অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দুই পাশে প্রশস্ত সড়কের মাঝে আড়াই ফুটের ডিভাইডার। সেখানেই ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন গৃহস্থালী বর্জ্য। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ডাবসহ মৌসুমী ফল বিক্রি করে ডিভাইডারেই খোসা ফেলছেন। ড্রেনের ময়লা, পলিথিন ও আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশকিছু মোড়ে। কোথাও কোথাও গরুর গোবরও শুকানো হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধনে স্থাপন করা ফুলের টবগুলোও বর্জ্যে পরিপূর্ণ।দৃশ্যটি খুলনার ব্যস্ততম মুজগুন্নী মহাসড়কের। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে বয়রা বাজার মোড় পর্যন্ত সড়ক ডিভাইডারটি এখন এলাকাবাসীর বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। অথচ সম্প্রসারণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে সড়কটি প্রশস্ত করে ডিভাইডার স্থাপন করেছিলো কেসিসি। এরপর সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফরনেক্স অ্যাড মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু ঠিকমতো কাজ না করায় ডিভাইডারটি পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে।
স্থানীয়রা জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ, ৫০০ শয্যার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় যেতে এই সড়কটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তিন কিলোমিটার সড়কের পুরোটা জুড়ে ডিভাইডারের নানারকম ময়লা, আবর্জনা, বর্জ্য পরিপূর্ণ থাকায় অস্বস্তিতে ভোগেন যাত্রীরা। দিনের পর দিন এভাবে চললেও কেসিসির কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে তাদের মাঝে।কেসিসি থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর রাস্তা ও ফুটপাত সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের জুন মাসে ডিভাইডার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর সড়ক ডিভাইডারটির সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফরনেক্স অ্যাড মিডিয়া নামের একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানকে। কথা ছিলো সৌন্দর্যবর্ধনের বিনিময়ে সেখানে ইউনিপোল, ফেস্টুনসহ বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন তিনি। কিন্তু তিন বছরেও উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেননি তিনি।সূত্রটি জানায়, দায়িত্ব নিয়েও কাজ না করায় এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর কেসিসির ২৮তম সাধারণ সভায় তার চুক্তি বাতিল করা হয়। কিন্তু কেসিসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৩২তম সাধারণ ফের তাকেই সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তখন ৩০ জুনের মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু কোনো কাজ না করায় গত ৪ অক্টোবরের সাধারণ সভায় ফের চুক্তি বাতিল করা হয়। তবে সেই কার্যবিবরণী এখনও স্বাক্ষর হয়নি।গতকাল সোমবার সকালে সড়কটি ঘুরে শ্রীহীন দশা দেখে আক্ষেপ করতে দেখা গেছে এলাকাবাসীকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, নগরীর অন্য সব সড়কের চলাচল করতে সবুজ গাছ ও ফুল দেখে মনটা ভাল হয়ে যায়। আর এই সড়কে চলতে গেলে মনটা খারাপ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কেসিসির বিউটিফিকেশন সেলের চেয়ারম্যান ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, ঠিকমতো কাজ না করায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সে কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছে। ফরনেক্স অ্যাড মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী মোঃ রাসেল বলেন, ওই এলাকায় চোরের উপদ্রব বেশি। পাইপ, তার-এমনকি দামি দামি গাছও চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া এলাকার লোকজন ছাগল ও ভেড়া পালন করেন। তারা গাছ খেয়ে ফেলে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ওই সড়কটিতে কেউ বিজ্ঞাপন দিতে চায় না। রাজনৈতিক দলের প্যানা ও ফেস্টুনের সমস্যা তো আছেই।তিনি বলেন, এখানে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হয়ে গেছে। এখন ছাড়তেও পারছি না, রাখতে তো আরও সমস্যা। সবমিলিয়ে আমি বিপদে আছি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























