ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

৩২ কেজির কামানের গোলা নাকি মদের বোতল? চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাগ্‌যুদ্ধ

পাপুয়া নিউগিনির একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় সম্প্রতি ৩২ কেজি ওজনের বিশালাকার একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। একটি কনটেইনার থেকে উদ্ধার হওয়া এই সন্দেহজনক বস্তুটিকে ঘিরে এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে বাগ্‌যুদ্ধ। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ চারজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।

বেইজিং এই বস্তুর পরিচয় নিয়ে দাবি করেছে, এটি মোটেও কোনো কামানের গোলা নয়। বরং গোলার আকৃতির একটি সাধারণ মদের বোতল, যাতে কোনো ধরণের ঝুঁকি নেই। চীন তাদের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে। সেই যুক্তি দেখিয়ে বেইজিংয়ের দাবি, চীন থেকে অবৈধভাবে সামরিক গ্রেডের কামানের গোলা বাইরে পাচার হওয়া কার্যত অসম্ভব।

তবে চীনের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কোনো মদের বোতল নয়, এটি একটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী কামানের গোলা। পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পাপুয়া নিউগিনির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। তাদের মতে, এটি জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত মারাত্মক একটি বিষয় এবং পাপুয়া নিউগিনির জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে এই বস্তুটিকে বেইজিংয়ের তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ ৫৯’ কামানের গোলা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার ভেতর রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনি পুলিশকে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া এক্স-রে যন্ত্রের সহায়তায় এই পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাপুয়া নিউগিনি পুলিশকে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া একটি এক্স-রে মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষা করে বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য দেশটির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, পাপুয়া নিউগিনির জনগণ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ওয়াশিংটন সব সময় পাশে থাকবে। অন্যদিকে, চীনা দূতাবাস জানিয়েছে তারা স্থানীয় পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বেইজিং জানিয়েছিল, তারা দেশটির সঙ্গে একে অপরের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পাশে থাকতে প্রস্তুত।

এদিকে, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল’ দাবির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিদ্রূপ করে বলছেন, বিশ্বের কোথাও এমন বোতল আগে কখনো দেখা যায়নি। আবার কেউ কেউ চীনা সরকারের এই ব্যাখ্যাকে কাঁচা হাতের কাজ বলে সমালোচনা করছেন। এমনকি চীনের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামগুলোতেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা ও সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল দুনিয়াতে আর কোথায় আছে?’। আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা এটিই সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক মদের বোতল। এমনকি চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামে লেখা হয়েছে, ‘দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পর চীন এখন বিদেশিদেরও বোকা বানাতে চায়’।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে চীন ও পাপুয়া নিউগিনি তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে। এর কয়েক মাস আগেই পাপুয়া নিউগিনি তাইওয়ানের সাথে তাদের অর্থনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করে দেয়, যার প্রশংসা করেছিল বেইজিং। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যদিও গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেছিলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কেবল পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ, কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়। এটি মূলত পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩২ কেজির কামানের গোলা নাকি মদের বোতল? চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাগ্‌যুদ্ধ

আপডেট সময় ০৪:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

পাপুয়া নিউগিনির একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় সম্প্রতি ৩২ কেজি ওজনের বিশালাকার একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। একটি কনটেইনার থেকে উদ্ধার হওয়া এই সন্দেহজনক বস্তুটিকে ঘিরে এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে বাগ্‌যুদ্ধ। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ চারজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।

বেইজিং এই বস্তুর পরিচয় নিয়ে দাবি করেছে, এটি মোটেও কোনো কামানের গোলা নয়। বরং গোলার আকৃতির একটি সাধারণ মদের বোতল, যাতে কোনো ধরণের ঝুঁকি নেই। চীন তাদের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে। সেই যুক্তি দেখিয়ে বেইজিংয়ের দাবি, চীন থেকে অবৈধভাবে সামরিক গ্রেডের কামানের গোলা বাইরে পাচার হওয়া কার্যত অসম্ভব।

তবে চীনের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কোনো মদের বোতল নয়, এটি একটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী কামানের গোলা। পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পাপুয়া নিউগিনির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। তাদের মতে, এটি জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত মারাত্মক একটি বিষয় এবং পাপুয়া নিউগিনির জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে এই বস্তুটিকে বেইজিংয়ের তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ ৫৯’ কামানের গোলা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার ভেতর রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনি পুলিশকে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া এক্স-রে যন্ত্রের সহায়তায় এই পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাপুয়া নিউগিনি পুলিশকে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া একটি এক্স-রে মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষা করে বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য দেশটির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, পাপুয়া নিউগিনির জনগণ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ওয়াশিংটন সব সময় পাশে থাকবে। অন্যদিকে, চীনা দূতাবাস জানিয়েছে তারা স্থানীয় পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বেইজিং জানিয়েছিল, তারা দেশটির সঙ্গে একে অপরের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পাশে থাকতে প্রস্তুত।

এদিকে, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল’ দাবির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিদ্রূপ করে বলছেন, বিশ্বের কোথাও এমন বোতল আগে কখনো দেখা যায়নি। আবার কেউ কেউ চীনা সরকারের এই ব্যাখ্যাকে কাঁচা হাতের কাজ বলে সমালোচনা করছেন। এমনকি চীনের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামগুলোতেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা ও সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল দুনিয়াতে আর কোথায় আছে?’। আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা এটিই সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক মদের বোতল। এমনকি চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামে লেখা হয়েছে, ‘দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পর চীন এখন বিদেশিদেরও বোকা বানাতে চায়’।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে চীন ও পাপুয়া নিউগিনি তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে। এর কয়েক মাস আগেই পাপুয়া নিউগিনি তাইওয়ানের সাথে তাদের অর্থনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করে দেয়, যার প্রশংসা করেছিল বেইজিং। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যদিও গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেছিলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কেবল পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ, কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়। এটি মূলত পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’।