ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে নতুন জোটের ঘোষণা আরব আমিরাতের

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন জোটের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ঘোষণায় ঝুলতে থাকা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি’র ভবিষ্যৎ কার্যত হুমকির মুখে পড়লো। সংগঠনটির বার্ষিক অধিবেশনে কাতারের ওপর আরোপিত সৌদি মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই একদিন বাকি থাকতেই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিসিসি’র গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন কুয়েতের আমির।

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি’র ৩৮তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার কুয়েতে। অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরব বিশ্বের ছয়টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জিসিসি মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং ওমানের মধ্যকার বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সামরিক সহযোগী জোট।

সম্মেলনকে ঘিরে এ বছর অতিমাত্রায় প্রত্যাশিত ছিল কাতার। গত ছয় মাসের মধ্যে এ সম্মেলনই ছিল নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কাতার সঙ্কট নিয়ে আলোচনার করার মোখ্যম সুযোগ। কাতার সঙ্কট ইস্যুতে জিসিসি সম্মেলনে কোনো ধরনের আলোচান না হওয়ায় হতাশই হয়েছে দোহা।

কাতার সঙ্কট নিয়ে আলোচনা না হলেও সম্মেলনে ইয়েমেন এবং ইরানের বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যা করায় হাউথি বিদ্রোহীদের কড়া সমালোচনা করে জিসিসি সদস্যরা। ইরান সমর্থিত হাউথিদের কবল থেকে ইয়েমেনকে রক্ষা করতে সবপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জিসিসির মহাসচিব আবদুল লাফিত বিন রাশিদ বলেন, ‘ইয়েমেনের জনগণের স্বার্থকে সমর্থন করে জিসিসি। আজকের বিবৃতিতে তাদের চাওয়াকে সম্মান জানিয়েছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেখানকার সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ একইসঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আরব রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে ইরানের কঠোর সমালোচনা করে জিসিসি।

কুয়েত আমির সাবাহ আল-আহমদ বলেন, ‘ইরান আন্তর্জাতিক আইনের পররাষ্ট্রনীতি উপেক্ষা করে অন্যরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এটা আমাদের জন্য বড়ই উদ্বেগের বিষয়। ইরানের এ মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্ভব না।’

একইদিন সৌদি আরবকে নিয়ে জিসিসির সমান্তরালে আরেকটি জোট গঠনের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বাণিজ্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জন্য নতুন কমিটি কাজ করবে। আমিরাতের এমন ঘোষণায় কাতার ইস্যুতে ঝুলতে থাকা জিসিসি’র ভবিষ্যৎ মূলত হুমকিতে পড়লো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরই, কুয়েতের আমির জিসিসির গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের ডাক দেন।

এদিকে, এবারের সম্মেলন মঙ্গল ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে প্রথম দিনেই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে জিসিসি কর্তৃপক্ষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির সঙ্গে নতুন জোটের ঘোষণা আরব আমিরাতের

আপডেট সময় ০৬:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন জোটের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ঘোষণায় ঝুলতে থাকা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি’র ভবিষ্যৎ কার্যত হুমকির মুখে পড়লো। সংগঠনটির বার্ষিক অধিবেশনে কাতারের ওপর আরোপিত সৌদি মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই একদিন বাকি থাকতেই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিসিসি’র গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন কুয়েতের আমির।

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি’র ৩৮তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার কুয়েতে। অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরব বিশ্বের ছয়টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জিসিসি মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং ওমানের মধ্যকার বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সামরিক সহযোগী জোট।

সম্মেলনকে ঘিরে এ বছর অতিমাত্রায় প্রত্যাশিত ছিল কাতার। গত ছয় মাসের মধ্যে এ সম্মেলনই ছিল নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কাতার সঙ্কট নিয়ে আলোচনার করার মোখ্যম সুযোগ। কাতার সঙ্কট ইস্যুতে জিসিসি সম্মেলনে কোনো ধরনের আলোচান না হওয়ায় হতাশই হয়েছে দোহা।

কাতার সঙ্কট নিয়ে আলোচনা না হলেও সম্মেলনে ইয়েমেন এবং ইরানের বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যা করায় হাউথি বিদ্রোহীদের কড়া সমালোচনা করে জিসিসি সদস্যরা। ইরান সমর্থিত হাউথিদের কবল থেকে ইয়েমেনকে রক্ষা করতে সবপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জিসিসির মহাসচিব আবদুল লাফিত বিন রাশিদ বলেন, ‘ইয়েমেনের জনগণের স্বার্থকে সমর্থন করে জিসিসি। আজকের বিবৃতিতে তাদের চাওয়াকে সম্মান জানিয়েছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেখানকার সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ একইসঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আরব রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে ইরানের কঠোর সমালোচনা করে জিসিসি।

কুয়েত আমির সাবাহ আল-আহমদ বলেন, ‘ইরান আন্তর্জাতিক আইনের পররাষ্ট্রনীতি উপেক্ষা করে অন্যরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এটা আমাদের জন্য বড়ই উদ্বেগের বিষয়। ইরানের এ মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্ভব না।’

একইদিন সৌদি আরবকে নিয়ে জিসিসির সমান্তরালে আরেকটি জোট গঠনের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বাণিজ্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জন্য নতুন কমিটি কাজ করবে। আমিরাতের এমন ঘোষণায় কাতার ইস্যুতে ঝুলতে থাকা জিসিসি’র ভবিষ্যৎ মূলত হুমকিতে পড়লো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরই, কুয়েতের আমির জিসিসির গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের ডাক দেন।

এদিকে, এবারের সম্মেলন মঙ্গল ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে প্রথম দিনেই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে জিসিসি কর্তৃপক্ষ।