। কিন্তু সবক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না।এটা সে রকমের একটি মামলা।’

বিচারকের উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী বলেন, ‘আপনার কাছে একটা নিবেদন থাকবে এই মামলায় যে ছায়া নথি আনা হয়েছে সেটি ঘষামাজা, স্বাক্ষরবিহীন কাগজপত্র। সেটা দিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ঘষামাজা কাগজ দিয়ে করা মামলায় যদি সাজা দেয়া হয় তাহলে সারা জাতি এর বিচার করবে।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি করে দুদক। এতে ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই মামলায় তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এই মামলা ছাড়াও একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা চলছে। এই ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খালেদার সাজা হলে বিচার করবে জাতি: খালেদার আইনজীবী

আপডেট সময় ০২:৪২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে জাতি এর বিচার করবে বলে বিচারককে সতর্ক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এই রায় ইতিহাস হয়ে থাকবে জানিয়ে তিনি এমনও বলেছেন, এই মামলায় বিএনপি প্রধানকে সাজা দেয়া উচিত হবে না।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে বিএনপি নেত্রীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছিলেন খন্দকার মাহবুব। গত পাঁচ কার্যদিবস ধরে খালেদার আইনজীবীদের এই যুক্তি উপস্থাপন চলছে। আজকেই এই যুক্তি দেয়া শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।

খালেদা জিয়া সকালে আদালতে আসার পর তার আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা। তারা এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন।

এরপর গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২১ ডিসেম্বর বিএনপি প্রধানের আইনজীবীদের আবেদনের পর ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর আবার যু্ক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেন বিচারক। গত দুই দিন বিএনপি নেত্রীর পক্ষে আদালতে কথা বলেন তার আইনজীবী আবদুল রেজাক খান। আজ কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিচারককে উদ্দেশ্য করে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আপনি ন্যায় বিচার করবেন। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করবেন। এটা একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ এই আইনজীবী বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে ফায়দা নিতে চান। কিন্তু সবক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না।এটা সে রকমের একটি মামলা।’

বিচারকের উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী বলেন, ‘আপনার কাছে একটা নিবেদন থাকবে এই মামলায় যে ছায়া নথি আনা হয়েছে সেটি ঘষামাজা, স্বাক্ষরবিহীন কাগজপত্র। সেটা দিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ঘষামাজা কাগজ দিয়ে করা মামলায় যদি সাজা দেয়া হয় তাহলে সারা জাতি এর বিচার করবে।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি করে দুদক। এতে ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই মামলায় তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এই মামলা ছাড়াও একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা চলছে। এই ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।